খাগড়াছড়ি, , শনিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৮

লামায় ভূমি বিরোধের জের ধরে দফায় দফায় হামলা

প্রকাশ: ২০১৮-০৫-০৩ ১৮:৩০:৪০ || আপডেট: ২০১৮-০৫-০৩ ১৮:৩০:৪০

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, লামা (বান্দরবান:) বান্দরবানের লামায় ভূমি বিরোধের জের ধরে দরিদ্র কৃষক পরিবারে প্রতিপক্ষের দফায় দফায় সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে করে অসহায় কৃষক নুরুল আলম (৬৫) ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতা এবং উদ্বেগে রয়েছে বলে জানিয়েছেন।

জানা গেছে, কৃষক নুরুল আলম ও তার ভাই-বোনরা তাদের পিতা মৃত সোনা মিয়ার নামীয় উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের সাপমারা ঝিরি এলাকায় ৩০৫নং গজালিয়া মৌজার আর/২০ নং হোল্ডিং এর ২ একর জায়গার মালিক। দীর্ঘ ৪০ বছরের অধিক সময় ধরে বিরোধীয় জমি সংলগ্ন বসতবাড়ি নির্মাণ করে ভোগদখলে রয়েছে মৃত সোনা মিয়ার ওয়ারিশরা। লোভের বশবত হয়ে পার্শ্ববর্তী হাফেজ আহম্মদ একই মৌজার হোল্ডিং নং (চাষ) ৪৫৫ মুলে অন্য জায়গার একটি কাগজ এনে উক্ত জায়গা নিজের বলে দাবী করছে। হাফেজ আহম্মদ জায়গাটি দখল করতে না পারায় স্থানীয় আবুল কালাম, রবি উল্লাহ সহ আরো ১৫/১৬ জন লোকজন নিয়ে দফায় দফায় উক্ত জায়গা দখলের পায়তারা চালাচ্ছে বলে সরজমিনে গিয়ে জানা যায়। সে সময় অসহায় কৃষক পরিবার বাধা দিলে তাদের পরিবারের নারী ও শিশুদের বেশ কয়েকবার মারধর করে আহত করেছে। সরজমিনে গিয়ে আরো জানা যায়, গত ৯ মার্চ, ৮ এপ্রিল ও সর্বশেষ ৩ মে ২০১৮ইং দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে সংঘবদ্ধ হামলা চালায় হাফেজ আহম্মদ ও তার পক্ষের লোকজন। হামলার শিকার অসহায় কৃষক পরিবার আইনশৃঙ্খলা বাহীনির সহায়তা নিয়ে রক্ষা পায়।

নুরুল আলম বলেন, আমরা বাড়ি ঘর হতে বাহিরে যেতে পারিনা। ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী আবুল কালাম, রবি উল্লাহ সহ অন্যান্যরা আমাদের গালিগালাজ করে। তাদের সাথে প্রতিবাদ করতে গেলে তারা মারধর করে। উক্ত জায়গা নিয়ে আমরা বান্দরবান জর্জ কোট ও লামা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে মামলা করেছি। মামলা চলমান রয়েছে। তারা আদালত ও থানা পুলিশের কোন নিষেধাজ্ঞা মানেনা। দফায় দফায় জমির ফসল-গাছপালা কেটে ফেলে এবং আমাদের মারধর, গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। আমরা ভয়ে তাদের সাথে কথা বলিনা। তাছাড়া প্রতিপক্ষ হাফেজ আহম্মদ পার্শ্ববর্তী মৃত বাচা মিয়ার খতিয়ান হতে মেয়ের নামে জায়গা ক্রয় করে। বাচা মিয়া আমাদের জমিনে পূর্ব সীমানার পার্শ্ববর্তী জায়গার মালিক। কিন্তু হাফেজ আহম্মদ বর্তমানে সেই খতিয়ানে না গিয়ে অন্য জায়গার একটি কাগজ দেখিয়ে আমাদের জায়গা তার দাবী করছে। আমাদের জায়গা ২ একর কিন্তু বর্তমানে আমাদের দখলে রয়েছে ৯০ শতক জায়গা। মৌজা হেডম্যান রিপোটে তা উল্লেখ রয়েছে। হাফেজ আহম্মদ হোল্ডিং ৪৫৫ দিয়ে অন্য স্থানেও জায়গায় দখলে আছে।

প্রতিপক্ষ হাফেজ আহম্মদ বলেন, আমি অনেকদিন যাবৎ উক্ত জায়গা দখলে আছি। এই জায়গা আমার।

মৌজা হেডম্যান থোয়াইনু অং চৌধুরী তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, নুরুল আলমের হোল্ডিং মতে ২ একর জায়গার মালিক হলেও বাস্তবে তার দখলে রয়েছে ৯০ শতক জায়গা। ১ একর ১০ শতক জায়গা কম রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুর-এ জান্নাত রুমি বলেন, যেহেতু এই বিষয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলমান রয়েছে তাই বিরোধ মীমাংসা না হওয়া পর্যন্ত উভয় পক্ষকে জমিতে না যেতে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

পূর্বের সংবাদ

October 2018
M T W T F S S
« Sep    
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  

এই সপ্তাহের আলোকিত পাহাড় প্রথম পাতা

এই সপ্তাহের আলোকিত পাহাড় শেষ পাতা

বিজ্ঞাপন

error: Content is protected !!