খাগড়াছড়ি, , সোমবার, ২৩ এপ্রিল ২০১৮

রামগড়ে ফসলি জমিতে তামাক চাষ

প্রকাশ: ২০১৭-০১-২৭ ০৭:৫৯:২৩ || আপডেট: ২০১৭-০১-২৭ ০৭:৫৯:২৩

Tamak Ramgorসাইফুল ইসলাম,রামগড় প্রতিনিধি: খাগড়াছড়ির জেলার অন্যান্য উপজেলার মতো ক্ষতিকর তামাক চাষ গিলে খাচ্ছে রামগড়ের ফসলি আবাদি জমি। প্রতি বছর নতুন নতুন এলাকায় সম্প্রসারণ হচ্ছে এর চাষ। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের উদাসীনতা ও তামাক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নানা প্রণোদনামূলক প্যাকেজের ছদ্মাবরণে কৃষকরা প্রলুব্ধ হচ্ছে এ ক্ষতিকর তামাক চাষে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, জেলার রামগড় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপকভাবে তামাক চাষ হচ্ছে। আগে যে জমিতে ধান ও অন্যান্য ফসলের চাষ হতো সে জমিতে এখন হয় তামাক চাষ। কয়েকটি সিগারেট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কৃষকদের অগ্রিম অর্থসহ নানা সুযোগ-সুবিধা দিয়ে তামাক চাষ করানোয় এ উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে অন্যান্য ফসলি জমি মারাত্মকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। তামাক চাষে আয় বেশি হওয়ায় কৃষকরা উদ্বুদ্ধ হয়ে প্রতি বছর তামাকের ক্ষেত সম্প্রসারণ করছেন।

সরজমিন দেখা গেছে, রামগড় ১নং ইউনিয়নের দাতারামপাড়া, বৈধ্যপাড়া, লাছারীপাড়া, লক্ষীছড়া, হাজাছড়া, ওয়াছুমৌজা, ধনীরামপাড়া, মুসলিমপাড়া, নাকাপাড়া, পাতাছড়া, বড় পিলাক, ছোট পিলাক, অভ্যা মৌজা, সোনাই আগা, নলুয়াছড়ার দুর্গম বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত ফসলের পরিবর্তে তামাক চাষ হচ্ছে। এখানে তামাক পাতা পরিপূর্ণ হলেই খেতের পাশে শুকাতে বড় বড় চুল্লি স্থাপন করা হয়। কৃষক চেরু মিয়া ও থইলাপ্রæ মারমা জানান, প্রতিটি চুল্লিতে প্রতিবারে ২০০ কেজি কাঁচা পাতা শুকাতে প্রায় একশ’র মতো কাঠ প্রয়োজন হয়। পাহাড়ে টিলা ভূমি থেকে সংগৃহীত এসব কাঠ প্রতি মণ ৭০ টাকায় তারা ক্রয় করে পাতা শুকান।

তামাক চাষিদের মধ্যে মিলন মোল্লা, তৈমং মারমা ও মংপ্রæচাই ত্রিপুরা জানান, সিগারেট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ব্রিটিশ আমেরিকা টোব্যাকো কোম্পানি, আকিজ বিড়ি কোম্পানি, ঢাকা টোব্যাকো ও আবুল খায়ের গ্রুপের স্থানীয় প্রতিনিধিরা সার, বীজ, কিটনাশকসহ সব বিষয়ে কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা করেন। অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হওয়ায় কৃষকরা প্রতি বছর নতুন করে তামাক চাষে ঝুঁকছেন। তারা জানান, প্রতি কানি জমি বাবদ (৪০ শতাংশ) ৫ হাজার টাকা করে দেয়া হচ্ছে।

রামগড় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের সদস্য নাসির উদ্দিন চৌধুরী তামাক চাষের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তামাকের আগ্রাসন বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামের ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি করছে। কৃষকরা এর অপকারিতা সম্পর্কে ভালোভাবে অবগত নন। তামাক চাষে মাটির উর্বর শক্তি নষ্ট হয়ে যায়। পরপর কয়েকবার তামাক চাষ হয় এ ধরনের জমিতে অন্য ফসল ভালো হয় না। কতিপয় অসাধু লোক নিরীহ কৃষকদের মোটা অংকের আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে ধানের জমিতে তামাক চাষ করাচ্ছে। ক্ষতিকর আবাদ থেকে কৃষকরা যেন মূল চাষে ফিরে আসে সে চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

রামগড় কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. জুলফিকার আলী ফিরোজ বলেন, তামাকের জমিতে ভবিষ্যতে স্বাভাবিক উৎপাদন হয় না। কৃষক যদি এর ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জানতেন কখনই এ সর্বনাশা কাজ করতেন না। পাহাড়ের দুর্গম ফসলি জমিতে তামাকের চাষ বেশি হওয়ায় স্থানীয় উপজাতি নেতাদের সহযোগিতায় এটি বন্ধে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

রামগড়ের পরিবেশবাদী ডা. আবদুল জলিল বলেন, ক্ষতিকর তামাক চাষে লাভ বেশি হওয়াতে কৃষকদের এ কাজ থেকে ফেরাতে সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ও বন বিভাগের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. বিজয় মজুমদার জানান, তামাকের চাষ থেকে শুরু করে পাতা শুকানো পর্যন্ত নিয়োজিত শ্রমিকরা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকেন। তামাক চুল্লিতে কাজ করে এমন শিশু ও নারীরা শ্বাসকষ্ট জনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তামাকের ক্ষতিকর নিকোটিনের বিরূপ প্রতিক্রিয়ায় তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন।

Leave a Reply

আরকাইভস

April 2018
M T W T F S S
« Mar    
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
30  

এই সপ্তাহের আলোকিত পাহাড় ১ম পাতা

এই সপ্তাহের আলোকিত পাহাড় শেষ পাতা

বিজ্ঞাপন

error: Content is protected !!