খাগড়াছড়ি, , শনিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২১

আমার স্বামী এখন আর কাজ করতে পারে না: শোভা রাণী দে

প্রকাশ: ২০২১-০১-১৩ ১৮:০৬:৪৯ || আপডেট: ২০২১-০১-১৩ ১৮:০৬:৫১

দীঘিনালা প্রতিনিধি: অনিল দে পেশায় একজন দিনমজুর। খাগড়াছড়িস্থ দীঘিনালা উপজেলার ২নং বোয়ালখালী ইউনিয়নের পশ্চিম কাঁঠালতলী গ্রামের পুরানো জরাজীর্ণ একটি বাড়িতে বসবাস করেন তিনি৷ একসময় দিনমজুরি করে সুখে-শান্তিতে দিনযাপন করলেও বয়সের ভারে এখন আর কাজে যেতে পারেন না। বর্তমানে পরিবারের ৫ সদস্য নিয়ে অভাব-অনটনে পার করছেন প্রতিটি মূহুর্ত। 

বছর দুয়েক পূর্বে অনিল দে’র ছেলে সুজন দে দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরন করে৷ এসময় সে স্ত্রী ও দুই জমজ কন্যা রেখে যায়৷ সন্তানের অকাল মৃত্যুতে ভেঙে পরেন অনিল দে। ধীরে ধীরে অসুস্থতা তাকে গ্রাস করতে শুরু করে। তারপরও সংসারের হাল ছারেননি তিনি৷ নিজে অসুস্থ হয়েও ছুটে চলেন কাজের সন্ধানে। সারাদিনের কঠোর পরিশ্রমের বিনিময়ে মেটান সাংসারিক চাহিদা। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিতে তার আয়-রোজগার পুরোপুরি বন্ধ ছিলো। এ সময় নিজের চিকিৎসার ঔষধও ঠিকভাবে কিনতে পারেননি। সাংসারিক চাহিদা তো দূরের কথা। দুচোখের পানি আঁচল দিয়ে মুছতে মুছতে এসব কথা জানান অনিল দে’র স্ত্রী শোভা রাণী দে। এসময় তিনি আরোও বলেন, বর্তমানে আমার জমজ দুই নাতনী দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে। আমার স্বামী এখন আর কাজ করতে পারেন না। তাই আমরা দূর্বিষহ জীবনযাপন করছি। আমাদের ঘরের টিনের চাল ফুটো হয়ে গেছে। শীত ও বর্ষায় খুবই কষ্ট হয়। যেখনে পরিবারের সদস্যদের দু’বেলা দুমুঠো ভাল খাবারও জুটছেনা। সেখানে ঘরটি মেরামত করবো কিভাবে? আমি সরকার বাহাদুরের নিকট আরজ করছি। আমাদের একটি ঘরের ব্যবস্থা করে দেওয়া হোক। 

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.