খাগড়াছড়ি, , বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০১৯

খাগড়াছড়িতে মন্দির ভিক্তিক শিক্ষকগণের ৩দিনব্যাপী বুনিয়াদী প্রশিক্ষণের উদ্বোধন

প্রকাশ: ২০১৯-০৪-২৩ ১৭:২৮:৫৩ || আপডেট: ২০১৯-০৪-২৩ ১৭:২৮:৫৮

দহেন বিকাশ ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: মন্দিরভিক্তিক শিশু ও গণ শিক্ষা কার্যক্রম (৫ম পর্যায়) এর আয়োজনে খাগড়াছড়িতে মন্দিরভিক্তিক শিক্ষকগণের ৩দিনব্যাপী বুনিয়াদী প্রশিক্ষণের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) সকাল ১১টায় খাগড়াছড়ি জেলা সদর মহিলা কলেজ রোড সংলগ্ন রুপনগর সনাতন ছাত্র-যুব পরিষদ কার্যালয়ে প্রশিক্ষণটি উদ্বোধন করা হয়।

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাষ্ট, মন্দিরভিক্তিক শিশু ও গণ শিক্ষা কার্যক্রম (৫ম পর্যায়) রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলার সহকারী প্রকল্প পরিচালক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসাইন এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক জনাবমোঃ শহিদুল ইসলাম ।

মন্দিরভিক্তিক শিশু ও গণ শিক্ষা কার্যক্রম (৫ম পর্যায়) কার্যক্রমের খাগড়াছড়ি ফিল্ড সুপারভাইজার দেবব্রত ব্যানাজীর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সম্মানিত সদস্য নির্মলেন্দু চৌধুরী, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তরুণ ভট্টাচার্য্য, বাংলাদেশ জন্মষ্টমী উদযাপন পরিষদের খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সভাপতি তরুণ কান্তি দে, খাগড়াছড়ি লক্ষী নারায়ণ মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্মল দেব,  সনাতন ছাত্র-যুব পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি স্বপন ভট্টাচার্য্য প্রমুখ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলার মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম (৫ম পর্যায়) বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণকারী প্রশিক্ষণার্থীবৃন্দ।

উল্লেখ্য যে, জাতীয় শিক্ষানীতিতে মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমকে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। প্রকল্পের মাধ্যমে হিন্দু থর্মাবলম্বী শিশু ও বয়স্ক শিক্ষার্থীদের অক্ষর জ্ঞান ও আধুনিক শিক্ষাদানের পাশাপাশি নৈতিকতা শিক্ষা ও ধর্মীয় চর্চার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, দারিদ্র বিমোচন কৌশলপত্র বাস্তবায়ন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সরকারের ভিশন-২০২১ বাস্তব রূপায়নে প্রকল্পটি কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা: শিশুর শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও ভৌগলিক অবস্থা নির্বিশেষে শিশুবান্ধব পরিবেশে আদর যত্ন খেলাধুলা ও বিনোদনের মাধ্যমে ৪ থেকে ৬ বছরের শিশুকে প্রাথমিক শিক্ষার জন্য প্রস্তুত করাই হল প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা।

বয়স্ক শিক্ষা: শিক্ষার কোন বয়স নেই, জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রত্যেকের শিক্ষা অর্জন করা প্রয়োজন। শিক্ষাকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে মন্দিরভিক্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম। গণশিক্ষা কার্যক্রমটি পরিচালিত হয়  ১৫-৪৫ বছর বয়সের শিক্ষার্থীদের মাঝে। মন্দিরের আঙ্গিনায় বসে ধর্মীয় অনুভূতির মাঝে একটু একটু করে চেষ্টা করতে করতে যাতে তারা অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন হতে পারে সে জন্য এই কার্যক্রম। 

গীতা শিক্ষা: প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের ধর্ম ও নৈতিকতা বিষয়ে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। আর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মগ্রন্থ শ্রীমদ্ভগবদগীতা শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে ‘‘মন্দির ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম-৫ম পর্যায়’’শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় গীতা শিক্ষা কেন্দ্র চালুর মাধ্যমে। প্রতিটি গীতা শিক্ষা কেন্দ্রের চালুর মাধ্যমে। প্রতিটি গীতা শিক্ষা কেন্দ্রে ১০ থেকে ১৮ বছর বয়সী ২৫জন সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীকে ভর্তিপূর্বক সঠিক ভাবে গীতা পাঠ করার নিয়মকানুন শেখানো হবে। ধারাবাহিকভাবে গীতার সকল শ্লোক পড়ানো হবে এবং বার্ষিক মূল্যায়ন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মাঝে সনদপত্র প্রদান করা হবে। গীতা শিক্ষাকেন্দ্রে পাঠ গ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে অনুপ্রাণিত হবে এবং গীতার অনর্নিহীত শিক্ষা ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনধারার প্রয়োগের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাজ ও রাষ্ট্র বিনির্মানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

পূর্বের সংবাদ

May 2019
M T W T F S S
« Apr    
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  

এই সপ্তাহের আলোকিত পাহাড় শেষ পাতা

বিজ্ঞাপন