খাগড়াছড়ি, , বুধবার, ২৩ জানুয়ারী ২০১৯

রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের জমি অধিগ্রহণ নিয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

প্রকাশ: ২০১৭-০২-০৬ ১৫:০৫:৫৬ || আপডেট: ২০১৭-০২-০৬ ১৫:০৫:৫৬

মোঃ নুরুল আমিন,রাঙামাটি: রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের জমি অধিগ্রহণ নিয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রোববার দিকে শহরের সুখী নীলগঞ্জের হ্যাচারি এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সুত্র জানায়, জমিটি পরিমাপকালে নিজেদের উচ্ছেদের আশংকায় এলাকায় বসবাসকারী লোকজন আপত্তি জানায়। এতে পুলিশ বাধা দেয়ায় উভয়ের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। উত্তেজনার এক পর্যায়ে পরে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের করনারি ভবনে অস্থায়ী ক্যাম্পাসে শুরু হয় রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের শ্রেণী কার্যক্রম। মেডিকেল কলেজটির স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপনের জন্য ওই এলাকায় প্রায় ২৬ একর জায়গা অধিগ্রহণ করে সরকার।
সংশ্লিষ্টরা জানান, জায়গাটি সরকারের মৎস্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ক্রয়কৃত। তবে এটি দীর্ঘদিন পতিত অবস্থায় ছিল। এ অবস্থায় মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাস স্থাপনের জন্য অধিগ্রহণ করা হয় জায়গাটি। এজন্য স্বাস্থ্য বিভাগকে হস্তান্তর করতে জায়গাটি পরিমাপ করতে যায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের একটি টিম। এতে উপস্থিত ছিলেন, রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. টিপু সুলতান, জেলা প্রশাসনের রেভিনিউ কালেক্টর অলি-উজ্জামান, রাঙামাটি কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রশীদসহ ভূমি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ সময় উচ্ছেদের আশংকায় আপত্তি জানান, সংশ্লিষ্ট এলাকায় বসবাসকারী লোকজন। এতে পুলিশ বাধা দেয়ায় উভয়ের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল গিয়ে হাজির হলে পরিস্থিতি প্রশমিত হয়।
এদিকে এলাকাবাসীর পক্ষে দাবি করে বলা হয়, অধিগ্রহণ করা জায়গায় স্থানীয়দের অনেক জমি ও আশেপাশের বাড়িঘর রয়েছে। যেগুলো সরকার মেডিকেল কলেজ নির্মাণের নামে জোরপূর্বক দখল ও উচ্ছেদের পায়তারা করছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান জানান, রোববার সকালে মেডিকেল কলেজের জমি পরিমাপ করতে গেলে খাসজমিতে বসবাসকারী কিছু গ্রামবাসী পরিমাপকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা চালায়। পরে তা শান্ত হয়।
রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ টিপু সুলতান বলেন, মেডিকেল কলেজের ভূমি অধিগ্রহণ কমিটিকে এলাকার কিছু লোকজন পরিমাপ কাজে বাধা দিতে আসে। পরে কথাবার্তার মাধ্যমে তা সমঝোতা হয়। সুখী নীলগঞ্জ এলাকায় মেডিকেল কলেজের জন্য প্রায় ২৬ একর জমি অধিগ্রহন করে সরকার। জমির প্রকৃত মালিক মৎস্য অধিদফতর। জায়গাটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণায়লকে হস্তান্তর করে মৎস্য মন্ত্রণালয়। কাগজপত্র বুঝিয়ে দিয়েছে তারা।
কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রশীদ জানান, মেডিকেল কলেজের ভূমি অধিগ্রহণ নিয়ে  গ্রামবাসীর সঙ্গে কমিটির কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়। এতে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে এলাকার লোকজন উত্তেজিত হয়। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

পূর্বের সংবাদ

January 2019
M T W T F S S
« Dec    
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  

এই সপ্তাহের আলোকিত পাহাড় প্রথম পাতা

এই সপ্তাহের আলোকিত পাহাড় শেষ পাতা

বিজ্ঞাপন