খাগড়াছড়ি, , বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮

মহালছড়ির  হাট বাজারের হোটেল রেষ্টুরেন্ট ও বেকারীগুলোতে বিরাজ করছে নোংড়া ও অ-স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, খোলা অবস্থায় বিক্রি হয় পুরানো বাসি মিশ্রিত ইফতার সামগ্রী

প্রকাশ: ২০১৮-০৬-০৮ ১৫:৪৪:৪৭ || আপডেট: ২০১৮-০৬-০৮ ১৫:৪৪:৪৭

দীপক সেন, মহালছড়ি প্রতিনিধি: জেলার মহালছড়ি উপজেলার হাট-বাজার সমূহের এবং উপজেলা প্রশাসনিক এলাকার, বাসষ্টান্ড ও টার্মিনালের মার্কেটের হোটেল, রেষ্টুরেন্ট, বেকারী, কুলিং কর্ণারসহ খাবারের দোকান প্রতিষ্ঠান সমূহে দীর্ঘদিন ধরে বিরাজ করছে নোংড়া ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য দপ্তরের সংশ্লিষ্ট বিভাগের নজরদারি না থাকা আর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ বিষয়ক আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী প্রশাসনের মাঠ পর্যায়ে অনুপস্থিতিকেই দোষারোপ করছেন এলাকার সচেতন মহল। এছাড়াও বর্তমানে পবিত্র রমজান মাসের অপরিহার্য বিশেষ আয়োজন ইফতার সামগ্রীর বাঙ্গালীর প্রিয় খাবার ছোলা, পেঁয়াজু, বেগুণি, জিলাপী, মিহিদানা ইত্যাদি চাহিদা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় এসবও বিক্রি হচ্ছে দেদারাচ্ছে। এসবও তৈরী হয় অস্বাস্থ্যকর ও নোংড়া পরিবেশে আর এসব ইফতার সামগ্রী বিক্রি হয় প্রতিদিন রাস্তার ধারে খোলা আকাশের নিচে।

সরজমিনে দেখা যায় এসব ইফতার সামগ্রীর উপকরণ ছোলাবুট ও অন্যান্য খাবারগুলি প্রতিদিন বিক্রয় শেষে থেকে যাওয়া বাসি ইফতার সামগ্রীগুলি পরবর্তী দিনের ইফতার সামগ্রীর সহিত মিশিয়ে দিয়ে বিক্রয় করা হয় এভাবে বাসি মেশানো ইফতার সামগ্রী দিয়ে ইফতার করে ইতোমধ্যে অনেককে ফুড পয়জনিং এ আক্রান্ত হতে দেখা যায়। এচাড়াও এলাকার হোটেল রেষ্টুরেন্টগুলির মধ্যে বিশেষ করে মহালছড়ি বাজার ও মাইসছড়ি বাজারের হোটেল রেষ্টুরেন্টগুলিতে সরজমিনে তথ্যানুসন্দানে দেখা যায় হোটেল সমূহের রান্নার জায়গায় ময়লা, আবর্জনা দুর্গন্ধ আরও দেখা যায় খোলা অবস্থায় ঢাকনা বিহীন অবস্থায় রাখা হয়, রান্না করা ভাত, তরকারী ও খাবার পানি আর এতে চুলার ছাই ও পোকা মাকর পরে দুষিত হচ্ছে। খাবার পানির ড্রামে ঢাকনা না থাকায় ঐসব জমানো পানিতে মশার বংশ বিস্তার হচ্ছে আর এসব পানি খেয়ে গ্রাহক ও সাধারন মানুষ ম্যালেরীয়া সহ নানা আন্ত্রিক রোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

এলাকার বেকারীগুলোর অবস্থা আরও শোচনীয় এক কথায় মহালছড়ির হোটেল, রেষ্টুরেন্ট, কুলিংকর্ণার বেকারীগুলিতে স্বাস্থ্য বিধি মানা হয় না। এ ব্যাপারে নাম প্রকাশ করার শর্তে জনৈক রেষ্টুরেন্ট মালীক বলেন, কোন ব্যবসায়ী বাসী খাবার বিক্রি না করে ফেলে দেয় না।

বিষয়টা নিয়ে এ প্রতিবেদক ব্যবসায়ীদের নেতা মহালছড়ি বাজার বণিক সমিতির সভাপতি সুনিল দাশ এর মতামত জানতে চাইলে তিনি বলেন, রমজানের আগেই স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সাথে উপজেলা প্রশাসন মত বিনিময় সভা করে সকল ব্যবসায়ীদের সর্তক করেছিলেন, তারপরও যদি ব্যবসায়ীরা আইন না মানে তাহলে প্রশাসন শাস্তি মূলক ব্যবস্তা গ্রহণ করলে তিনি সাগতম জানাবেন।

এলাকার হাট বাজারের খাবারের দোকানগুলিতে স্বাস্থ্য বিধি মানা হচ্ছেনা এমন প্রশ্নে জবাবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প:প: কর্মকর্তা ডা: মিছবাহুল আলম বলেন, স্বাস্থ্য পরিদর্শককে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে বলা হবে।

সর্বশেষ এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তামান্না নাসরীন উর্মির  বলেন, এ ব্যাপারে রমজানের আগেই স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সাথে মত বিনিময় সভা করে সর্তকতা মূলক কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তারপরও যদি আইন অমান্য করে থাকেন তাহলে সংশ্লিষ্ট আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সাপেক্ষে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসন মাঠ পর্যায়ে সরাসরি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনসহ স্বাস্থ্য বিধি লংঘন সংক্রান্ত আইনের প্রয়োগ করবেন। স্থানীয় প্রশাসনের নিকট এটাই প্রত্যাশা করেন এলাকার সচেতন মহলসহ সর্বস্থরের জনগণ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

পূর্বের সংবাদ

November 2018
M T W T F S S
« Oct    
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930  

এই সপ্তাহের আলোকিত পাহাড় প্রথম পাতা

এই সপ্তাহের আলোকিত পাহাড় শেষ পাতা

বিজ্ঞাপন

error: Content is protected !!