খাগড়াছড়ি, , শনিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২২

নাইক্ষ্যংছড়িতে মাদক কারবারিদের গুলিতে ডিজিএফআই এক কর্মকর্তাসহ নিহত ২, আহত অনেকে; কড়া নিরাপত্তায় তুমব্রু

প্রকাশ: ২০২২-১১-১৫ ২২:০৪:০১ || আপডেট: ২০২২-১১-১৫ ২২:০৪:০৬

আবদুর রশিদ, নাইক্ষংছড়ি প্রতিনিধি: মিয়ানমার সীমান্তবর্তী পার্বত্য বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু কোনারপাড়া পয়েন্টে একদল মাদক কারবারি সন্ত্রাসীদের হামলায় ও গুলাগুলিতে বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের একজন কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। তার নাম রিজওয়ান রুশদী। তিনি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর অফিসার ডিজিএফআইয়ের কর্মকর্তা (স্কোয়াড্রন লিডার) হিসেবে কর্মরত ছিলেন । এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এলিট ফোর্স র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) অপর এক সদস্য। এছাড়া এক রোহিংগা নারী নিহত সহ আহত হয়েছে অনেকে। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু খাল ঘেঁষা কোনারপাড়া সীমান্তের শূন্যরেখা সংলগ্ন এলাকায়। অভিযানে অংশ নেন র‍্যাব ও ডিজিএফআইয়ের চৌকস একটি দল। ঘটনার পর তুমব্রুর পরিস্থিতি থমথমে। নিরাপত্তা বলয়ে পুরো এলাকা। বহিরাগতদের যাতায়াতে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

এ নিয়ে সোমবার রাত ১২ টার পরপর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মাদক চোরাচালানকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ চলাকালে মাদক চোরাচালানকারীদের গুলিতে দায়িত্বরত অবস্থায় ডিজিএফআইয়ের একজন কর্মকর্তা (বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর কর্মকর্তা) দেশের জন্য আত্মত্যাগ করে শহীদ হন। এছাড়া র‍্যাবের এক সদস্য আহত হয়েছেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তিটি পাঠান সংস্থাটি পরিচালকের পক্ষে সহকারী পরিচালক রাশেদুল ইসলাম খান।

এদিকে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. জাহাঙ্গীর এই প্রতিনিধিকে বলেন, “র‍্যাবের একটি দল সেখানে মাদক উদ্ধারে অভিযান পরিচালনার সময় সশস্ত্র দুষ্কৃতিকারীরা তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে। আহত র‍্যাব কনস্টেবল সোহেল বড়ুয়াকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়ার হলে সেখান থেকে রাতেই তাঁকে চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে তুমব্রু সীমান্ত থেকে কোনো অপরাধী যাতে তৎসংলগ্ন উখিয়ার ক্যাম্পগুলোতে প্রবেশ করতে না পারে সে ব্যাপারে সতকর্তা বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন-৮) সহকারী পুলিশ সুপার মো. ফারুক আহমেদ।

অপর দিকে তুমব্রু বাজার ব্যবসায়ী আবদুল কাদের, গ্রাম পুলিশ আবদুল জাবব্বার ও মেম্বার দীল মোহাম্মদ এ প্রতিবেদককে জানান, তুমব্রু কোনার পাড়ায় গোলাগুলি ও হতাহতের ঘটনার পর থমথম পরিস্থিতি বিরাজ করছে। রাতভর স্থানীয়রা নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন। ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদ, বিজিবি, আর্মড পুলিশসহ আইন শৃংখলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা বাহিনী নিরাপত্তা বলয় জোরদার করেছে। বহিরাগত লোকজন সীমান্তে যেতে নিশেধ করা হচ্ছে। কারণ সীমান্ত পরিস্থিতি উত্তপ্ত।

ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাহাঙ্গির আজিজ ঘটনার কথা স্বীকার করেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সালমা ফেরদৌস বলেন, মাদককারবারীদের সাথে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘঠিত ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবধরণের সহায়ক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

স্থানীয় ইউনিয় পরিষদ ও অন্যান্য বাহিনী ঘটনাস্থলে রয়েছেন। বিজিবি টহল জোরদার করা হয়েছে। সর্তক সীমান্তরক্ষীসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.