খাগড়াছড়ি, , শুক্রবার, ১৮ জানুয়ারী ২০১৯

সবুজ পাহাড়ে তামাক আগ্রাসন; ধ্বংসের পথে পার্বত্যাঞ্চল

প্রকাশ: ২০১৭-০২-১৫ ১৪:৫২:২৩ || আপডেট: ২০১৭-০২-১৫ ১৪:৫২:২৩

দীঘিনালা প্রতিনিধি: কথিত তামাক চক্রের দালালের খপ্পরে পড়েছে সবুজ পাহাড়। ছোট বড় গাছ কেটে সবুজ বনাঞ্চল ধ্বংস করছে তামাক সিন্ডিকেট চক্রের দালালেরা। বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কর্তন করা হচ্ছে এসব গাছ।  প্রতিদিন হাজার হাজার মন কাঠ গাছ কেটে ট্রলি ও চাঁদের গাড়িতে করে প্রশাসনের নাকের ডগার সামনে দিয়ে পৌছে দেওয়া হচ্ছে প্রতিটি তামাক চুল্লীর দুয়ারে দুয়ারে। প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংসে প্রশাসনের এহেন নিরবতায় জনমনে দেখা দিয়েছে নানান প্রশ্ন।

উপজেলার মেরুং, দীঘিনালা, কবাখালী, বাবুছড়া এলাকার তামাক চুল্লীর সামনে গেলেই নজরে পড়বে সাজিয়ে রাখা হয়েছে এসব গাছ।

সুশীল সমাজের লোকজন মনে করেন এভাবে প্রতিদিন বনাঞ্চল ধ্বংস হতে থাকলে পতিত ভূমিতে পরিণত হবে পাহাড়ি বনাঞ্চল। এছাড়াও চরম হুমকিতে পড়ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীব বৈচিত্র। একদিকে বনের জীব-জন্তু, পশু-পাখি যেমন তাদের আবাসস্থল হারাচ্ছে তেমন বিলীনও হচ্ছে। বিশেষ করে এসব বনাঞ্চলে আগে হরিণ দেখা গেলেও এখন তা নাই বললেই চলে।

দীঘিনালার মেরুং ইউপির তামাক চাষি মোঃ মনির বলেন, “আমাদের ৪০ শতক জায়গার তামাকের পাতা পুড়াতে প্রায় ৯০-১০০ মণ গাছ প্রয়োজন। প্রতিমণ গাছ আমরা ৭৫-৮০ টাকা করে দালালের কাছ থেকে কিনে নেই। এ বছর আমাদের প্রায় ১০০০ এর বেশি মণ গাছ প্রয়োজন হবে”।

দীঘিনালা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় প্রায় ৭০০টি তামাক চুল্লী রয়েছে। আর এই তামাক চুল্লীগুলোর একমাত্র জ¦ালানী হল কাঠ গাছ। শুধু এ উপজেলাতে প্রায় ১,২২,৫১২ (এক লক্ষ বাইশ হাজার পাঁচশত বার) শতক জমিতে তামাক চাষ করা হচ্ছে। যার পাতা জ¦ালানী হিসেবে প্রায় ২,৭৫,০০০ (দুই লক্ষ পঁচাত্তর হাজার) মন কাঠ প্রয়োজন হবে বলে জানা গেছে। এই লক্ষ লক্ষ মণ কাঠ গাছ সংগ্রহের একমাত্র উৎস হল সবুজ পাহাড়।

এর এক সমীক্ষায় দেখা যায়, এক বছরে যদি ২,৭৫,০০০ (দুই লক্ষ পঁচাত্তর হাজার) মণ কাঠ গাছ প্রয়োজন হয় তাহলে দুই বছরে কত? তিন বছরে কত? এভাবে পাঁচ বছরে দেখা যায়, প্রায় ১৩,৭৫,০০০ (তের লক্ষ পঁচাত্তর হাজার) মণ কাঠ প্রয়োজন।

এভাবে বিগত ১০ বছরে প্রায় ২৭,৫০,০০০ (সাতাশ লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) মণ কাঠ গাছ শুধু তামাক পাতা পুড়ানোর কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। এতে করে ধ্বংস হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ, ধ্বংস হচ্ছে জীব বৈচিত্র্য। আর সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি রাজস্ব আয়।

এভাবে বন উজাড় হতে থাকলে আগামী ১০ বছর পর সবুজ পাহাড়ের অবস্থা কি হবে তা ভাবাই দুস্কর। তাই যত দ্রুত সম্ভব তামাকের জ¦ালানী হিসেবে কাঠ গাছ পুড়ানো বন্ধ করে এর বিকল্প বের করে তা সরবরাহ করা দরকার বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

এ সম্পর্কে দীঘিনালা নাড়াইছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ হারুন অর রশীদ বলেন,”তামাকের পাতা পুড়াতে বন জংগল ধ্বংস করে যেভাবে কাঠ সংগ্রহ করা হচ্ছে, এভাবে হতে থাকলে এক সময় পাহাড় গাছ শূন্য হয়ে পড়বে। এটা খুবই অন্যায় হচ্ছে এবং তা পরিবেশের উপর অত্যন্ত খারাপ প্রভাব ফেলবে। তা বন্ধ করা উচিত। উপজেলা প্রশাসন এর যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারে”।

এ সম্পর্কে দীঘিনালা উপজেলা সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এলিশ শরমিন বলেন,”এ ক্ষেত্রে আমার নিজেরই খুব খারাপ লাগে যে, সাধারণ মানুষজন না বুঝে তামাক কোম্পানির প্ররোচনায় পড়ে তামাক চাষ করছে। তামাকের পাতা পুড়াতে সবুজ বনাঞ্চল ধ্বংস করছে। তারা সাময়িক লাভের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি ডেকে আনছে। কিছু সংখ্যক তামাক চাষির জন্য লক্ষ লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা নীতিনির্ধারকদের সাথে কথা বলে এর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে”।

তামাকের পাতা পুড়াতে গাছের ব্যবহার সম্পর্কে ব্রিটিশ টোব্যাকোর দীঘিনালা এরিয়ার ডিপু ম্যানেজার মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন,”আমি এখানে চাকরী করি, এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না”।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

পূর্বের সংবাদ

January 2019
M T W T F S S
« Dec    
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  

এই সপ্তাহের আলোকিত পাহাড় প্রথম পাতা

এই সপ্তাহের আলোকিত পাহাড় শেষ পাতা

বিজ্ঞাপন