খাগড়াছড়ি, , বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮

লামায় উপবৃত্তির টাকা আত্মসাতকারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু

প্রকাশ: ২০১৮-০৯-২২ ১৮:৫৬:৫৪ || আপডেট: ২০১৮-০৯-২২ ১৮:৫৮:১০

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি: বান্দরবানের লামার ‘লুলাইংমুখ পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের’ ২৪৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে উপবৃত্তিপ্রাপ্ত ১৬২ জন ছেলে-মেয়ে টাকা আত্মসাতের ঘটনায় অভিযুক্ত দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তে সত্যতা মিললে জালিয়াতির সাথে জড়িত শিক্ষকদের চূড়ান্ত বহিস্কার করার হবে বলে জানিয়েছেন, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুল আবচার। তিনি আরো বলেন, এই বিষয়ে লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর-এ জান্নাত রুমি’কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে।

এদিকে দূর্গম এলাকার পিছিয়ে পড়া স্কুলের দরিদ্র, অসহায় ও কোমলমতি ১৬২ জন ছেলে মেয়েদের উপবৃত্তির টাকা আত্মসাতের বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে সর্ব মহলে নিন্দার ঝড় উঠেছে। লুলাইংমুখ পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৯৫ শতাংশ ছেলে মেয়ে পশ্চাৎপদ মুরুং জনগোষ্ঠীর। নেক্কারজনক এই ঘটনার সুষ্ট তদন্ত পূর্বক জড়িত শিক্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেছেন বিদ্যালয়ের অভিভাবক ও পরিচালনা কমিটির সভাপতি চিংপাস মুরুং।

পরিচালনা কমিটির সভাপতি চিংপাস মুরুং আরো বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিপন চন্দ্র শর্মা স্কুলের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জানিয়েছেন যাদের মোবাইল নেই তারা উপবৃত্তি পাবেনা। কিন্তু শিক্ষক সিন্ডিকেট উপবৃত্তির তালিকায় স্কুলের ছেলে-মেয়েদের নাম পরিচয় ব্যবহার করে শিওরক্যাশ মোবাইল নাম্বারের স্থলে শিক্ষক নিপন ও আলীমের আত্মীয়স্বজন, লামা বাজারের ব্যবসায়ী ও ২০ জনের অধিক শিক্ষকের নাম্বার দিয়ে উক্ত স্কুলের উপবৃত্তির ১ লাখ ২৯ হাজার ৭৫০ টাকা আত্মসাৎ করেছে। এছাড়া ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিপন চন্দ্র শর্মা কয়েকদিন আগে স্কুলের স্লিপের ৪০ হাজার টাকা কোন ধরনের মালামাল ক্রয় না করে ও আমাকে না জানিয়ে নিজের পকেটস্থ করেছে। এমনকি বিলে আমার স্বাক্ষর পর্যন্ত নেয়নি। আমরা উক্ত ঘটনা সমূহের বিচার সহ দুর্নীতিগ্রস্থ শিক্ষকদের বহিস্কার দাবী করছি।

স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিপন চন্দ্র শর্মা বলেন, দরদরী পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল আলীমের পরামর্শে ও সহায়তায় আমি অন্যের নাম্বার ব্যবহার করেছি।

লামার নুনারবিল মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহেদ সারোয়ার, দরদরী পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শহীদুল ইসলাম ও লাইনঝিরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল দয়াল বলেন, আমাদের মোবাইলে টাকা এসেছে। আমরা কিছু জানিনা। আলীম মাস্টার আমাদের না জানিয়ে আমাদের নাম্বার ব্যবহার করেছে। বিষয়টি আমরা লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবহিত করেছি। মাস্টার আলীম আমাদের কাছে টাকার জন্য আসলে বিষয়টি আমরা জানতে পারি।
বান্দরবান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রিটন বড়ুয়া বলেন, সত্যতা পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এই বিষয়ে লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর-এ জান্নাত রুমি বলেন, গত বৃহস্পতিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি জানার সাথে সাথে লামা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী শিক্ষা অফিসার আশীষ কুমার মহাজন কে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি।

লামা উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কমিটির সভাপতি থোয়াইনুঅং চৌধুরী বলেন, এইসব লোভী ও দুর্নীতিগ্রস্থ শিক্ষকদের শাস্তি না দিলে দেশে অনিয়ম কখনো কমবেনা।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

পূর্বের সংবাদ

December 2018
M T W T F S S
« Nov    
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  

এই সপ্তাহের আলোকিত পাহাড় প্রথম পাতা

এই সপ্তাহের আলোকিত পাহাড় শেষ পাতা

বিজ্ঞাপন