খাগড়াছড়ি, , বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১

ঘুমধুম ইউনিয়ন আ’লীগ সভাপতি হারেজ’র বঙ্গবন্ধুর শাহাদাৎ বার্ষিকী ও শোকাবহ আগষ্ট উপলক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন

প্রকাশ: ২০২১-০৮-১২ ২৩:১৫:৪২ || আপডেট: ২০২১-০৮-১২ ২৩:১৫:৫০

এম.এ.রহমান সীমান্ত, উখিয়া, কক্সবাজারঃ ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধুর ৪৬ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী। জাতীয় শোক দিবস। ইতিহাসের এই দিনে ১৯৭৫ সালে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে ঘটেছিল জঘন্যতম হত্যাকান্ড। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও ঐ সময় ৩২ নম্বরে থাকা সকল আত্মীয়-স্বজনও রেহাই পায়নি বুলেট থেকে। বঙ্গবন্ধুর ছেলে ছোট শিশু রাসেলকেও খুনীরা হত্যা করে সেইদিন। রক্তে রঞ্জিত হয় বাড়ির মেঝে ও সিড়িপথ।

১৯৭৫ সালের এ দিনে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শাহাদত বরণ করেন। বঙ্গবন্ধুর ৪৬ তম শাহাদত বার্ষিকী। আমি এ দিনে শোকাহত চিত্তে গভীর শ্রদ্ধা জানাই মহান স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তাঁর পরিবারের শহিদ সদস্যদের স্মৃতির প্রতি।

জাতীয় শোক দিবসে আমি পরম করুণাময় আল্লাহর দরবারে সে-দিনের সকল শহিদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক বেদনাবিধুর ও কলঙ্কজনক অধ্যায়। দেশের স্বাধীনতাবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে ঘাতকচক্রের হাতে ধানমন্ডির নিজ বাসভবনে বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান শহিদ হন।

একই সাথে শহিদ হন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব, পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশুপুত্র শেখ রাসেল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, সহোদর শেখ নাসের, কৃষকনেতা আবদুর রব সেরনিয়াবাত, যুবনেতা শেখ ফজলুল হক মণি ও তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মণি, বেবী সেরনিয়াবাত, সুকান্ত বাবু, আরিফ, আব্দুল নঈম খান রিন্টু। এ ঘটনা কেবল বাঙালির ইতিহাসে নয়, পৃথিবীর ইতিহাসেও বিরল। হত্যাকারীদের উদ্দেশ্য ছিল শুধু একজন রাষ্ট্রনায়ককে হত্যা করা নয়, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে মুছে ফেলা এবং পরাজিত শক্তিকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা।আমাদের জাতীয় ইতিহাসে বঙ্গবন্ধুর অবদান অপরিসীম। তাঁরই নেতৃত্বে বাঙালি জাতি অর্জন করে বহু কাংক্ষিত স্বাধীনতা।

১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ’৫৮-এর সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, ’৬৬-এর ৬-দফা আন্দোলন, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ’৭০-এর সাধারণ নির্বাচনসহ এ দেশের গণমানুষের আশা-আকাক্সক্ষা পূরণে প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে তিনি জাতিকে নেতৃত্ব দেন। এ জন্য তাঁকে বহুবার কারাবরণসহ অমানুষিক নির্যাতন সহ্য করতে হয়। দু’দশকেরও বেশি সময় ধরে এদেশের জনগণকে বাঙালি জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধ করে এই মহান নেতা ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ ঘোষণা করেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা। পৃথিবীর মানচিত্রে জন্ম নেয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। মূলত, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ এক অবিচ্ছেদ্য বন্ধনে আবদ্ধ। তাই ঘাতকচক্র জাতির পিতাকে হত্যা করলেও তাঁর আদর্শ ও নীতিকে নিঃশেষ করতে পারেনি। এ দেশ ও জনগণ যতদিন থাকবে ততদিন জাতির পিতার নাম এদেশের লাখো-কোটি বাঙালির অন্তরে চির অমলিন, অক্ষয় হয়ে থাকবে।দীর্ঘ ৩৫ বছর পরে হলেও ২০১০ সালে জাতির পিতা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিষ্ঠুরতম হত্যাকান্ডের বিচার বাংলার মাটিতে সম্পন্ন হয়েছে। জাতি আজ অনেকটা কলঙ্কমুক্ত। যেসব মৃত্যুদন্ড-প্রাপ্ত ঘাতক আজো বিদেশে পালিয়ে রয়েছে তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের রায় কার্যকর করতে সর্বোচ্চ তৎপরতা চালাতে হবে। জাতি জানবে হত্যাকারীদের ঠাঁই পৃথিবীর কোথাও নেই।জাতির পিতার সারাজীবনের স্বপ্ন ছিল ‘সোনার বাংলা’ গড়ার। আমাদের দায়িত্ব হবে বঙ্গবন্ধুর অসম্পূর্ণ কাজকে সম্পূর্ণ করে দেশকে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করে জাতির পিতার সেই স্বপ্ন পূরণ করা। তাহলেই তাঁর আত্মা শান্তি পাবে এবং আমরা এই মহান নেতার প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করতে পারব।আসুন, জাতীয় শোক দিবসে আমরা জাতির পিতাকে হারানোর শোককে শক্তিতে রূপান্তর করি এবং দেশ গঠনে আত্মনিয়োগ করি।খোদা হাফেজ, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!