খাগড়াছড়ি, , রোববার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০

রাঙ্গামাটিতে শুরু দুই দিনব্যাপী কঠিন চীবর দান

প্রকাশ: ২০১৯-১১-০৭ ২০:০৭:১১ || আপডেট: ২০১৯-১১-০৭ ২০:০৭:১৮

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি॥ রাঙ্গামাটি রাজবন বিহারে দুই দিনব্যাপী বৌদ্ধ ধর্মাবলন্বীদের দানোত্তম কঠিন চীবর দান শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (০৭ নভেম্বর) বিকালে বেইন ঘর এবং চরকায় সূতা কেটে উদ্বোধন করেন চাকমা সার্কেল রাজা ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায়। এ সময় পূর্ণ্যার্থীদের সাধু সাধু ধ্বনিতে মুখরিত পুরো রাজবন বিহার প্রাঙ্গণ। আগামীকাল শুক্রবার বিকালে ভিক্ষু সংঘের কাছে এই চীবর দান করা হবে। এ উৎসবকে ঘিরে বসেছে গ্রামাীন মেলা।

রাজবন বিহারের কার্যকরী কমিটির সভাপতি গৌতম দেওয়ান বলেন,রাজবন বিহারের বিশাল এলাকা জুড়ে প্রায় ৩৯২ টি চরকা ও ১৯৬ টি বেইন স্থাপন করা হয়। এতে শতাধিক মহিলা-পুরুষ এই চীবর প্রস্তুত কাজে অংশ গ্রহণ করে। তিনি আরো বলেন, উৎসবকে ঘিরে যথাযথ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

চাকমা সার্কেল রাজা ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায় বলেন, অন্য অন্য বছরের তুলনায় এ বছরও দেশের বাইরে থেকে কিছু সংখ্যক বিদেশী পূর্ণ্যার্থী এসেছেন। কিন্তু এই বছর একটু জটিলতার কারণে বিদেশ থেকে পূর্ণ্যার্থী আসতে চাইলেও আসতে পারেননি। তাই তিনি আগামী বছর থেকে বিদেশী পূর্ণ্যার্থীরা যাতে সহজে আসতে পারেন তা ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের কাছে আহ্বাহন করেন।

উল্লেখ্য, বৌদ্ধ ভিক্ষুদের পরিধেয় গেরুয়া কাপড়কে বলা হয় চীবর। ২৪ ঘন্টার মধ্যে তুলা থেকে চরকায় সূতা কেটে, সূতা রং করে আগুনে শুকিয়ে সেই সুতায় তাঁতে কাপড় বুনে চীবর তৈরী করে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের দান করা হয় বলে এর নাম কঠিন চীবর দান। পার্বত্য এলাকার বৌদ্ধরা এ উৎসব পালিত হয় প্রাচীন নিয়মে। প্রাচীন নিয়ম মতে ২৪ ঘন্টার মধ্যে চীবর তৈরী করে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের উৎসর্গ করা হয়।

বৌদ্ধ শাস্ত্র মতে, দীর্ঘ আড়াই হাজার বছর পূর্বে গৌতম বুদ্ধের উপাসিকা বিশাখা ২৪ ঘন্টার মধ্যে চীবর তৈরীর প্রচলন করেছিলেন। প্রতি বছর আষাড়ী পূর্ণিমা থেকে কার্তিকী পূর্ণিমা পর্যন্ত তিন মাস বৌদ্ধ ভিক্ষুদের বর্ষাবাস শেষে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের চীবর দান করতে হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭৩ সাল থেকে বুদ্ধের উপাসিকা বিশাখা প্রবর্তিত নিয়মে রাঙ্গামাটি রাজবন বিহারে ৪৬ বছর ধরে কঠিন চীবর দান উৎসব উদযাপিত হয়ে আসছে।

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদেরমতে, জগতে যত প্রকার দান রয়েছে তার মধ্যে এ চীবর দানই হচ্ছে সর্বোত্তম দান। ২৪ ঘন্টার পরিশ্রমে তৈরী করা এ চীবর চাক্মা রাজা ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায় পার্বত্য ধর্মীয় গুরু বনভান্তের স্মৃতির উদ্দেশ্যে শুক্রবার ভিক্ষু সংঘের নিকট এ চীবর উৎসর্গ করবেন। রাতে রাজবন বিহারে ফানুষ উড়িয়ে শেষ হবে এ কঠিন চীবর দান উৎসব।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

পূর্বের সংবাদ

February 2020
M T W T F S S
« Jan    
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031

এই সপ্তাহের আলোকিত পাহাড় শেষ পাতা

বিজ্ঞাপন