খাগড়াছড়ি, , বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯

প্রথমে গণধর্ষণ এবং পরে গলাটিপে হত্যা

প্রকাশ: ২০১৯-০১-১২ ২১:১৪:২৩ || আপডেট: ২০১৯-০১-১২ ২১:১৪:২৮

মোঃ শরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া আসাদ, খাগড়াছড়ি: খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার হাফছড়ি ইউনিয়ন মহিলা আলীগের সভানেত্রী ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যা ফাতেমা বেগমকে (৫০) গণধর্ষণের পর গলাটিপে হত্যা করার কথা স্বীকার করে আদালতে জবান বন্দি দিয়েছে জাহাঙ্গীর আলম (৪৫) নামে এক ব্যক্তি।বৃহস্পতিবার (১০ জানুয়ারি) রাতে রামগড় থানা পুলিশ তাকে মাটিরাঙ্গা থেকে গ্রেফতার করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করার পর পর দিন শুক্রবার বিকালে খাগড়াছড়ির সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো: মোরশেদুল আলমের আদালতে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবান বন্দি দেন। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী পুলিশ শুক্রবার (১১ জানুয়ারি) নজরুল ইসলাম প্রকাশ নাজিম (২৮) নামে আরেক আসামিকে গ্রেফতার করেছে।

গত ২৪ ডিসেম্বর রামগড়ের মাহবুব নগর এলাকা থেকে ফাতেমা বেগমের (৫০) অর্ধ গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি স্বামী পরিত্যক্তা ও দুই সন্তানের জননী। এ ব্যাপারে ২৫ ডিসেম্বর রামগড় থানায় ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় একটি মামলা (নম্বর-৫) রজু করা হয়।

পুলিশজানায়, গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধমে বৃহ¯পতিবার রাতে মাটিরাঙ্গার কাজী পাড়া থেকে জাহাঙ্গীর আলমকে আটক করে পুলিশ। তিনি মাটিরাঙ্গার তবলছড়ি ইউনিয়নের বড়বিল মুসলিম পাড়া গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক এবং পেশায় বিদ্যু ৎলাইন স্থাপন কাজের শ্রমিক। খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদ্য পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত) এমএম সালাহ উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ দল তাকে গ্রেফতার করে। পুলিশের ঐ অভিযানে অংশ নেয়া রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক মো: আব্দুল হান্নান জানান, আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তি মূলক জবান বন্দিতে জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, নজরুল ইসলাম প্রকাশ নাজিম নামে এক পিকআপ ড্রাইভারের মাধ্যমে গত ১৮ ডিসেম্বর রাত ৮ টার দিকে জালিয়া পাড়া রামগড় সড়কের মাহবুব নগর নামক স্থানে ফাতেমা বেগমকে ডেকে আনা হয়এবং পরে পাশের একটি সেগুন বাগানে নিয়ে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়। ঘটনা প্রকাশ করে দেয়ার ভয়ে জাহাঙ্গীর ও নজরুল দুজন মিলে তাকে হত্যা করে। জবান বন্দিতে জাহাঙ্গীর আরও উল্লেখ করেন, তিনি ফাতেমার দুই পা ও হাত চেপে ধরেন এবং নজরুল তার গলাটিপে হত্যা করে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর সেগুন গাছের ঝরে পড়া শুকনো পাতা দিয়ে ফাতেমার মরদেহ ঢেকে রেখে তারা পালিয়ে যান।রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক মো: আব্দুল হান্নান আরও জানান, জাহাঙ্গীরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী শুক্রবার গুইমারার জালিয়া পাড়া এলাকা থেকে নজরুল ইসলাম নাজিমকে পুলিশ গ্রেফতার করে। নজরুল জালিয়া পাড়ার রেজাউলের ছেলে। তিনি দুইশিশু পুত্রের পিতা। তিনি আরও জানান, জাহাঙ্গীর রামগড় জালিয়া পাড়া ৩৩ কেভিএ বৈদ্যুতিক লাইন স্থাপন কাজের শ্রমিক আর নজরুল পিকআপের মালিক ও ড্রাইভার। তার পিকআপ করে বৈদ্যুতিক লাইন স্থাপনের মালামাল পরিবহন করা হত।

প্রসঙ্গত: উপজেলার পাতাছড়া ইউনিয়নের মাহবুব নগর এলাকায় স্থানীয় শিশুরা বিকালে ক্রিকেট খেলার সময় বল টি বাগান থেকে কুড়িয়ে আনতে গেলে দুর্গন্ধ পায়। পরে তারা বল খোঁজার এক পর্যায়ে সেগুন গাছের ঝরে পড়া শুকনো পাতায় ঢাকা গলিত লাশ দেখতে পেয়ে অভিভাবকদের জানায়। পরে খবর পেয়েরামগড় থানার পুলিশ এসে লাশটি উদ্ধার করে।অন্যদিকে নিহত ফাতেমার ছেলে শাহজাহান এটি তাঁর নিখোঁজ মায়ের লাশ বলে শনাক্ত করে ।
তারিখঃ ১২-০১-২০১৯ ইং

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

পূর্বের সংবাদ

June 2019
M T W T F S S
« May    
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930

এই সপ্তাহের আলোকিত পাহাড় শেষ পাতা

বিজ্ঞাপন