খাগড়াছড়ি, , শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮

১৮ হাজার ৩৭২ কোটি টাকার প্রকল্প একনেকে অনুমোদন

প্রকাশ: ২০১৮-০৬-২১ ২০:৪৮:৪৩ || আপডেট: ২০১৮-০৬-২১ ২০:৪৮:৪৩

অনলাইন ডেস্ক: দেশে ই-পাসপোর্ট চালু করা, পদ্মাসেতু প্রকল্পে নদী শাসনে ভূমি অধিগ্রহণে ব্যয় বৃদ্ধিসহ ১৫ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। ই-পাসপোর্টের জন্য ডেমোগ্রাফিক তথ্য, দশ আঙুলের ছাপ, চোখের কর্নিয়ার ছবি এবং ডিজিটাল স্বাক্ষর সংগ্রহ করে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ডাটা সেন্টার ও ডিজাস্টার রিকভারি সেন্টারের সার্ভারে সংরক্ষণ করা হবে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক বৈঠকে ১৮ হাজার ৩৭২ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পগুলো অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে ৬টি সংশোধিত প্রকল্প রয়েছে। সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের প্রকল্পগুলোর বিষয়ে অবহিত করেন।
সভায় জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকার ২০১০ সালের পহেলা এপ্রিল মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) ও মেশিন রিডেবল ভিসা (এমআরভি) চালু করে। কিন্তু এমআরপি ব্যবস্থায় পাসপোর্টের জালিয়াতির সম্ভাবনা রয়ে যায়। বিশেষ করে দশ আঙুলের ছাপ ডাটাবেজে সংরক্ষণ না থাকার সুযোগে এই সিস্টেমটির দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে একাধিক পাসপোর্ট করার প্রবণতা ধরা পড়ে। ফলে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রমটি চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য একনেক সভায় ৪ হাজার ৬৩৫ কোটি ৯১ লাখ টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট ও স্বয়ংক্রিয় বর্ডার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রবর্তন শীর্ষক প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এটি চলতি অর্থবছর শুরু হয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদে বাস্তবায়ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সভায় জানানো হয়েছে, এই প্রকল্পের আওতায় ২০ লাখ ই-পাসপোর্ট বুকলেট সরাসরি আমদানি এবং ২ কোটি ৮০ লাখ দেশে উৎপাদন করা হবে।
পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, সভায় পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্পে অতিরিক্ত ভূমি অধিগ্রহণে বাড়তি ১৪শ কোটি টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পে নদী শাসনের জন্য অতিরিক্ত ১ হাজার ১৬২ দশমিক ৬৭ হেক্টর ভূমি প্রয়োজন হবে। সভায় জানানো হয়েছে, পদ্মা সেতু প্রকল্পের ডিজাইন পর্যায় হতে বাস্তবায়ন পর্যায় পর্যন্ত সময়ে নদীর গতি-প্রকৃতি পরিবর্তন হয়েছে। মূল ডিজাইনে চিহ্নিত স্থানগুলো পলি জমে ভরাট হয়ে যায় এবং এর ফলে জমির মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়। জমির মালিকগণ ভরাট জমিতে বসতি স্থাপন এবং চাষাবাদ শুরু করে। এজন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মূল ডিজাইনে চিহ্নিত জায়গায় ড্রেজিংএর মাটি ফেলতে পারছে না। এজন্য নতুন করে ভূমি অধিগ্রহণ এবং জমি ভাড়া নিতে এই বাড়তি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেছেন, হাওর এলাকায় আগামীতে যেসব রাস্তা তৈরি হবে সেগুলো এলিভেটেড করতে হবে বলে প্রধানমন্ত্রী একনেকে নির্দেশনা দিয়েছেন। যাতে নিচ দিয়ে নৌকা বা সাম্পান চলতে পারে। উপর দিয়ে রাস্তা থাকবে। তাহলে আলাদা করে ব্রিজ করতে হবে না। এক খরচেই সব কাজ হবে।
সভায় ৬১১ কোটি টাকা ব্যয়ে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন (১ম সংশোধিত) প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সভায় জানানো হয়েছে প্রকল্পটির ২৭৫ কোটি ৪৪ লাখ টাকায় শেষ করার লক্ষ্য থাকলেও অতিরিক্ত জমি অধিগ্রহণ, ভূমি উন্নয়ন, পূর্ত কাজের ব্যয় বৃদ্ধি, আসবাবপত্র ও যন্ত্রপাতি ইত্যাদির ব্যয় বৃদ্ধির কারণে প্রকল্পটির ব্যয় বেড়েছে।
সভায় ২৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে দেশব্যাপী ডিজিটাল টেরিস্ট্রিয়াল সম্প্রচার প্রবর্তন (১ম পর্যায়) প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) মাধ্যমে ডিজিটাল টেরিস্ট্রিয়াল টেলিভিশন ব্রডকাস্টিং পদ্ধতিতে সম্প্রচার করা হবে, একটি ট্রান্সমিটারের মাধ্যমে একাধিক অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা, অনুষ্ঠান ও সংবাদ সম্প্রচারের গুণগত মান বৃদ্ধি করার লক্ষ্য রয়েছে।
সভায় ৬৬৩ কোটি টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় নির্বাচিত পোল্ডার সমূহে পানি ও উৎপাদনশীল খাতে সমন্বিত ও টেকসই উন্নয়ন প্রকল্পের ১ম সংশোধনী অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে নেদারল্যান্ড সরকারের কাছ থেকে ৫১৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা পাওয়া যাবে। এছাড়া ৯৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ২১টি জেলার সুবিধাবঞ্চিত নারী ও শিশুর প্রাথমিক স্বাস্থ্য, প্রজনন স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেবা প্রদান প্রকল্প, ৩৫১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনার একটি প্রকল্প, ১৬৭ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে লোকাল গর্ভমেন্ট ইনিশিয়েটিভ অন ক্লাইমেট চেঞ্জ শীর্ষক প্রকল্প, ৩ হাজার ২৭৩ কোটি টাকা ব্যয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ট্রান্সমিশন গ্রিড সম্প্রসারণ প্রকল্প, ৯৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ডিপিডিসির আওতায় ঢাকার কাওরানবাজারে ভূ-গর্ভস্থ উপকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প, ৬৫২ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ব্যয়ে লং টার্ম সার্ভিস এগ্রিমেন্ট ফর ভেড়ামারা কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্ল্যান্ট প্রকল্প, ১ হাজার ৮১৯ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে লাকসাম এবং চিনকী আস্তনার মধ্যে ডাবল লাইন ট্র্যাক নির্মাণ (৩য় সংশোধিত) প্রকল্প, ২ হাজার ১৭৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে সিগন্যালিংসহ টংগী-ভৈরববাজার সেকশনে ডাবল লাইন নির্মাণ প্রকল্প (৩য় সংশোধিত), ৮৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম সড়ক নির্মাণ (১ম সংশোধিত) প্রকল্প, এবং ৪৪৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের জন্য লজিস্টিকস ও ফ্লীট মেইনটেন্যান্স ফ্যাসিলিটিস গড়ে তোলা প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

পূর্বের সংবাদ

December 2018
M T W T F S S
« Nov    
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  

এই সপ্তাহের আলোকিত পাহাড় প্রথম পাতা

এই সপ্তাহের আলোকিত পাহাড় শেষ পাতা

বিজ্ঞাপন