খাগড়াছড়ি, , শুক্রবার, ২৪ মে ২০১৯

সব সরকারি হাসপাতালে আইসিইউ করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশ: ২০১৯-০৩-১৩ ০৮:৩১:০১ || আপডেট: ২০১৯-০৩-১৩ ০৮:৩১:০৬

আলোকিত ডেস্ক: সব সরকারি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউ স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় গতকাল এ নির্দেশ দিয়ে চিকিৎসকদের জন্য হাসপাতালেই চেম্বার রাখার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান এ বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

একনেকের গতকালের সভায় মোট ছয়টি প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। প্রকল্পগুলোয় ব্যয় হবে ২ হাজার ৬৫০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এর পুরোটাই বহন করবে সরকার। প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে সরকারি কর্মচারী হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীতকরণ, যাতে ব্যয় হবে ৩৭৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। বরিশাল-ভোলা-লক্ষ্মীপুর জাতীয় মহাসড়কের (এন-৮০৯) বরিশাল (চর কাউয়া) থেকে ভোলা (ইলিশা ফেরিঘাট) হয়ে লক্ষ্মীপুর পর্যন্ত যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ শীর্ষক আরো একটি প্রকল্পও এদিন অনুমোদন হয়েছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩১২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। এদিন অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে শরীয়তপুর (মনোহর বাজার) ইব্রাহিমপুর ফেরিঘাট পর্যন্ত সড়ক (আর-৮৬০) উন্নয়ন’ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৫৯ কোটি ৬৩ লাখ, ‘নীলফামারী-ডোমার (জেড-৫০০৩) সড়ক (নীলফামারী অংশ) ও ফুলবাড়ী-পার্বতীপুর (জেড-৫৮৫৭) সড়ক যথাযথ মানে উন্নীতকরণ প্রকল্পে ২৫০ কোটি ২৪ লাখ, শেখ হাসিনা নকশিপল্লী, জামালপুর (প্রথম পর্যায়) প্রকল্পে ৭২২ কোটি এবং লেবুজাতীয় ফসলের সম্প্রসারণ, ব্যবস্থাপনা ও উৎপাদন বৃদ্ধি শীর্ষক প্রকল্পে ব্যয় হবে ১২৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।

রোগীরা যাতে আলো-বাতাস পায়, প্রধানমন্ত্রী সেভাবে হাসপাতাল নির্মাণের কথা বলেছেন বলে জানান পরিকল্পনামন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, হাসপাতালের যে ধরনের নকশা, দেখলে মনে হয় বাসা বা ফ্ল্যাট। মানে একটা হোটেল হোটেল ভাব। হাসপাতালকে রোগীবান্ধব করুন, যাতে তারা একটু আলো-বাতাস পেতে পারে। উড়োজাহাজে যারা ঢাকায় এসেছেন, তারা বলেছেন, বন্দর বন্দর মনে হয় ঢাকাকে। ওপর থেকে মনে হয় যেন হাজার হাজার কনটেইনার।

প্রধানমন্ত্রী নকশায় পরির্বতন আনার কথা বলেছেন বলে জানান এমএ মান্নান। হাসপাতালের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ডিজাইনটা একটু সুন্দর করুন, খোলামেলা করুন। রোগীরা যাতে আলো-বাতাস পেতে পারে, সে ব্যবস্থা করুন। প্রয়োজনে ব্যাংককে, চেন্নাইয়ে বাইরের দেশগুলোয় ভালো ভালো হাসপাতাল আছে, সেগুলো দেখে আসুন, তারা কীভাবে ভবনগুলো নির্মাণ করছে, দেখুন।

দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোর চিকিৎসকরা অফিস সময়ের পর বেসরকারি হাসপাতালে বা আলাদা চেম্বারে টাকার বিনিময়ে চিকিৎসাসেবা দেন। এখন থেকে সরকারি হাসপাতালেই সেই ব্যবস্থা করে দেয়ার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী, যাতে চিকিৎসকদের বাইরে যেতে না হয় এবং রোগীরাও সরকারি হাসপাতালেই সেবা পান। হাসপাতালে ডে কেয়ার সেন্টার, কিডনি, হার্ট, ক্যান্সার ও পক্ষাঘাতগ্রস্তদের জন্য আলাদা ব্লক তৈরিরও নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

এমএ মান্নান বলেন, কিছু নার্স বা সিস্টার আছেন, যাদের সন্তান আছে। কিছু রোগী আছে শিশু কোলে নিয়ে আসে, এদের জন্য একটা ডে কেয়ার সেন্টার করার জন্য বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। কিডনি, হার্ট, ক্যান্সার ও পক্ষাঘাতগ্রস্তদের জন্য আলাদা ব্লক ধীরে ধীরে তৈরি করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এটা কিন্তু রাতারাতি হবে না। তবে শুরু করতে হবে এখন থেকে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

পূর্বের সংবাদ

May 2019
M T W T F S S
« Apr    
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  

এই সপ্তাহের আলোকিত পাহাড় শেষ পাতা

বিজ্ঞাপন