খাগড়াছড়ি, , শনিবার, ১৯ জানুয়ারী ২০১৯

মহালছড়িতে ভূমি বিরোধে সংঘর্ষ; বসত বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, গুরুতর আহত ৪ বাঙ্গালী

প্রকাশ: ২০১৮-১২-১৭ ১৩:২৫:২৮ || আপডেট: ২০১৮-১২-১৭ ১৩:২৯:৩০

নিজস্ব প্রতিনিধি: খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে ভূমি বিরোধের জের ধরে উপজাতীয়-বাঙালি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে এবং বসতবাড়ি পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, মহালছড়ি উপজেলার ক্যায়াংঘাট ইউনিয়নের ক্যায়াংঘাট গুচ্ছগ্রামে উপজাতীয় ও বাঙালিদের মধ্যে আগে থেকেই দীর্ঘদিনের ভূমি বিরোধ ছিলো।

গত ৯ ডিসেম্বর ক্যায়াংঘাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিশ্বজিত চাকমা উভয় পক্ষের সদস্যদেরকে ডেকে সীমানা নির্ধারণ করে ভূমি জটিলতা মীমাংসা করে দেন।

কিন্তু রবিবার বিজয় দিবস উদযাপান উপলক্ষে বাঙালিরা ব্যস্ত থাকাকালে (১৬ ডিসেম্বর) দুপুরে হঠাৎ করেই উপজাতীয়রা তাদের নির্ধারিত সীমানা অতিক্রম করে বাঙালিদের ভূমিতে ঘর নির্মাণ করতে আসলে খবর পেয়ে বাঙালিরা বাঁধা দেয় এবং উভয় পক্ষ তর্কে জড়িয়ে পড়ে।

এসময় আগে থেকে ওঁৎপেতে থাকা আনুমানিক ২০০- ২৫০ জন উপজাতিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাঙালিদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এ সময় ২০-২৫ জনকে কুপিয়ে আহত করে এবং মৃত আকেজ আলীর ছেলে মো. আলী হোসেন(৫৫)’র একমাত্র বসত ঘরটি আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে ঘরটি সম্পূর্ণ পুড়ে গেলে প্রায় লক্ষাধিক টাকা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে আলী হোসেন জানায়। উপজাতিদের হামলায় আহতদের মধ্যে মো. খলিল (৩৫), পিতা: এসাহাক আলী, মো. হাফেজ (৩৭), পিতা: মোবারক আলী, মো. সবুর(৪২) পিতা: মৃত. রুস্তম আলী, মো. আয়নাল হক, পিতা মৃত: সোবাহান আলী- এ চারজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য খাগড়াছড়ি জেলা আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে মহালছড়ি জোনের জোন উপ অধিনায়ক মেজর রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে একটি টিম এবং মহালছড়ি থানা থেকে এসআই কামালের নেতৃত্বে একটি টিম ঘটনাস্থলের দিকে যান। এছাড়াও পার্শ্ববর্তী ক্যাম্পে অবস্থানরত নিরাপত্তাবাহিনীরাও খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এ সময় যৌথবাহিনীর আগমনের সংবাদ পেয়ে পাহাড়িরা পালিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে মহালছড়ি থানর ওসি নুরে আলম ফকিরের সাথে কথা বলেলে তিনি জানান, এ ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি। কোনো অভিযোগ করা হলে পুলিশ তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি।

তবে বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় যৌথবাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। এলাকাবাসী জানিয়েছেন, আতঙ্কে রাত কাটাচ্ছেন তারা।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

পূর্বের সংবাদ

January 2019
M T W T F S S
« Dec    
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  

এই সপ্তাহের আলোকিত পাহাড় প্রথম পাতা

এই সপ্তাহের আলোকিত পাহাড় শেষ পাতা

বিজ্ঞাপন