খাগড়াছড়ি, , বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১

মহালছড়িতে বৌদ্ধদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শুভ মধু পূর্ণিমা পালিত

প্রকাশ: ২০২১-০৯-২০ ২৩:০৮:১২ || আপডেট: ২০২১-০৯-২০ ২৩:০৮:১৯

নিজস্ব প্রতিনিধি, মহালছড়িঃ আজ বৌদ্ধদের অন্যতম ধর্মীয় অনুষ্ঠান শুভ মধু পূর্ণিমা। মধু পূর্ণিমা বৌদ্ধদের অন্যতম একটি ধর্মীয় উৎসব। এ দিনটি বৌদ্ধ ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যময় দিন।

এই শুভ দিনটিকে উদযাপন করতে বৌদ্ধরা বিহার গুলোকে সুন্দরভাবে সাজায়। বৌদ্ধ নর-নারীরা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হয়ে নতুন নতুন জামা পরিধান করে হাজির হয় বৌদ্ধ বিহার গুলোতে। এই দিনটি উপলক্ষে বিহার গুলোতে বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্টানাদি পালন করা হয়।

সারা দেশের ন্যায় খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি উপজেলার বিভিন্ন বিহার গুলোতেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুভ মধু পূর্ণিমা অনুষ্ঠান পালন করেছে বৌদ্ধরা। এই দিনে বিহারে বুদ্ধ পূজা, সীবলি বুদ্ধ পূজা, উপগুপ্ত বুদ্ধ পূজা, বুদ্ধ মূর্তি দান, মধু ও ভেষজ দান , পিন্ড দান, হাজার প্রদীপ দান, অষ্টপরিষ্কার দান, সংঘদান সহ নানাবিধ দান করা হয়। এছাড়াও অনুষ্ঠানে জগতের সকল প্রাণির মঙ্গলার্থে ও বৈশ্বিক মহামারী করোনা থেকে উত্তরণের জন্য বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।

শুভ মধু পূর্ণিমার ঐতিহাসিক তাৎপর্যঃ তথাগত বুদ্ধ কোশাম্বীতে ভিক্ষু-সংঘসহ অবস্থান করার সময় বিনয়ধর পন্থী ভিক্ষু ও সূত্রধর পন্থী ভিক্ষুর মধ্যে বিনয় সম্পর্কিত একটি বিষয় নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এ বিষয় নিয়ে উভয় পন্থী ভিক্ষুদের মধ্যে মতদ্বৈততা চরম আকার ধারণ করলে তথাগত বুদ্ধ তাদের বিবাদ মীমাংসা করার প্রচেষ্টা করেন। কিন্তু উভয় পক্ষ তাদের স্ব স্ব মতের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেন; ফলে বিবাদ মীমাসা করা সম্ভব না হওয়ায় বুদ্ধ কোশাম্বী ত্যাগ করে পারিলেয়্য নামক বনে গমন করেন এবং দশম বর্ষাবাস সেখানে পালন করেন। পারিলেয়্য বনে বর্ষা যাপন কালে একটি একাচারী হাতি প্রতিদিন বুদ্ধের সেবা করত; বনের ফল সংগ্রহ করে বুদ্ধকে দান করত। এ সময় বনের একটি বানর হস্তীরাজ কর্তৃক বুদ্ধকে সেবা করতে দেখে তারও বুদ্ধকে পূজা করার ইচ্ছা জাগে। ভাদ্র পূর্ণিমাতে সে একটি মৌচাক সংগ্রহ করে বুদ্ধকে দান করেন। মৌচাকে মৌমাছির ছানা ও ডিম থাকায় বুদ্ধ প্রথমে মধু পান করলেন না। বানর তা বুঝতে পেরে মৌচাকটি নিয়ে ছানা ও ডিম পরিষ্কার করে পুনরায় বুদ্ধকে দান করলে এবার বুদ্ধ মধু পান করেন। মধুপান করতে দেখে বানর খুশিতে, আনন্দে আত্মহারা হয়ে বৃক্ষ শাখা হতে বৃক্ষশাখায় লাফাতে লাগল। হঠাৎ অসাবধানতাবশতঃ বৃক্ষের শাখা ভেঙ্গে বানর মাটিতে পড়ে গাছের গোড়ায় আঘাত প্রাপ্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করল। বুদ্ধকে মধুদান এবং বুদ্ধের প্রতি প্রসন্নচিত্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করার পর বানর তাবতিংস স্বর্গে দেবপুত্র হয়ে জন্মগ্রহণ করেন। বনে হস্তিরাজ কর্তৃক ভগবান বুদ্ধের সেবাপ্রাপ্তি ও বানরের মধুদানের কারণে এ দিনটি বৌদ্ধদের কাছে স্মরণীয় ও আনন্দ-উৎসবমুখর পুণ্যময় একটি দিন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!