খাগড়াছড়ি, , রোববার, ২৯ মার্চ ২০২০

সঞ্জীবনী প্রশিক্ষণে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা

প্রকাশ: ২০২০-০২-১৬ ২১:৫১:৩৬ || আপডেট: ২০২০-০২-১৬ ২১:৫১:৪২

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: এমএলই প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষকদের সঞ্জীবনী প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে শুরু হলো নতুন বছরের মাতৃভাষায় প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম।

আজ রবিবার (১৬ ফেব্রুয়ারী) স্থানীয় বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা জাবারাং কল্যাণ সমিতি’র উদ্যোগে ডিএফআইডি ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহযোগিতায় সেতু-এমএলই প্রকল্পের আয়োজনে সংস্থার প্রশিক্ষণ কক্ষে ২দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামসুন নাহার।

সমাপনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংস্থার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক ও কর্মসূচি সমন্বয়কারী বিনোদন ত্রিপুরা, প্রশিক্ষক ভাষাবিদ ও এনসিটিবি লেখক প্যানেলের সদস্য জগদীশ রোয়াজা, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের মাষ্টার ট্রেইনার উম্মে সালমা, আমাদের স্বাস্থ্য আমাদের জীবন ও আমাদের ভবিষ্যত প্রকল্পের সমন্বয়কারী দয়ানন্দ ত্রিপুরা প্রমূখ।

সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ও আন্তরিকতার ফসল জাতীয় শিক্ষা নীতিতে দেশের অপরাপর নৃ-গোষ্ঠীর শিশুদের জন্য মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি। ২০১৭ সালে প্রথমবারের মতো সরকার জাতীয় পাঠক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড এর মাধ্যমে ৫টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষায় বই প্রকাশ করে। তারই ধারাবাহিকতায় জাতীয় পাঠক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড প্রাক-প্রাথমিক হতে তৃতীয় শ্রেণি সকল স্তরে মাতৃভাষায় বই প্রকাশ ও সরবরাহ করেছে। ২০১৯ সাল থেকে বেসরকারী সংস্থা জাবারাং-এর উদ্যোগে সেতু-এমএলই প্রকল্পের মাধ্যমে জেলার ৩৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিতে মাতৃভাষায় শেখার কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়েছে বলে মত প্রকাশ করেন পল্টনজয় পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক প্রবীর ত্রিপুরা। তিনি আরও বলেন, এ কার্যক্রমের ফলে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিতে শিশুরা আনন্দের সাথে পাঠ উপভোগ করছে। ছড়া, গান আর নিজের ভাষায় বর্ণ, শব্দ শেখার পাশাপাশি সমানতালে বাংলা ভাষা ও গণিত শেখার সুযোগও রয়েছে বলে যোগ দেন ঠাকুরছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক দীপা ত্রিপুরা। বিদ্যালয়ে মাতৃভাষার পাঠ্যবই নতুন এসেছে। কিন্তু শিক্ষক সহায়িকা ও অন্যান্য সহ-পাঠক্রমিক উপকরণ সরবরাহ অপ্রতুল বলে জানালেন অংশগ্রহনকারী শিক্ষকবৃন্দ। তাছাড়া মাতৃভাষায় পাঠদানের ব্যাপারেও অধিদপ্তরের নির্দেশনামূলক সহযোগিতা চেয়েছেন আলোচকবৃন্দ।

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি শামসুন নাহার বলেন, প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ের শিশুরা সাধারণত ৪-৫ বছর বয়সী। কোমলমতি শিশুদের পরিচিত পরিবেশে নিজের ভাষায় পড়ার অধিকার সম্পর্কে সরকার সচেতন ও সংবেদনশীল। তাই, সরকার নৃ-গোষ্ঠীর শিশুদের জন্য মাতৃভাষায় পড়ার সুযোগ করে দিয়েছে। ধাপে ধাপে মাতৃভাষায় পাঠদান কার্যক্রম বাস্তবায়নে বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে পারবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। স্কুলের শিক্ষার্থীদের সাথে নিজ সন্তানদের শুধুমাত্র জিপিএ ৫ এর পিছনে ছুটতে না দিয়ে বরং নৈতিকশিক্ষা প্রদানের ব্যাপারে জোর দেয়ার জন্য তিনি প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী সকল শিক্ষকদের প্রতি উদাত্ত আহবান জানান। এতে করে শিক্ষার্থীরা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি সুশিক্ষায় শিক্ষিত হবার পরিবেশ পাবে বলে তিনি মত দেন। সরকারের বর্তমান উন্নয়ন ধারা অব্যাহত থাকলে যে প্রজন্ম আজ মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষা গ্রহন শুরু করবে তারাই ২০৪১ সালে উন্নত বিশ্ব গড়বে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

পূর্বের সংবাদ

March 2020
M T W T F S S
« Feb    
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
242526272829  

এই সপ্তাহের আলোকিত পাহাড় শেষ পাতা

বিজ্ঞাপন