খাগড়াছড়ি, , মঙ্গলবার, ২২ মে ২০১৮

কর্মকর্তার মর্জি মতো চলে রামগড় শিক্ষা অফিস!

প্রকাশ: ২০১৮-০৫-১৭ ১২:২৮:১৪ || আপডেট: ২০১৮-০৫-১৭ ১২:২৮:১৪

আলোকিত ডেস্ক: খাগড়াছড়ির রামগড়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ২৫ দিন এবং একই অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার ৩৬ দিন ধরে কর্মস্থলে নেই। এ দুই কর্মকর্তা নিজেদের খেয়াল খুশিমত কর্মস্থলে আসেন আবার চলে যান বলে গুরুতর অভিযোগ মিলেছে। কর্মস্থলে দিনের পর দিন অনুপস্থিত থেকেও ভুয়া টিএ, ডিএ এবং মোটরসাইকেলের জ্বালানি ও মেরামত খরচ দেখিয়ে বছরে লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।

জানা যায়, উপজেলা মাধমিক কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম ভুঁইয়া ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি এবং একই বিভাগের উপজেলা একাডেমিক সুপার ভাইজার মীর মোহাম্মদ আলী ২০১৫ সালের জুলাই মাসে রামগড়ে যোগদান করেন। এখানে যোগ দেয়ার পর থেকেই ওই দুই কর্মকর্তা দিনের পর দিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন বলে জানা যায়। মাসের শেষে বেতনভাতা উত্তোলন বা সরকারি কোনো বিশেষ প্রোগ্রাম থাকলেই তারা কর্মস্থলে আসেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ঢাকায় এবং একাডেমিক সুপারভাইজার বগুড়ায় সপরিবারে থাকেন। একজন অফিস সহকারী এবং অফিস সহায়ক ও নৈশ প্রহরী এ তিন কর্মচারিই মূলত অফিসটি চালান। দুই কর্মকর্তার লাগাতার অনুপস্থিতির কারণে দাপ্তরিক কাজ ছাড়াও স্কুল পরিদর্শনসহ দায়িত্বপূর্ণ কার্যক্রম অচলাবস্থায় রয়েছে।

গত দুইদিন (১৩ ও ১৪ মে) মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে সরেজমিনে গিয়ে ওই দুই কর্মকর্তার একজনকেও অফিসে পাওয়া যায়নি। কর্মরত কর্মচারীরা জানান, দুই কর্মকর্তাই রামগড়ের বাইরে আছেন। পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, অফিস হাজিরা বইয়ে ২২ এপ্রিল থেকে ১৪ মে পর্যন্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম ভুঁইয়ার কোন স্বাক্ষর নেই। অপরদিকে ৮ এপ্রিল থেকে ১৪ মে পর্যন্ত অফিস হাজিরা বইয়ে স্বাক্ষর নেই একাডেমিক সুপারভাইজার মীর মোহাম্মদ আলীর। অফিস স্টাফরা জানান, দুই কর্মকর্তা মাসের শেষে এসে হাজিরা বইয়ে এক সাথেই সব কার্যদিবসের স্বাক্ষর করে দেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, কর্মস্থলে থাকেন না বিধায় এখানে তাদের কোন বাসাও নেই। অগত্যা রাত্রিযাপন করতে হলে অফিস কক্ষের ফ্লোরে ঘুমিয়ে রাত কাটান। অভিযোগে জানা যায়, কর্মস্থলে নিয়মিত না থাকলেও ওই দুই কর্মকর্তা ভুয়া টিএ, ডিএ, মোটরসাইকেলের জ্বালানি, মেরামত ও অফিসের আনুষঙ্গিক খরচ দেখিয়ে বছরে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করে যাচ্ছেন।

সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার প্রায় ৪২ হাজার টাকার টিএ, ডিএ, আনুষঙ্গিক অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রায় ৬০ হাজার টাকা উত্তোলন করেন। এছাড়া অফিসের কম্পিউটার মেরামতের জন্য সরকারি বরাদ্দকৃত ৮০ হাজার টাকাও নিজের পকেটস্থ করেন। অন্যদিকে, সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতার জন্য প্রতি বছর প্রায় ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও ২-৪ হাজার টাকা ব্যয় করে দায়সারাভাবে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। একাডেমিক সুপারভাইজার মীর মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধেও ভুয়া টিএ, ডিএ এবং আনুষঙ্গিক ব্যয় দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আছে। কর্মস্থলে নিয়মিত না থেকেও তিনি মোটরসাইকেলের জ্বালানি ও মেরামতের বাৎসরিক বরাদ্দকৃত ৩০-৩৫ হাজার টাকা উত্তোলন করেন।
অফিস সহকারী তপন চন্দ্র মজুমদার জানান, ‘স্যাররা নিজেরাই নিজেদের টিএ, ডিএসহ বিভিন্ন বিল-ভাতা করে টাকা উত্তোলন করেন।

এদিকে কর্মস্থলে লাগাতার অনুপস্থিতি ও অন্যান্য অভিযোগের ব্যাপারে ১৪ মে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম ভুইয়া বলেন, ‘ঢাকায় প্রোগ্রামে এসেছি। এখন খুব ব্যস্ত। আগামীকাল কথা বলবো।’
অপরদিকে একাডেমিক সুপারভাইজার মীর মোহাম্মদ আলীর মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। সূত্র: দৈনিক পূর্বকোণ।

Leave a Reply

পূর্বের সংবাদ

May 2018
M T W T F S S
« Apr    
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  

এই সপ্তাহের আলোকিত পাহাড় প্রথম পাতা

এই সপ্তাহের আলোকিত পাহাড় শেষ পাতা

বিজ্ঞাপন

error: Content is protected !!