চট্টগ্রাম, , শনিবার, ২১ এপ্রিল ২০১৮

দীঘিনালায় মৎস্য চাষে স্বাবলম্বী বৈদ্যপাড়া গ্রামের ৯০ পরিবার

প্রকাশ: ২০১৭-০২-১৬ ১৭:১৫:১১ || আপডেট: ২০১৭-০২-১৬ ১৭:১৫:১১

নিজস্ব প্রতিবেদক: মৎস চাষ করে স্বাবলম্বি হয়েছে দীঘিনালার নব্বই পরিবার। তারা সবাই একই গ্রামের বাসিন্দা। গ্রামের নাম বৈদ্য পাড়া। এক সময় এ গ্রামের লোকজন অভাব অনটনে থাকলেও বর্তমানে তারা বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত, স্বাবলম্বী সবাই। তাদের একতা ও কর্মতৎপরতায় গ্রামে থেকে মুছে গেছে দারিদ্র নামের শব্দটি।
সরেজমিনে বৈদ্য পাড়া গ্রাম ঘুরে জানাযায়, দীঘিনালা উপজেলার একটি গ্রাম বৈদ্যপাড়া। এ গ্রামে বসবাস করে ৯০টি চাকমা উপজাতি পরিবার। পরিবার গুলোর মধ্যে সবসময় অভাব অনটন লেগেই থাকতো। পিছিয়ে পড়া এসব পরিবারের অভাব অনটন দূর করার লক্ষ্যে ২০০৭ সালে গ্রামের রাহুল চন্দ্র চাকমা, সুমতি রঞ্জন চাকমার উদ্যোগে গ্রামবাসী মিলে একটি সমিতি করার উদ্যোগ নেয়। সকলেই একমত হলো একটি উন্নয়ন মূলক সমিতি গঠন করার। ২০০৭ সালের ১ জুন গঠন করা হলো বৈদ্য পাড়া মৎস্য সমবায় সমিতি। সমিতি গঠনের পর থেকে প্রতি পরিবার মাসে দশ টাকা সঞ্চয় জমা দেয়া শুরু করে। যাত্রা শুরু হলো বৈদ্য পাড়া মৎস্য সমবায় সমিতির। গ্রামের পরিবাররের দশ টাকার সঞ্চয় এখন পরিনত হয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকায়। গ্রামের পাশের পরিত্যক্ত জলাশয় বাধ দিয়ে তৈরী করা হয় একটি বিশাল পুকুর। যার আয়তন প্রায় ১২ একর। পুকুরে ছাড়া হয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা। এছাড়াও সমিতির নিজস্ব তহবিলে করা হয়েছে ৩০ হাজার চারা দিয়ে একটি বিশাল ফলদ বাগান। গ্রামের সকল পরিবার আজ আত্বœনির্ভরশীল এবং খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। বৈদ্য পাড়া মৎস সমবায় সমিতির নারী উন্নয়ন দলের সদস্যরা পুকুরের চারপাশে গড়ে তুলছেন শাক, সবজির বাগান। এ দলের সদস্যরা প্রতিমাসে ঘরে ঘরে গিয়ে নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্য সর্ম্পকে সচেতন, জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্বতি সর্ম্পকে ধারনা দেন। এ গ্রামের কয়েকজন যুবককের পল্লী চিকিৎসায় প্রশিক্ষন রয়েছে। পাড়াবাসীর কারোর শারীরিক সমস্য দেখা দিলে প্রাথমিক চিকিৎসার কাজ তারাই করেন।
অপরদিকে পুকুরে মাছের খাদ্য দেয়ার জন্য রয়েছে একটি যুব কমিটি। যুব কমিটির কাজ হচ্ছে শুধু পুকুরে মাছের খাদ্য দেয়া এবং গ্রামের পরিবারদের কাছ থেকে মাছের খাদ্য ক্রয়ে মাসিক চাঁদা উত্তোলণ করে মাছের খাদ্য সংগ্রহ করা।
মৎস সমিতির সাধারন সম্পাদক রাহুল চাকমা জানান, আমাদের গ্রামের লোকজন খুবই কর্মঠ। আমাদের একতা ও সততার কারণে আমরা এতদুর এগিয়েছি। আমাদের এতদূর পর্যন্ত আসার পেছনে সবচেয়ে বেশি সহযোগীতা ও অনুপ্রেরণা দিয়েছে উপজেলা মৎস বিভাগ।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অর্বণা চাকমা বলেন, গ্রামের নব্বই পরিবারের সকলেই মৎস চাষ করে আজ স্বাবলম্বী। এগ্রামের সকলেই খুবই কর্মঠ। এদের কর্মতৎপরতার কারণে সাফল্য তাদের হাতের মুঠোয় এসেছে। এ গ্রামটি পুরো জেলার জন্য একটি দৃষ্টান্ত।

Leave a Reply

আরকাইভস

April 2018
M T W T F S S
« Mar    
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
30  

সাপ্তাহিক

বিজ্ঞাপন

error: Content is protected !!