খাগড়াছড়ি, , মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮

রেল খাতে ৩০ বছর মেয়াদী মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার

প্রকাশ: ২০১৮-০৯-২৪ ২৩:৫১:২১ || আপডেট: ২০১৮-০৯-২৪ ২৩:৫১:২১

অনলাইন ডেস্ক: নাগরিক কবি শামসুর রাহমানের ‘ট্রেন’ কবিতার মাধ্যমে ট্রেন যাত্রার একটি সামগ্রিক চিত্র আমাদের মাঝে ফুটে উঠে। সেই থেকে ট্রেনের জনপ্রিয়তা এতোটুকু কমেনি। সময় সাশ্রয়ী ও নিরাপত্তার জন্য জনগণের কাছে রেলপথ অধিক জনপ্রিয়। রেলপথে অসহনীয় যানজটে জীবন নাকাল হওয়ার কোনো অবকাশ নেই। এমনকি স্থলপথের থেকে দুর্ঘটনার হারও অনেক কম। এজন্য বেশির ভাগ যাত্রী সাধারণ রেলকে দেখে তাদের যাত্রা পথের নিরাপদ সঙ্গী হিসেবে। এজন্য রেলকে ঘিরে ৩০ বছর মেয়াদী মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার।

ইলেকট্রিক ও বুলেট ট্রেনসহ দ্রুতগতির ট্রেনের মাধ্যমে রেলখাতে মহাবিপ্লব ঘটবে। রেলপথের মাধ্যমে এশিয়া ও ইউরোপের সাথে যুক্ত হবে বাংলাদেশ। রেলওয়েকে জনবান্ধব ও অত্যাধুনিক পরিবহন হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার পর্যায়ক্রমে এই খাতে বরাদ্দ বাড়াচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রেলপথ মন্ত্রণালয়কে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন। তাঁরই দিক নির্দেশনার আলোকে ৩০ বছর মেয়াদী মাস্টার প্ল্যানে (২০১৬-৪৫) ছয়টি পর্যায়ে ২৩০টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এতে প্রায় ৬ লাখ কোটি টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০০৯ সাল থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত ৬৪টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এই ৬৪টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে ১৪ হাজার ৩৭৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়।

উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি ৭৬টি নতুন প্রকল্প ও ৬৫টি সংশোধিত প্রকল্পও অনুমোদন করা হয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের এডিপি প্রকল্পের আওতায় ৪৩টি প্রকল্প চালু করা হয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ প্রকল্পের কাজ এখন শেষের পথে। মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী, ২০৪৫ সালের মধ্যে রেলওয়েতে আরও ৬০০ ইঞ্জিন, ছয় হাজার যাত্রীবাহী কোচ ও সাত হাজার মালবাহী ওয়াগন কেনা হবে। এছাড়াও দেশের সব কয়টি জেলার সাথে রেল পথের মাধ্যমে সংযুক্ত করা হবে এবং দূরত্ব অনুযায়ী ইলেকট্রিক ট্রেন ও বুলেট ট্রেনসহ দ্রুতগামী ট্রেন চালু করা হবে। ২৪৮ দশমিক ৫০ কিলোমিটার মিটারগেজ লাইনকে ডুয়েলগেজ লাইনে রূপান্তর করা হয়েছে। ১১৩৫ দশমিক ২৩ কিলোমিটার রেল লাইন পুনর্বাসন ও পুন:র্র্নিমাণ করা হয়েছে। ৯১টি নতুন রেল স্টেশন ভবন নির্মাণ এবং ১৭৭টি স্টেশন বিল্ডিং পুনর্বাসন ও পুন:র্র্নিমাণ করা হয়েছে।

নতুন রেল সেতু নির্মাণ করা হয়েছে ২৯৫টি এবং ৬৪৪টি পুনর্বাসন ও পুন:র্র্নিমাণ করা হয়েছে। সংগ্রহ করা হয়েছে ৪৬টি লোকোমোটিভ, ২৭০টি যাত্রীবাহী কোচ, ৫৪৬টি মালবাহী ওয়াগন ও দুটি রিলিফ ক্রেন। পুনর্বাসন করা হয়েছে ৪৩০টি যাত্রীবাহী কোচ ও ২৭৭টি মালবাহী ওয়াগন। চালু করা হয়েছে ১১৭টি নতুন ট্রেন। ৩৬টি ট্রেনের সার্ভিস ও রুট বর্ধিত করা হয়েছে।

তারাকান্দি-বঙ্গবন্ধু সেতু (পূর্ব) ৩৫ কিলোমিটার ও পাবনা-মাঝগ্রাম ২৫ কিলোমিটার নতুন রেলপথ নির্মাণ করা হয়েছে। দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু থেকে মিয়ানমার সীমান্তের ঘুমধুম পর্যন্ত ডুয়েলগেজ প্রকল্পের আওতায় ১২৯ কিলোমিটার নতুন রেলপথ নির্মাণ কাজ চলছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ৬৫টি রেলওয়ে স্টেশন থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে টিকেট কাটা এবং ফিরতি টিকেট নেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের আওতায় ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ফরিদপুর জেলার ভাঙা এবং যশোর পর্যন্ত ১৭২ কিলোমিটার নতুন রেল লাইন নির্মাণ করা হবে। এ প্রকল্পের কাজ চলছে। ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এবং কুমিল্লার লাকসাম হয়ে চট্টগ্রামে রেল লাইন নির্মাণ করা হবে। এ প্রকল্পের ব্যয় ৩১ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়েছে।

রাজধানী যানজট মুক্ত করতে ঢাকার কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে দুটি অত্যাধুনিক ট্রানজিট হাব নির্মাণ প্রকল্পের সমীক্ষার কাজ চলছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে আন্ডারগ্রাউন্ড-ওভারপাস দিয়ে অনায়াসে প্রবেশ ও বের হওয়া যাবে। থাকবে আবাসিক হোটেল শপিং মলসহ বিভিন্ন সুবিধা। রেলপথ মন্ত্রী মো. মুজিবুল হক বলেন, ‘২০০৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ৬৪টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। দেশে বুলেট ও ইলেকট্রিক ট্রেনসহ দ্রুত গতিসম্পন্ন ট্রেন চলবে। এজন্য মেগা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে ‘। এ প্রকল্পের মধ্যে বেশ কয়েকটি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে।

চলমান ও মাস্টার প্ল্যানের প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে উন্নত বিশ্বের মতো বাংলাদেশের রেলও আধুনিক হবে। তবে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হলে পর্যাপ্ত লোকবল খুবই জরুরি। ১৫ হাজার ৫৫৮টি শূন্যপদ রয়েছে। এই শূন্য পদে জনবল নিয়োগের মাধ্যমে দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি দেশে বেকারত্বের পরিমাণও কমবে।

বর্তমান সরকারের নেয়া পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ রেলওয়ে বিশ্বের অনন্য রেলওয়েতে পরিণত হবে। ‘রূপকল্প -২১’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে। এই উন্নয়নের কাণ্ডারি হিসেবে রয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

পূর্বের সংবাদ

October 2018
M T W T F S S
« Sep    
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  

এই সপ্তাহের আলোকিত পাহাড় প্রথম পাতা

এই সপ্তাহের আলোকিত পাহাড় শেষ পাতা

বিজ্ঞাপন

error: Content is protected !!