খাগড়াছড়ি, , বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯

লাভজনক ও চাহিদা থাকা পেঁপের চাষ বেড়েছে লামায়

প্রকাশ: ২০১৯-০১-১৬ ১৮:৩২:২৬ || আপডেট: ২০১৯-০১-১৬ ১৮:৩২:৩১

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি: সুসাধু ফল ও সবজি হিসেবে পেঁপে এখন প্রচুর জনপ্রিয়। একসময় শুধু পরিবারের চাহিদা মেটানোর জন্য বাড়ির আঙিনায় চাষ করা হলেও এখন ব্যাপক চাহিদা থাকায় বাণিজ্যিকভাবে শুরু হয়েছে পেঁপে চাষ। আধুনিক প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় ও লাভজনক হওয়ায় বান্দরবানের লামা উপজেলায় অনেকেই ঝুঁকছেন পেঁপে চাষে।

সরজমিনে উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড ক্যাহ্লাচিং পাড়ায় দেখা যায় সারি সারি পেঁপে গাছ। প্রতিটি গাছে ঝুলে আছে অসংখ্য পেঁপে। গত ১ মাস ধরে গাছ থেকে পেঁপে তুলে বিক্রি করলেও গাছের পেঁপে যেন শেষই হচ্ছে না। ক্যাহ্লাচিং মার্মা পাড়ার কারবারী ক্যাহ্লাচিং মার্মা (৪৫) বাড়ির পাশের ২০ শতক সমতল জমিতে গড়ে তুলেছেন এই পেঁপে বাগান। তাঁর বাগানে থাইল্যান্ডী ও রেড লেডি হাইব্রিড জাতের পেঁপে চাষ করা হয়। ২০ শতক জমিতে ১০/১২ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেন সাত মাসে প্রায় ১ লাখ টাকার পেঁপে বিক্রি করা যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি আরো বলেন আগামীতে আমি পেঁপে চাষ আরো বাড়াব। আমাদের এই এলাকায় অনেকে পেঁপে চাষ করেছে।

ক্যাহ্লাচিং মার্মার দক্ষিণ পাশে জনৈক কাসেম সওদাগর নামে একজন চাষী পাহাড়ি ৫ একর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে বিশাল এক পেঁপে বাগান গড়ে তুলেছেন। সেই বাগানে ১২ থেকে ১৫ জন মানুষ শ্রমিক হিসেবে কাজ করে। দুই লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে সৃজিত এই বাগান থেকে কাসেম সওদাগর ২০ লক্ষ টাকা আয় করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন বলে প্রতিবেদককে জানায়। সফল এই পেঁপে চাষীরা সবাইকে ক্ষতিকর তামাক চাষ থেকে ফিরে লাভজনক পেঁপে চাষে আসতে অনুরোধ করেন। স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা পেঁপে ২০-৩০ টাকা ও পাঁকা পেঁপে ৪০-৫০ টাকা ধরে বিক্রি হয়।

এদিকে এইসব সফল পেঁপে চাষীদের সফলতা দেখে গ্রামের অন্যরাও পেঁপে বাগান করার আপ্রহ প্রকাশ করেছে। চাষীরা জানান, মাকড়সা ও ছত্রাক ছাড়া পেঁপে বাগানে তেমন কোনো সমস্যা দেখা যায় না। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে পুষ্টিমানসমৃদ্ধ পেঁপে চাষে ভাগ্য বদলে ফেলা যায়। পেঁপে চাষে অর্থনৈতিকভাবে সরকারি সহযোগিতা পেলে দেশের অনেক বেকার সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। তিনি মনে করেন, শিক্ষিত বেকার যুবকরা যদি পেঁপে চাষে অগ্রসর হয় তাহলে তারাও লাভবান হবে।

স্থানীয় চাথোয়াই মার্মা, মংমং মার্মা, মেথোয়াই মার্মা, রাশেদা বেগম সহ অনেকে বলেন, ব্যাপক চাহিদা থাকায় বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা এখানে ছুটে আসছেন। এখান থেকে পেঁপে কিনে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, কুমিল্লা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছেন। গজালিয়া ইউনিয়ন ছাড়াও লামা উপজেলার রুপসীপাড়া, সরই, ফাঁসিয়াখালী, ফাইতং, আজিজনগর, লামা সদর ইউনিয়ন ও লামা পৌরসভায় পেঁপের ব্যাপক চাষ রয়েছে।

লামা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুরে আলম বলেন, পেঁঁপেতে প্রচুর পুষ্টি উপাদান রয়েছে। পেঁপে চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়াতে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। এবছর লামা উপজেলায় প্রায় ১৬০ একর সমতল ও পাহাড়ি জমিতে পেঁপে চাষ হয়েছে।

পেঁপেতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, সি ও ই আছে। এই ভিটামিন গুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং শরীরের বিভিন্ন সমস্যা দূর করে। এতে উপস্থিত ভিটামিন সি ত্বক, চুল ও মাড়ির জন্য খুবই উপকারী। পেঁপেতে কোনো কোলেস্টেরল নেই, আছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার। তাই কোলেস্টেরলের সমস্যায় যারা দুশ্চিন্তায় আছেন তাঁরা প্রতিদিনের খাবার তালিকায় পেঁপে রাখুন। পেঁপেতে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ যা চোখ, মিউকাস মেমম্রেন ও সুন্দর ত্বকের জন্য জরুরী। নিয়মিত পেঁপে খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, হজম ক্ষমতা বাড়ায়, কোলেস্টেরল কমায়, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ক্যারোটিনের উৎস এবং ভিটামিন বি এর অভাব পূরন করে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

পূর্বের সংবাদ

August 2019
M T W T F S S
« Jul    
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031  

এই সপ্তাহের আলোকিত পাহাড় শেষ পাতা

বিজ্ঞাপন