খাগড়াছড়ি, , শুক্রবার, ১৮ জানুয়ারী ২০১৯

অবশেষে চালু হলো রাঙ্গামাটি-কাপ্তাই-বান্দরবান সড়ক

প্রকাশ: ২০১৬-১১-০২ ১৫:১১:০৭ || আপডেট: ২০১৬-১১-০২ ১৫:১১:৫৮

rangamatiরাঙ্গামাটি সংবাদদাতা:  দীর্ঘ ৬মাসেরও বেশী সময় ধরে বন্ধ থাকা রাঙ্গামাটি-কাপ্তাই-বান্দরবান সড়কটি অবশেষে চালু হয়েছে।  জিসিবি রোড নামে পরিচিত সড়কটি বেইলি ব্রিজটি দ্রুত মেরামত শেষে  চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে রাঙ্গামাটি সড়ক বিভাগ।
রাঙ্গামাটি জেলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের ঘাগড়ার অদুরে অবস্থিত একটি বেইলী সেতু ভেঙ্গে পড়ার পর সড়কটি দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। চলতি বছরের ১৪ এপ্রিল একটি ভারী পণ্যবাহী ট্রাক কাপ্তাই হয়ে রাঙ্গামাটি আসার পথে ওই বেইলী ব্রিজটির উপর উঠলে ব্রিজটি ভেঙে পড়ে। বন্ধ হয়ে যায় সকল ধরণের পরিবহন। এতে কাপ্তাই, চন্দ্রঘোনা, রাজস্থলী, বাঙালহালিয়া ও বিলাইছড়ির কিছু অংশসহ জেলা সদরের সাথে প্রায় দু’লক্ষ মানুষের সড়ক যোগাযোগ প্রায় বন্ধসহ রাঙ্গামাটির সাথে বান্দরবানের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। স্থবির হয়ে পড়ে এলাকার ব্যবসা বাণিজ্য। বিপাকে পড়ে সুইডিশ পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট, কর্ণফুলি ডিগ্রী কলেজের শিক্ষার্থীরা এবং ব্যবসায়ীরা।
অবশেষে ব্রিজটি নির্মাণ শেষ করে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হওয়ায় ওইসব এলাকার মানুষের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। তারা আশা প্রকাশ করেছে তাদের মন্দাভাব কেটে গিয়ে এখন ব্যবসা-বাণিজ্য পুরোদমে চাঙ্গা হয়ে উঠবে।
কাপ্তাই’র সবজি ব্যবসায়ী কাসেম আলী জানান, এ ব্রিজটি ভেঙ্গে যাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে আমাদের ব্যবসার ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। রাঙ্গামাটির সাথে আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল। কিন্তু ব্রিজটি নির্মাণ হওয়ায় এখন মনে অনেক প্রশান্তি লাগছে।
কাপ্তাই কর্ণফুলী ডিগ্রী কলেজের ছাত্র মনু মারমা জানান, রাঙ্গামাটি সদর হতে কাপ্তাই যেতে আমার অনেক টাকা খরচ হতো এবং সময়ও লাগতো অনেক। কিন্তু ব্রিজটি চালু হওয়ায় আমার খুব ভাল লাগছে।
রাঙ্গামাটি-বান্দরবান সড়কে বাস চালক ফোরকান জানান, এ বেইলী ব্রিজটি ভেঙ্গে যাওয়ায় আমাদের পরিবহন দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারণে আমার মালিকের অনেক লোকসান হয়েছে। এছাড়া সাধারণ মানুষ যারা প্রতিদিন কাপ্তাই-বাঙাল হালিয়া, রাজস্থলী, বান্দরবান যাতায়াত করে তারাও চরম দুর্ভোগে পড়েছে। বিপাকে পড়েছিল শতশত ছাত্রছাত্রী। ব্রিজটি তৈরি হওয়ায় দুর্ভোগ থেকে তারাও মুক্তি পাবে।
রাঙ্গামাটি-বান্দরবানে যাতায়াত করা উশৈচিং মারমা বলেন, বেইলী ব্রীজটি নির্মাণ হওয়ার ফলে আমি এখন স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেলছি। কারণ এই ব্রীজ দিয়ে প্রায় প্রতি সপ্তাহ ২/৩ বার যাতায়াত করতে হতো। এতদিন যাতাযাত বন্ধ থাকার কারণে অনেক কষ্ট পেতে হয়েছে।
এ ব্যাপারে রাঙ্গামাটি সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডিও) আতিকুল্লাহ ভূঁইয়া জানান, উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আমরা দিনরাত পরিশ্রম করে মাত্র ৪৫ দিনের মধ্যে বেইলী ব্রিজটির কাজ শেষ করেছি। আমরা খুশী যে, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে সড়কটি চালু করা গেছে।
তিনি জানান, সড়ক বিভাগের ম্যান্টেইন্যান্স ফান্ড থেকে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা ব্যয় করে জরুরী ভিত্তিতে এই বেইলী ব্রিজ নিমার্ণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, রাঙ্গামাটির সড়ক ব্যবস্থানাপনা নিয়ে ইসিবি ও সড়ক বিভাগের আন্তঃবিভাগীয় জটিলতার কারণেই মূলত ব্রীজটি মেরামতে দীর্ঘ সূত্রিকার উদ্ভব ঘটে। দুর্ভোগে পড়ে সাধারণ মানুষ। বিষয়টি জেলা প্রশাসনের মাসিক সভায় একাধিকবার আলোচনার পাশাপাশি এ নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা তৎপর হওয়ায় অবশেষে ইসিবি দ্বন্দ্ব শেষ হয়েছে। গত জুলাই মাসে ইসিবি রাঙ্গামাটির সকল সড়ক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব সড়ক বিভাগের হাতে ফিরিয়ে দেয়।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

পূর্বের সংবাদ

January 2019
M T W T F S S
« Dec    
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  

এই সপ্তাহের আলোকিত পাহাড় প্রথম পাতা

এই সপ্তাহের আলোকিত পাহাড় শেষ পাতা

বিজ্ঞাপন