খাগড়াছড়ি, , বুধবার, ১২ মে ২০২১

কাপ্তাইয়ে পিআইবি’র তিনদিন ব্যাপী বুনিয়াদি প্রশিক্ষন সম্পন্ন; সাংবাদিকদের সনদ দিলেন-তথ্য মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ

প্রকাশ: ২০২১-০৪-০২ ২৩:৪৭:৪৩ || আপডেট: ২০২১-০৪-০২ ২৩:৪৭:৫২

মাহফুজ আলম. কাপ্তাইঃ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, আমরা একটি গণতান্ত্রিক-বহুমাত্রিক সমাজে বসবাস করি, এই সমাজের দর্পণ হচ্ছে গণমাধ্যম, গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। সুতরাং গণমাধ্যম যখন সঠিকভাবে কাজ না করে তখন বহুমাত্রিক সমাজ ও গণতান্ত্রিক সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি বলেন, আজকের পৃথিবীটা এমন হয়ে গেছে মানুষ শুধু নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত। মানুষ এখন অন্যকে নিয়ে ভাবে না। এমনকি পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়েও ভাবে না। মানুষ শুধু ছুটে চলছে, কার আগে কে যাবে। কাকে টপকিয়ে, ল্যাং মেরে উপরে যাবে সেটা নিয়েই ছুটে চলে। এটি একটি অসুস্থ প্রতিযোগিতা। ড. হাছান মাহমুদ বলেন, সাংবাদিকতা শুধু পেশা নয়, এটি অনেকের কাছে একটি ব্রত। বহু সাংবাদিক আছেন যারা সরকারি চাকরিতে প্রবেশ করলে সচিব হয়ে অবসরে যেতে পারতেন। অনেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি ছেড়ে সাংবাদিকতা পেশায় এসেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভালো ভালো ছেলেরা সাংবাদিকতায় পড়াশোনা করে সাংবাদিকতাকে ভালোবেসে এ পেশায় আসেন। সাংবাদিকতার নামে দু-একজন অপসাংবাদিকের ব্যক্তিগত দুর্নাম যাতে সামগ্রিক সাংবাদিক সমাজকে কলংকিত করতে না পেরে সেদিকে নজর রাখতে হবে। তিনি বলেন, আমরা দেশকে উন্নত করতে চাই, শুধু বস্তুগত উন্নয়ন নয়। বস্তুগত উন্নয়ন দিয়ে গত ১০০ বছরে ইউরোপের দেশগুলো অনেক উন্নত হয়েছে। কিন্তু সেখানে মানবিকতা হারিয়ে গেছে। অনেক ক্ষত্রে সেখানে মূল্যবোধ হারিয়ে গেছে। সেখানে পারিবারিক মূল্যবোধ, বন্ধন হারিয়ে গেছে। ইউরোপের সমাজে শতকরা ৩০-৫০ শতাংশ বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। আমরা সেই সমাজ চাই না। আমরা চাই এমন একটি সমাজ যেখানে বস্তুগত উন্নয়নের মাধ্যমে রাষ্ট্র উন্নত হবে, একটি উন্নত সমাজও হবে। যেখানে মানবিকতা, মূল্যবোধ, দেশাত্মবোধ ও মমত্ববোধ থাকবে।সাংবাদিকদের যোগ্যতা নির্ধারণের ব্যাপারে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, আমি যখন বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নানা প্রোগ্রামে যাই তখন অনেকে বলে সাংবাদিকতায় প্রবেশের জন্য একটি শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করে দেওয়া প্রয়োজন। তবে আমি ব্যক্তিগত ভাবে এর বিপক্ষে। কারণ পৃথিবীতে বহু মানুষ আছে, যাদের কোনো ডিগ্রি ছিল না, কিন্তু তারা অনেক জ্ঞানী। কাজী নজরুল ইসলাম মেট্রিক পাস করেন নি। বিলগেটস বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনবার ফেল করে আউট হয়ে গেছেন। কিন্তু তাদের জ্ঞান পৃথিবীকে আলোকিত করেছে। তাদের জ্ঞান নিয়ে গবেষণা হয়, পিএইচডি ডিগ্রি হয়। তিনি বলেন, অনেক সাংবাদিক আছেন, যিনি মাত্র মেট্রিক পাস, কিন্তু তিনি অনেক ভালো লেখেন। আবার অনেক সাংবাদিক আছেন, যিনি মাস্টার্স পাস হয়েও ভালো রিপোর্ট লিখতে পারেন না। তাই আমি ব্যক্তিগত ভাবে ডিগ্রি নির্ধারণের বিপক্ষে। সারাদেশের সাংবাদিক নেতারা বলেন, সাংবাদিকতা করার ক্ষেত্রে একটি স্ট্র্যাটেজি নির্ধারণ করা প্রয়োজন, যাতে যে কেউ সাংবাদিকতায় ঢুকে যেতে না পারে। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, সাংবাদিকদের রাষ্ট্রের ও সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি আমরা যাতে উন্নত সমাজ গঠন করতে পারি, সেটির ব্যাপারেও লিখতে হবে ৷ একই সঙ্গে যে কথা বলতে পারে না, যার ভাষা হারিয়ে গেছে তার জন্যও লিখতে হবে।প্রেস ইন্সটিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)’র আয়োজনে রাউজান. রাঙুনিয়া. কাউখালি. কাপ্তাই ও রাজস্হলি এ পাঁচ উপজেলার গণমাধ্যম কর্মীদের কাপ্তাই উপজেলা মিলনায়তন কক্ষে তিন ব্যাপী বুনিয়াদি প্রশিক্ষন সম্পন্ন অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

শুক্রবার ২ এপ্রিল দুপুরে কাপ্তাই উপজেলা মিলনায়তন কক্ষে পিআইবি মহাপরিচালক জাফর ওয়াজেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রী ড,হাছান মাহমুদ-এমপি। প্রাধান অতিথি কাপ্তাইয়ে পিবিআই কর্তৃক আয়োজিত তিনদিন ব্যাপী বুনিয়াদি প্রশিক্ষন সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে. বলেছেন কোন দেশকে গড়তে হলে তাহলে কিন্তু সেই জনগোষ্ঠীকে আশাবাদী হতে হবে. আশাহীন মানুষের যেমন স্বপ্নের ঠিকানায় পৌছানোর কোন তাগাদা থাকে না. আশাহীন জাতীরও স্বপ্নের ঠিকানায় পৌছানোর তাগাদা থাকে না। আমরা ঠিক ক্রমাগত ভাবে খারাপ সংবাদ গুলো পরিবেশন করে থাকি.ফলে মানুষ দ্বিধা দ্বন্দ্বে পরে. দেশের উপর হতাশা.সমাজের উপর হতাশ ও নিজের উপর হতাশ হয়ে পড়েন। আমাদের দায়িত্ব সমাজের মানুষ হিসেবে কাজ করে দেশ ও মানুষের স্বপ্নকে এগিয়ে নেওয়া এবং মানুষকে আশাবাদী করা। ইতি মধ্যে আমরা মধ্যম আয়ের দেশে উন্নতি হয়েছি. এটা আমাদের জাতির জন্য বিরাট অর্জন. এ প্রশংসার দাবীদার প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার। এছাড়াও অনুষ্ঠানে অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোঃ মিজানুর রহমান. রাঙামাটি পুলিশ সুপার মীর মোদাচ্ছের হোসেন. কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনতাসির জাহান. এডিশনাল এসপি রওশনারা রব প্রমুখ।

প্রশিক্ষণে কাপ্তাই, রাঙ্গুনিয়া, কাউখালি, রাজস্থলী এবং রাউজান উপজেলার ৩৫ জন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সংবাদকর্মী অংশগ্রহণ করে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.