খাগড়াছড়ি, , বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১

অবশেষে পাহাড়েও স্কুল খুলেছে

প্রকাশ: ২০২১-০৯-১৩ ১৫:৩৮:৫৯ || আপডেট: ২০২১-০৯-১৩ ১৫:৩৯:০৬

আবদুর রশিদ, নাইক্ষ্যংছড়িঃ অবশেষে পাহাড়েও স্কুল খুলেছে। শিক্ষাথীর্দের কলতানে মূখর পার্বত্য বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দেড় শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। করোনা সংক্রমন রোধকল্পে ১৭ মাস বন্ধ থাকার পর রোববার সকালে খোলা হয়েছে পার্বত্য নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সবস্তরের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্টান। সকাল থেকে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্টানে ঘন্টা বেল বেজেছে আগের মতোই। উপজেলার প্রাথমিক স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্টানে তদারকি বেশী পরিলক্ষিত হয়েছে। তবে সর্ব ক্ষেত্রে- সব প্রতিষ্টানের শিক্ষাথীর্দের পদভারে প্রাণ ফিরে পেয়েছে পাহাড়ে ঝিমিয়ে পড়া এ প্রতিষ্টান গুলো। দেখা গেছে, অভিভাবকরাও জেগেছে সন্তানদের পাশাপাশি।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানান,সকালে ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসেছে। বেশ ক’টি শিক্ষা প্রতিষ্টানে করোনা সংক্রমন রোধের বিধি নিষেধ শতভাগ পালন হয়নি।

শিক্ষা কর্মকর্তারা জানান, স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিধি-বিধান মানার বিষয়ে ক্লাসের ভেতরের পরিস্থিতি ভালো। শতভাগ শিক্ষার্থী স্বাস্থ্যবিধি মেনেছে শ্রেণি কাযর্ক্রমে অংশ গ্রহনকালে। এছাড়া প্রতিষ্টানের রুটিন অনুযায়ী, শ্রেণী পাঠদান শুরু হয়েছে যথারীতি। শ্রেণী পাঠদান শুরুর আগেই শিক্ষার্থীদের ফুল ও চকলেট দিয়ে বরণ করেছেন শিক্ষকরা।

শিক্ষা অফিস সূত্র জানান, পাহাড়ি-বাঙ্গালীর সম্প্রীতির উপজেলা এ নাইক্ষ্যংছড়ি। এ উপজেলায় উচ্চ মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও প্রাথমিকস্তরের শিক্ষা প্রতিষ্টান রয়েছে শতাধিক। এ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা খুশিতে আত্মহারা রোববার খোলার দিন । কেননা এ দিন স্কুল খুলেছে,ঘন্টাবেল আবারো বাজেছে ঠিক আগের মতো। পাশাপাশি শিক্ষকদের মাঝেও উৎসব-উৎসব ভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। শিক্ষকরা জানান, স্কুল খোলার পর যেন ক্ষুদে বন্ধুদের সাক্ষাৎ হলো আজ। এ কারণে দীর্ঘ ১৭ মাস পর স্কুল খোলায় তাদের মনে খুবই আনন্দ।

পাহাড়ি জনপদ পশ্চিমকূল তুমরু সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিন বলেন, সরকার ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের নির্দেশ অনুসারে প্রতিষ্টান খুলেছেন তিনি। শিক্ষার্থীদের সকালে বরণ করা হয়েছে ফুল ও চকলেট দিয়ে। তিনি আরো বলেন, তার স্কুলে শিক্ষার্থী রয়েছে ২শত ৫ জন। প্রথম দিন রুটিন অনুসারে প্রায় শিক্ষাথী উপস্থিত ছিলো। প্রতিটি শিক্ষার্থীকে স্কুল খোলার বিষয়টি পূর্বে জানানোর কারণ এ সূফল পেয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, তার সফলতা পাওয়ার কারণ হলো অভিভাবক সমাবেশ করা হয়েছে ২ দফা।

এদিকে মাধ্যমিক,উচ্চ মাধ্যমিক ও প্রাথমিকস্থরের শিক্ষার্থী যথাক্রমে উথাইলে মার্মা,রিপন বড়ুয়া,উছালা চাক, আকিল বিন আমান ও তারিন শরমিন সহ অসংখ্য শিক্ষার্থী এ প্রতিবেদককে বলেন, ১৭ মাস পর স্কুল খোলার পর তাদের কাছে অন্য রকম অনুভূতি সৃষ্ট হয়েছে। ঈদ ঈদ ভাব এ স্কুল খোলার এ দিনে। তারা আরো বলেন, তারা খুশিতে আত্মহারা। কেননা তাদের ক্লাসের দিন সব বন্ধুদের সাথে দেখা হয়েছে ।

অভিভাবক মোহামাদ ইউনুছ প্রতিক্রিয়ায় জানান, অনেক দিন পর সন্তানদের বিষয়ে দূ:চিন্তা দূর হলো। কেননা স্কুল খুলেছে। করোনার সংক্রমণ বিস্তার রোধে দীর্ঘ দেড় বছর ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলায তারা বেজায় খুশি।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ত্রিরতন চাকমা বলেন নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে- ৫৬ টি। আর বেসরকারী প্রতিষ্টান রয়েছে-১১ টি। সরকার নির্দেশিত রিপিঅারিং প্লান অনুসারে পূর্ব থেকে সমস্যা গুলো চিহ্নিত করে সমাধান করা হয়েছে। এ জন্য ১২ সেপ্টেম্বর স্কুল খোলার দিন সরকার নির্দেশিত মতে প্রতিষ্টান খোলা হয়েছে। এছাড়া কোভিট-১৯ সংক্রান্ত বিধি-নিষেধ মেনে শিক্ষক-শিক্ষার্ধী ক্লাসে অংশ নিয়েছে সব প্রতিষ্টানে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সালমা ফেরদৌস বলেন, স্কুল খোলার দিন তিনি পূর্ব সিদ্ধান্ত মতে উপজেলার বেশ ক’টি শিক্ষা প্রতিষ্টান পরিদর্শন করেছেন তিনি। মনিটরিং ব্যবস্থা করা হয় ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!