খাগড়াছড়ি, , শনিবার, ২৩ মার্চ ২০১৯

লামার সরই-লোহাগাড়া সড়কে সক্রিয় চাঁদাবাজ গ্রুপ

প্রকাশ: ২০১৮-০৭-০২ ১৯:২৩:৪৮ || আপডেট: ২০১৮-০৭-০২ ১৯:২৩:৪৮

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি: বান্দরবানের লামার সরই-লোহাগাড়া সড়কে একটি সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ গ্রুপকে টাকা না দিলে বাঁশ, লাকড়ি ও কাঠ নেয়া যাচ্ছেনা বলে অভিযোগ করেছে বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী। বাঁশ-লাকড়ি-কাঠ বোঝাই প্রতি গাড়িতে (ট্রাক) ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হয় বলে জানা গেছে। অন্যথায় বাঁশ-গাছ গুলো নামিয়ে রাখা হয়। চাঁদাবাজ গ্রুপটি অত্যান্ত প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে থানা-কোর্টে কেউ অভিযোগ করার সাহস পাচ্ছেনা বলে জানায় ভুক্তভোগীরা।

সরজমিনে ঘুরে জানা যায়, লামার সরই এলাকা হতে সরই-লোহাগাড়া সড়ক দিয়ে ট্রাকে করে বাঁশ, কাঠ নিয়ে যেতে হলে লোহাগাড়া উপজেলার পুটিবিলা এলাকার লাকড়ি পাড়া বাজারে চাঁদা দিতে হয়। এই চাঁদা তোলার কাজে নিয়োজিতরা হল, সরই ইউনিয়নের হাসনাপাড়া গ্রামের নুরুল আলমের ছেলে জামাল উদ্দিন প্রকাশ দাঁড়ি জামাল (৪৫), সরই ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের আমির হামজা পাড়ার মৃত আমির হামজার ছেলে নুরুল কবির (৪০), লোহাগাড়া উপজেলার পুটিবিলা ইউনিয়নের লাকড়ি পাড়ার বাসিন্দা ইসলাম কোম্পানী (৫০) ও সরই ইউনিয়নের হাসনাপাড়া এলাকার আব্দুল জব্বারের ছেলে জয়নাল আবেদীন ভেট্টু (৪২)। ইসলাম কোম্পানী সরই ইউনিয়নের ৪,৫ও ৬নং ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার শিরু আক্তারের স্বামী।

গত বৃহস্পতিবার (২৮ জুন ২০১৮ইং) সরই আমতলী এলাকার জনৈক বাঁশ ব্যবসায়ী আব্দুর রশিদ ট্রাকে করে বাঁশ নিয়ে গেলে এই সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ গ্রুপটিকে চাঁদা না দেয়ায় বাঁশ গুলো নামিয়ে রাখা হয়। এখনো বাশঁ গুলো পুটিবিলা ইউনিয়নের লাকড়ি পাড়ার বাসিন্দা ইসলাম কোম্পানী বাড়ির পাশে রয়েছে। পরিচয় গোপন রাখা শর্তে বমু বিলছড়ি ইউনিয়নের এক বাঁশ ব্যবসায়ী বলেন, কয়েকদিন আগে আমি এক ট্রাক বাঁশ নেয়ার সময় এই চাঁদাবাজরা আমার গাড়ি হতে ২০ হাজার টাকা নিয়েছে। তাদের চাঁদা না দিলে ব্যবসা করা অসম্ভব। এই চাঁদাবাজরা লোহাগাড়া উপজেলার আতঙ্ক আধুনগর এলাকার মৃত বেলায়েত হোসেন চৌধুরীর ছেলে নওশাদ আলম চৌধুরীর নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদাবাজি করে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ইসলাম কোম্পানী এর মুঠোফোন (০১৮৭৬-২৫১৭৭৭) ও নুরুল কবির মুঠোফোন (০১৮৫১-২১৩১৭০) নাম্বারে একাধিকবার কল করলেও তারা রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

সরই ইউপি চেয়ারম্যান মো. ফরিদ উল আলম বলেন, চাঁদাবজির বিষয়টি আমাকে কেউ বলেনি।

লামা থানার অফিসার ইনচার্জ অপ্পেলা রাজু নাহা বলেন, বিষয়টি আমাকে কেউ অবহিত করেনি এবং আমরা কোন অভিযোগ পাইনি। তারপরেও আমি লোহাগাড়া অফিসার ইনচার্জ এর সাথে আলোচনা করে চাঁদাবাজি বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। তিনি ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীদের চাঁদাবাজদের ব্যাপারে তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে অনুরোধ করেন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

পূর্বের সংবাদ

March 2019
M T W T F S S
« Feb    
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031

এই সপ্তাহের আলোকিত পাহাড় প্রথম পাতা

এই সপ্তাহের আলোকিত পাহাড় শেষ পাতা

বিজ্ঞাপন