খাগড়াছড়ি, , বুধবার, ১২ মে ২০২১

বৌদ্ধ ধর্মালম্ভীদের ঐতিহ্যবাহী তেং ছং বোঃ ছিঃ মিঃ প্রজ্বলন দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে

প্রকাশ: ২০২০-১২-১৫ ১৮:৩৮:৫১ || আপডেট: ২০২০-১২-১৫ ১৮:৩৯:০৭

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি॥ আদিকাল থেকে বৌদ্ধ ধর্মালম্ভীদের ঐতিহ্যবাহী তেং ছং বোঃ ছিঃ মিঃ(প্রদীপ প্রজ¦লন) আর দেখা মেলে না। সময়ের সাথে মানুষের বিয়োগ হওয়ায় ঐতিহ্যবাহী গুলো হারিয়ে যাছে । সেই সব ঐতিহ্যবাহী গুলো নতুন প্রজন্মরা ঐতি পর্যন্ত জানে হ্য-বাহী গুলো জানে না বললে চলে। ঐসব ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি গুলো সংরক্ষণ না করলে পরের নিজের জাতির অস্তিত্ব থাকবে না।

পাহাড়ী পল্লীতে একসময় মারমাদের ঐতিহ্যবাহী মাস ব্যাপী তেং ছং বোঃ ছিঃ মিঃ বিহারে বিহারে দেখা মিলত, সন্ধ্যা নেমে আসলে দল বেধে যেত বিহারে, বিহারে সামনে গাছের খুঁটি বসানো হতো, খুঁটির সাথে তক্টাকে গোলাকার বানানো হয়, গোলাকার সাথে ধরি বেধে দিয়ে প্রায় ২৫- ৩০ ফুট উচুতে হারিকেন, মোমবাতি অথবা মাটির ভাতিকে বাস্কে ভরে পরিছন্ন সুতা কাপড়ে তেল ভিজিয়ে প্রদীপ জ্বালানো হয়। কোনো কোনো বিহারে বাইজ্যা বাঁশ দিয়ে প্রজ¦লন করতে দেখা যায়। তাও সে সময়ে প্রতিযোগীতা দেখা মিলতো সেই কাজে এক বিহার থেকে অন্য বিহারে।

শীলাবান ব্যক্তি ক্রানু চিং মারমা সাথে সাক্ষাৎ করে এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তেং ছং বোঃ ছিঃ মিঃ মূলত জাদীতে প্রজ¦লন করা হলে খুবই উত্তম এবং এর পূণ্যময় অনেক সুখ বৃদ্ধি লাভ করে। কারণ সিদ্ধার্থ গৃহ ত্যাগ করে অনোমা নদীর তীরে উপস্থিত হয়ে তিনি চিন্তা করলেন প্রব্যজিত জীবনে চুলের কোন প্রয়োজন নেই। তাই তিনি খুরধার তলোয়ার বের করে বাম হাতে তাঁর চুল ধরে ডান হাত দিয়ে তা ছেদন করে অধিষ্ঠান করলেন আমার কর্তিত চুল আমি আকাশে নিক্ষেপ করে দেবো; আমি জন্ম-জন্মান্তর ত্রিশ পারমী পূরণ করে যদি প্রকৃত বুদ্ধাংকুর হয়ে এই জন্মে বুদ্ধ হতে পারি, তাহলে আমার এই চুল আকাশে নিক্ষেপ করা হলে আকাশে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকুক মাটিতে আর পতিত না হোক। এই চুল আকাশে নিক্ষেপ করলে দেবরাজ ইন্দ্র একটা স্বর্ণের ঝুড়িতে করে আনন্দ চিত্তে তাবতিংস স্বর্গে নিয়ে গেলেন এবং সেখানে এই চুল স্থাপন করে জাদী নির্মাণ করা হয়। বুদ্ধত্ব লাভের পূর্বেই এই জাদী নির্মিত হয় যার নাম চুলামনি জাদী।

ঐতিহ্যবাহী তেং ছং বোঃ ছিঃ মিঃ জনপ্রিয় কেন জানতে চাইলে শীলাবান ব্যক্তি মংম্যে মারমা জানান, বছর গুরে এলে কার্তিক- অগ্রহায়ন এই সময়ে বৌদ্ধ ধর্মালম্ভী মারমাদের ঐতিহ্যবাহী তেং ছং বোঃ ছিঃ মিঃ শুধু একমাস জ্বালানো সুযোগ হয়। এই মাসে তারা বিশ্বাস করে দেবরাজ ইন্দ্র ধরণীতে বৌদ্ধ ধর্মালম্ভীরা কি করছে ঠিক ভাবে ধর্ম অনুশীলন করছে কিনা দেখে ঘুরে যায়। আবার এদিকে যখনি সন্ধ্যা নেমে আসলে দল বেধে বিহারে গেলে আত্মীয় স্বজন সকলের সাথে দেখা সাক্ষাৎ হয়। মেলামেশার সুযোগ হয়। অন্যান্য সাথে কুশল ও শুভেচ্ছা বিনিময় করা যায়। এতে মন বড় হয় সুন্দর হয়। হিংসা বিদ্বেষ দূর হয়্ সকলের প্রতি মৈত্রী ও প্রীতিভাব জাগ্রত হয় । সুন্দর পরিবেশ তৈরি হয়। পূণ্য অর্জিত হয়। ধার্মিক , গুণি ব্যক্তি ও ভিক্ষুদের সাথে পরিচয় হয়। নিজের মঙ্গল ও শান্তি বৃদ্ধি পায়। ইহকারে পরম সুখ লাভ করা যায়।

এদিকে খাগড়াছড়ি জেলার গোলাবাড়ি এলাকায় ক্যক ফ্রু বৌদ্ধ বিহারে মাস ব্যাপী ঐতিহ্যবাহী তেং ছং বোঃ ছিঃ মিঃ(প্রদীপ প্রজ¦লন) সমাপ্তি হয়েছে। সমাপ্তি দিনে শত শত পূণ্যার্থী বিহারে সমাগম হয়েছে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.