খাগড়াছড়ি, , সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

সর্দ্দার হারুণ খাঁ এর নির্যাতনে অতিষ্ট পুরো গ্রামবাসী

প্রকাশ: ২০১৮-০৩-০২ ১২:০৫:১৭ || আপডেট: ২০১৮-০৩-০২ ১২:৪১:০৩

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি: বান্দরবানের লামার রুপসীপাড়া ইউনিয়নে এক গ্রাম সর্দ্দারের নির্যাতন ও হয়রাণীতে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে পুরো গ্রামবাসী। নানা হয়রাণীর শিকার ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড পুলিশ ক্যাম্প পাড়ার জনসাধারণ জানায়, মৃত সেকান্দর খাঁ এর ছেলে মো. হারুণ খাঁ প্রকাশ হারুণ পিসি সামাজিক বিচারের নামে টাকা আত্মসাৎ, অন্যের টাকা পকেটস্থ, নিজের কথা মত না চললে আইনী হয়রাণী, নদী ও গাড়ি পথে যাওয়া কাঠ হতে চাদাঁবাজি এবং বিভিন্ন কৌশলে অন্যকে ফাঁদে ফেলে টাকা কমানো ধান্ধায় থাকে।
বিশেষ করে মো. হারুণ গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) প্লাটুন কমান্ডার (পিসি) হওয়ায় এই ক্ষমতার অপব্যবহার করে এইসব অবৈধ কাজ করে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। তার এইসব অবৈধ কাজে সহযোগী হিসেবে স্থানীয় গুটিকয়েক সরকারদলীয় নেতা ও জনপ্রতিনিধি রয়েছে বলেও জানায় গ্রামবাসী।

পুলিশ ক্যাম্প পাড়ার বাসিন্দা মো. আব্দু রহিমের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম বলেন, লাকড়ি ব্যবসায়ীরা আমার তামাকের জমির উপর দিয়ে গাড়ির রাস্তা করে ব্যাপক ক্ষতি করে। গ্রাম সর্দ্দার হারুণ পিসি বলে বাড়াবাড়ি না করতে সে ক্ষতিপূরণ নিয়ে দিবে। পরবর্তীতে সে আমার জমিনের ক্ষতিপূরণের কথা বলে লাকড়ি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা নেয় এবং আমাকে কোন টাকা দেয়নি। তার কাছে টাকা চাইলে সে আমাকে কয়েকদফা গালমন্দ করে ও সর্বশেষ গত ২৮ ফেব্রুয়ারী বিকেলে স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে বাড়িতে এসে আমি ও আমার সন্তান মো. ইউছুপকে মারধর করে। একইভাবে পার্শ্ববর্তী মাছুমা বেগম, পারভীন আক্তার ও গুনাই বিবি বলেন, আমাদের নামেও টাকা নিয়ে কিছু দিয়ে বাকী টাকা আত্মসাৎ করেছে হারুণ পিসি। সে সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক হওয়ায় আমরা ভয়ে কিছু বলেনি।

পুলিশ ক্যাম্প পাড়ার মো. জাকির (৩৫) বলেন, একটি ছোট গাছের চারা নিয়ে কয়েক মাস আগে হারুণ পিসি আমাকে মারধর করেছে। তার বিরুদ্ধে কোথাও বিচার দিলে সে উল্টো মামলা করে আইনী হয়রাণী করে। সে ভিডিপির পিসি, সেনাবাহিনী সোর্স ও গ্রাম সর্দ্দার হওয়ায় কাউকে তোয়াক্কা না করে অবৈধ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এলাকার মানুষ তাকে সর্দ্দার নির্বাচন করেনি। একটি বাহিনী তাকে গ্রাম সর্দ্দারের দায়িত্ব দেয়।

গ্রামবাসী আজিজুল ইসলাম, নাছরিন বেগম, ফাতেমা বেগম প্রকাশ ইচা বিবি, জরিনা বেগম (মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী), মাছুমা বেগম, মনোয়ারা বেগম সহ অনেকে হারুণ পিসির অত্যাচারে অতিষ্ট বলে জানায়। সে তার অবৈধ আয়ের টাকা নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের ভাগ দেয় বলে কেউ তাকে কিছু বলেনা এমন অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। তারা আরো বলেন, আমরা সকল গ্রামবাসী হারুণ পিসির অত্যাচার হতে রেহাই পেতে আনসার-ভিডিপির বান্দরবান জেলা এ্যাডজুটেন্ট, উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা, ইউপি চেয়ারম্যান ও সেনাবহিনীর লামা সাব জোনে লিখিত অভিযোগ করেছি।

এই বিষয়ে মো. হারুণ খাঁ প্রকাশ হারুণ পিসির নাম্বারে অসংখ্য বার ফোন করলে সে কল রিসিভ না করাই তার বক্তব্য দেয়া সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় ইউপি মেম্বার আবুল হোসেন বলেন, বিষয়টি আজ শুক্রবার (২ মার্চ) আমি অবগত হয়েছি এবং সমস্যা সমাধানে সন্ধ্যায় সকলকে নিয়ে বৈঠকে বসা হবে।

উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর বলেন, আগেও হারুণের নামে একবার অভিযোগ এসেছিল। ভিডিপির দায়িত্বে থেকে বেআইনী কাজ করার সুযোগ নেই।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ছাচিং প্রু মার্মা বলেন, স্থানীয়রা আমাকে বিষয়টি জানিয়েছে। আমি দ্রুত সমাধানের জন্য ইউপি মেম্বারকে বলেছি।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

পূর্বের সংবাদ

September 2018
M T W T F S S
« Aug    
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930

এই সপ্তাহের আলোকিত পাহাড় প্রথম পাতা

এই সপ্তাহের আলোকিত পাহাড় শেষ পাতা

বিজ্ঞাপন

error: Content is protected !!