চট্টগ্রাম, , শনিবার, ২১ এপ্রিল ২০১৮

অতিথি পাখি নিধনের মহোৎসব

প্রকাশ: ২০১৬-১১-১৪ ১৪:৩৮:০৭ || আপডেট: ২০১৬-১১-১৪ ১৪:৩৮:০৭

অতিথি পাখিনিউজ ডেস্ক: শীত শুরু হতে না হতেই নড়াইলের কালিয়া উপজেলার বিভিন্ন বিল-খাল ও জলাশয়ে অতিথি পাখিদের আগমন শুরু হয়েছে। আর পাখি শিকারীরা নির্বিচারে অতিথি পাখি নিধনের মহোৎসব শুরু করেছে।  উপজেলার বিভিন্ন বাজারে প্রকাশ্যে এসব পাখি বিক্রিও হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকরী কোনও উদ্যোগ না থাকায় পাখি শিকারের প্রবণতা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

শীতের তীব্রতা থেকে রক্ষা পেতে প্রতিবছরের মতো এবারও সুদূর সাইবেরিয়া থেকে জেলার বিভিন্ন বিল ও জলাশয়ে প্রচুর অতিথি পাখি এসেছে। এতে পেশাদার-শৌখিন শিকারীরাও বিভিন্ন কায়দায় দেশী-বিদেশী অতিথি পাখি নিধনে তৎপর হয়ে উঠেছেন।

সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার চাঁচুড়ীর বিল, পাটেশ্বরী বিল, ভক্তডাঙ্গার  বিলসহ ছোট-বড় বিলগুলোতে এবং নবগঙ্গা ও মধুমতি নদীর চরে শিকারিরা জালের ফাঁদ, বিষটোপ, কেউ ঢ্যাপের সঙ্গে কীটনাশক মিশিয়ে,বড়শী ও বন্দুক দিয়ে নির্বিচারে পাখি নিধন করছে।

এসব পাখি রসনাবিলাসীদের তৃপ্তি মেটানোর জন্য এলাকার হাট-বাজারগুলোতে উচ্চমূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে। পাখি নিধন করার পর স্থানীয় বাজারে প্রকাশ্যে দিবালোকে এসব পাখি বিক্রি হচ্ছে।

বিক্রির প্রধান প্রধান পয়েন্ট হচ্ছে চাঁচুড়ী বাজার,কালিয়া বাজার,পুরুলিয়ার মোড়,রঘুনাথপুর মোড়সহ এলাকার হাটবাজার।

নদী ও বিল এলাকাগুলোতে আগত দেশী-বিদেশী পাখির মধ্যে কালকুচ, হাঁসাদিঘি, ডুঙ্কর, কাদাখোঁচা, চেগা, কাচিচোরা, মদনটাক, শামুকখুলা, পানকৌড়ি,  বক উল্লেখযোগ্য।

সরেজমিনে কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কেউ কেউ শখের বসে আর কেউ বা সহজলভ্য  দেখে পাখি কিনছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পাখি শিকারী যুগান্তরকে বলেন, ‘শীতের মৌসুমে এখানে প্রচুর পাখি আসে, পাখির মাংস খেতে সুস্বাদু, গোপনে স্থানীয় এমপি থেকে শুরু করে পুলিশ প্রশাসনের অনেক কর্তাব্যক্তিদেরও বাসায় এসব পাখি চলে যায়। তাই পাখি ধরা দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও তাদের অসুবিধা হচ্ছে না।’

পাখি বিক্রেতারা জানান, বাজারে তাদের নির্দিষ্ট পাখির ক্রেতা রয়েছে। প্রতি জোড়া ডুঙ্কর ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। এছাড়া কালকুচ প্রতি জোড়া ৩০০টাকা, হাঁসাদিঘি প্রতি জোড়া ৫০০ থেকে ৬০০টাকা, কাদাখোঁচা, চেগা ও ছোট আকৃতির বিভিন্ন পাখি ১৫০ থেকে ২৫০ টাকায় জোড়া পাওয়া যায়।

শিকার প্রক্রিয়া: প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে শুরু করে রাতে নদীর তীর ও বিল এলাকা থেকে বিশেষ জাল দিয়ে ডুঙ্কর, কাদাখোঁচা, চেগা ও ছোট আকৃতির বিভিন্ন পাখি শিকার করে। আর বড় জাতের পাখিগুলো বন্দুকসহ অন্যান্য প্রক্রিয়ায় শিকার করা হয়।

এ ব্যাপারে কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘এক শ্রেণির অসাধু লোক গোপনে পাখি শিকার করে বিক্রি করছেন। পাখি নিধন দণ্ডনীয় অপরাধ। যারা এ সব অতিথি পাখি নিধন করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

Leave a Reply

আরকাইভস

April 2018
M T W T F S S
« Mar    
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
30  

সাপ্তাহিক

বিজ্ঞাপন

error: Content is protected !!