খাগড়াছড়ি, , বুধবার, ১৬ জুন ২০২১

কাউখালী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বর পরিচ্ছন্ন রাখার শপথ অপরাজিতার

প্রকাশ: ২০২০-০৮-১৬ ১৮:৪৪:৩০ || আপডেট: ২০২০-০৮-১৬ ১৮:৪৪:৩২

মো: ইউসুফ: রাঙ্গামাটি জেলার কাউখালী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বর পরিচ্ছন্ন রাখার শপথ অপরাজিতার। আগস্ট মাস বাঙালি জাতির শোক ও আত্মত্যাগের মহান অনুভূতিকে জাগ্রত করে। বিশেষ বিশেষ দিনগুলো ছাড়া আমাদের জাতীয় অর্জনগুলো সবসময়ই উপেক্ষিত এবং বিশেষ নজরদারির অভাবে অনেকটাই মলিন হয়ে যায়। বাঙালি জাতির মহান আত্মত্যাগের ইতিহাস বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টির পাশাপাশি দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদ জাগ্রত করতে সক্ষম হলেও আমাদের মধ্যে হয়তো সেভাবে ছাপ রেখে যেতে পারেনি।

১৫ আগস্ট আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেছি আমাদের স্বাধীনতার মহান স্থপতি ও কালজয়ী সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সকল সদস্যদের। তবে আমরা ঠিকই ভুলতে বসেছি ৫২ সালে আমাদের মাতৃভাষার জন্য বুকের তাজা রক্ত দিয়ে রাজপথ রঞ্জিত করা সেই দামাল সন্তানদের ও তাঁদের আত্মাহুতি। ভাষা শহীদদের স্মরণে নির্মিত শহীদ মিনারগুলো তাই মহান ফেব্রুয়ারি ছাড়া অযত্ন অবহেলায় নিজের গুরুত্ব হারায়।

কাউখালী উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বর অনেকদিনের ধুলোবালি জমে অপরিচ্ছন্ন ও চারিপাশে আগাছা জন্মে অনেকটা পরিত্যক্ত স্থাপনার মত দেখাচ্ছিল। গতকাল ১৫ আগস্ট ব্যাপারটি নজর এড়িয়ে যেতে পারেনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শতরূপা তালুকদারের। তিনি বিষয়টির গুরুত্ব তুলে ধরেন সদ্য আত্মপ্রকাশিত জীবন কাউখালী চ্যাপটারের স্বেচ্ছাসেবীদের কাছে যার ফলশ্রুতিতে আজ অপরাজিতার সদস্যরা জীবন কাউখালী চ্যাপটারের সদস্যদের সহযোগিতায় শহীদ মিনার চত্বর ও তার চারিপাশে পরিচ্ছন্নতার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

কাউখালী অপরাজিতার সমন্বয়ক সুইওয়ংচিং মারমা জানান, আমরা নারীদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি ও জীবনমান উন্নয়নের জন্য কাজ করার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় সকল স্থাপনার যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্য নিশ্চিতকরণে বদ্ধপরিকর। আমাদের চোখের সামনেই অযত্ন অবহেলায় কোন স্থাপনা তার গুরুত্ব হারাবে সেটা আমরা মেনে নিতে পারিনা। তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শতরূপা তালুকদার স্যারের নির্দেশে আমরা অপরাজিতা টীম শহীদ মিনার কমপ্লেক্সে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করি যাতে আমাদের সার্বিকভাবে জীবন কাউখালী চ্যাপটার সহযোগিতা করেছে। ভবিষ্যতে কাউখালী উপজেলায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অবদান রাখবে অপরাজিতা এমনটাই বিশ্বাস করেন কাউখালী উপজেলার এই তরুণ সংগঠক। জীবন কাউখালী চ্যাপটার এর সমন্বয়ক উচাইথিন মারমা থিন জানান, অপরাজিতা পার্বত্যাঞ্চলে যেভাবে নারীদের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রা নিশ্চিতে কাজ করছে, আমরা আশাবাদী কাউখালীতেও এর ব্যতিক্রম হবেনা। আমরা সবসময় এই মহতী উদ্যোগের পাশে আছি। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই স্বেচ্ছাসেবী সকল কার্যক্রমের বিস্তার। অপরাজিতা খুবই স্বল্প সময়ে পাহাড়ের নারীদের সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.