চট্টগ্রাম, , শনিবার, ২১ এপ্রিল ২০১৮

১৫ ডিসেম্বর খাগড়াছড়ি হানাদারমুক্ত দিবস; মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কর্মসূচী

প্রকাশ: ২০১৬-১২-১৩ ১৬:৩৫:৪২ || আপডেট: ২০১৬-১২-১৩ ১৬:৪২:২২

%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%b0নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৫ ডিসেম্বর খাগড়াছড়ি হানাদারমুক্ত দিবস। প্রাকৃতিক সৌন্দয্যের লীলাভূমি খাগড়াছড়ি হানাদারমুক্ত হয়েছিল ১৯৭১ সালের এই দিনে।

পাহাড়ী জনপদে বসবাস করা সকল সম্প্রদায়ের লোক নির্বিশেষে অংশ গ্রহণ করেছিল মহান মুক্তিযুদ্ধে। সর্বশেষ খাগড়াাছড়ির সদর উপজেলার ভাইবোনছড়ায় ফাইটিং পেট্রোল পার্টি ১৪ ডিসেম্বর গাছবান এলাকায় মিজো ও হানাদারদের সাথে প্রচন্ড সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে টিকতে না পেরে মিজোরা গহীন পাহাড়ের দিকে পিছু হটে। মিজোদের হটানোর মাধ্যমেই স্বাধীন বাংলাদেশের পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি পাক হানাদার মুক্ত হয়।

১৯৭১ সালের ১৫ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১০টায় খাগড়াছড়ির তৎকালীন এসডিও অফিসের সবচেয়ে উঁচু স্থানে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার লাল সবুজের পতাকা উত্তোলন করা হয়। তারও আগে ২৭ এপ্রিল মুক্তিযোদ্ধা ও পাক হানাদারদের সম্মুখযুদ্ধ সংগঠিত হয় মহালছড়ির বিভিন্ন স্থানে। মুক্তিযোদ্ধারা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সমর্থ হয়েছিল কিন্তু পাক হানাদাররা স্থানীয় রাজাকারদের সহযোগিতায় প্রবল আক্রমন করলে মুক্তিযোদ্ধারা পিছিয়ে যান। অনেকে ভারতে আশ্রয় নেন। মিজো উপজাতীয়রাও পাক হানাদারদের পাশে থেকে মুক্তিকামী পাহাড়ী আদিবাসী ও বাঙ্গালিদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় বলে জানান স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা।

সেদিনের সম্মুখযুদ্ধ সম্পর্কে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রইছ উদ্দিন বলেন,  মহালছড়িতে পাক সেনাদের সাথে সম্মুখ যুদ্ধে ক্যাপ্টেন আফতাবুল কাদেরসহ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। মুক্তিযোদ্ধারা তাকে রামগড় পাঠানোর ব্যবস্থা করলে পথিমধ্যে ক্যাপ্টেন আফতাবুল কাদের মারা যান। এছাড়া পাক হানাদাররা বিভিন্ন স্থান থেকে লোক ধরে এনে মহালছড়িতে হত্যা করে। তেলেনভাংগা. টিএন্ডটি টিলা,কার্রারী টিলায় বহু লোককে মেরেছে বলে শুনেছি।

তিনি আরো বলেন, সরকার আন্তরিক হলে মহালছড়ি এলাকায় বধ্যভুমিও আবিস্কার করতে পারে। মহালছড়ি, রামগড়সহ জেলার বিভিন্ন স্থানে সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হন ক্যাপ্টেন আফতাবুল কাদেরসহ অসংখ্য মুক্তিকামী মানুষ। ব্যাপক ধংযজ্ঞের কারণে বেশীরভাগ মানুষ ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। কিন্তু থেকে যেতে চেয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতাকারী অনেককেই। কিন্তু তাতেই  কাল হয় মহালছড়ির চিত্তরঞ্জন চাকমাসহ ৪ পাহাড়ীর ভাগ্য। তাদেরকে তেলেঙতাংগা এলাকায় এনে ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা করা হয়।  এছাড়া জেলার রামগড়সহ বিভিন্ন এলাকায় অনেকে শহীদ হন পাক বাহিনীর হাতে।

এদিকে খাগড়াছড়ি হানাদারমুক্ত দিবস  পালন উপলক্ষে ১৫ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার সময়  খাগড়াছড়ি মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এর উদ্যেগে র‌্যালী ও আলোচনা সভা এবং শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া মাফফিলের আয়োজন করা হয়েছে। । খাগড়াছড়ি জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রইছ উদ্দিন হানাদার মুক্তদিবস যথাযথ ভাবে পালন করার জন্য খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন, জেলার সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডসহ সকল শ্রেণী পেশার মানুষকে র‌্যালী , আলোচনা সভা ও দোয়া মাফফিলে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করেছেন।

Leave a Reply

আরকাইভস

April 2018
M T W T F S S
« Mar    
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
30  

সাপ্তাহিক

বিজ্ঞাপন

error: Content is protected !!