খাগড়াছড়ি, , মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২

লামায় প্রশাসনের ত্রাণ সহায়তা নিলেন সংকটে থাকা ৪০পাহাড়ি পরিবার

প্রকাশ: ২০২২-০৫-০৯ ২৩:২৮:৫৫ || আপডেট: ২০২২-০৫-০৯ ২৩:২৮:৫৯

বিপ্লব কান্তি দাশ, লামা প্রতিনিধিঃ বান্দরবানের লামা উপজেলা প্রশাসনের খাদ্য সহায়তা পেয়েছেন সরই ইউনিয়নে লাংকম ম্রো পাড়া, জয়চন্দ্র ত্রিপুরা পাড়া এবং রেংয়ান ম্রো পাড়ার প্রায় ৪০ পরিবারের লোকজন।

সোমবার (০৯ মে) বিকেল লামা উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এসে তিন পাড়ার লোকজন দলেবলে প্রশাসনের দেওয়া ত্রাণ সামগ্রী গ্রহণ করেন।

লাংকুম ম্রো (৩৬) বলেন, ওদিন আমাদের মন মর্জি ভালো ছিলনা, তাই আমরা ত্রাণ গুলো নেয়নি। আমরা ভুল করেছিলাম। সংলে ম্রো (৪০) (লাংকুম পাড়া) বলেন, আমরা ত্রাণ পেয়ে খুশি। হামমতি ত্রিপুরা (৫০) (জয়চন্দ্র ত্রিপুরা) বলেন, আমরা জয়চন্দ্র ত্রিপুরা পাড়ায় আসছি ৭ বছর হবে। আগে কাঁঠালছড়া ত্রিপুরা পাড়ায় ছিলাম। রুইপাও ম্রো (৩০) (লাংকুম পাড়া) বলেন, ওদিন ইউএনও স্যারের পেছনে কোম্পানির লোকজন ছিল। তাই আমরা ভেবেছি এগুলো লামা রাবার কোম্পানির ত্রাণ সহায়তা। তাই গ্রহণ করেনি।

বুইলি ম্রো (৩৫) (লাংকুম পাড়া) বলেন, আগুনে আমার আনারস ও মিশ্র ফলের বাগান পুড়ে গেছে। ঋণ করে আমরা বাগান করেছি। রেংয়ান ম্রো পাড়ার কারবারী রেংয়ান ম্রো বলে, প্রায় ৩৬টি পরিবার খাদ্য এবং খাবার পানির তীব্র সংকটে আছে। লামা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে খাদ্য সহায়তা দেয়ায় আমরা খুশি। এইভাবে আমরা প্রশাসনকে পাশে চাই।

লামা উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল বলেন, ত্রাণ নেয়ার জন্য গাড়ি রিজার্ভ করে দেয়া হয়েছে। এই তিনটি পাড়ার লোকজনের পাশে সর্বদা আমরা আছি।

লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মোস্তফা জাবেদ কায়সার বলেন, ত্রাণ গুলো ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে দিতে পেরে আনন্দিত। জেলা প্রশাসনের পক্ষে আমি ত্রাণ গুলো ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের হাতে তুলে দিয়েছি। প্রতি পরিবারকে চাল ১০ কেজি, ডাল ৫০০ গ্রাম, লবণ ৫০০ গ্রাম, পানি বোতল ২ লিটার, মুড়ি ১ কেজি, চিড়া ১ কেজি দেয়া হয়েছে। ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

বান্দরবান জেলা শহর থেকে ৪০ কিলোমিটার এবং লামা উপজেলা সদর থেকে থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে সরই ইউনিয়ন। ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ওই তিনটি পাড়া। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বাসিন্দাদের অভিযোগ, ২৬ এপ্রিল লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামে একটি কোম্পানি এলাকায় ৩০০ একরের বেশি জমিতে আগুন দিয়ে দেয়। এতে বিশাল এলাকা বিরানভূমিতে পরিণত হয়। জুম চাষের জমি ও বাগান থেকে বাঁশ ও কাঠ কেটে, শাকসবজি ও বিভিন্ন ফলমূল সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করে তারা চলতেন। কিন্তু সেই জমি, বন, গাছ, ফলদ বাগান সবকিছু পুড়ে যাওয়ায় এখন খাদ্য সংকট তৈরি হয়েছে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!