খাগড়াছড়ি, , শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

বৌদ্ধমূর্তির বয়সকাল নির্ধারণে প্রত্নতাত্ত্বিক দল ঐতিহ্যবাহী রাজগুরু বিহারে

প্রকাশ: ২০২০-০৮-১৬ ১৭:৫৭:৫১ || আপডেট: ২০২০-০৮-১৬ ১৭:৫৭:৫৩

জহির রায়হান, বান্দরবান: প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের প্রতিনিধি দল আসলেন বান্দরবানের ঐতিহ্যবাহী রাজগুরু বৌদ্ধ বিহারের হাজার বছরের পুরনো বৌদ্ধ মূর্তির বয়সকাল নির্ধারণে পরিদর্শণ করেছেন। দীর্ঘদিন যাবত বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের মনে বৌদ্ধ মূর্তিটি আসল নাকি নকল এনিয়ে ঝেঁকে বসা সন্দেহের অবসান ঘটতে চলেছে। 

১৬ আগস্ট রোববার সকালে প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক ডঃ মোঃ আতাউর রহমানের নেতৃত্বে চার সদস্যের প্রতিনিধি দল রাজগুরু বৌদ্ধ বিহারের মূর্তিগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন এবং নমূনা সংগ্রহ করে নিয়ে যান। 

এসময় সেখানে পার্বত্য মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি, পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লাসহ বৌদ্ধ ভিক্ষু ও বৌদ্ধ সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্রে জানা গেছে, গৌতম বুদ্ধের আমলে নিজের উপস্থিতিতে একদিন একরাতের মধ্যেই নির্মিত বুদ্ধের প্রতিকৃতি, যেটি আড়াই হাজার বছরের পুরনো পঞ্চধাতু দিয়ে ৯টি তৈরি পঞ্চলাহা মূর্তির সাথে সাইজে(ঘন্টি)ও রয়েছে। যা ছিল খুই গুনসম্পন্ন বুদ্ধমুর্তি। মিয়ানমারের আরাকান থেকে এই মূর্তিটি তৎকালীন সময়ে যার মধ্যে তিনটি বাংলাদেশে আনা হয়েছিল। সে তিনটি মধ্যে ঘন্টিসহ একটি মূর্তি সে সময়ে ৯ম বোমাং রাজা সানাইঞো বান্দরবানে নিয়ে এসে রাজগুরু বিহারে সংরক্ষণ করেন। 

তবে স্থানীয় কয়েকজন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী জানান, উচহ্লাভান্তে রাজগুরু বিহারের দায়িত্ব নেয়ার ৫/৬বছরের পর বৌদ্ধ মূর্তিটি স্নান করার সময় দেখা গেলেও ঘন্টিটি আর দেখা যাচ্ছে না। এতে বর্তমানে রাজগুরু বিহারের যে বৌদ্ধ মূর্তি রয়েছে, তা আসলে বুদ্ধের প্রতিকৃতির ঐবৌদ্ধমর্তিটি কিনা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি হয়। 

জানা গেছে, ১৩এপ্রিল উচহ্লাভান্তেরকে চট্টগ্রামে ম্যাক্স হাসপাতালে মৃত ঘোষনার পর বৌদ্ধ মূর্তিটি নিয়ে সন্দেহ ও তর্কবির্তক আবারো জড়ালো হয়ে উঠে স্থানীয় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে। এতে সন্দেহ ও তর্কবির্তকের অবসান ঘটাতে পার্বত্য জেলা পরিষদ ও রাজগুরু বিহার পরিচালনা কমিটি সিদ্ধান্ত নেয় বৌদ্ধ মূর্তির বয়সকাল নির্ধারণের। এর অংশ হিসেবে পুরনো ঐতিহ্যবাহী বুদ্ধমূতির আসলটি কিনা এবং কতসালে নির্মাণ করা হয়েছিল এটির বয়সকাল নির্ধারণে প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের সদস্য রাজগুরু বৌদ্ধ বিহার পরিদর্শন করেন। তারা পুরনো বুদ্ধমূর্তিসহ বেশ কয়েকটি বুদ্ধমূর্তি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেন এবং নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে গেছেন। 

এব্যাপারে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লা জানান, বাংলাদেশ এ ধরনের তিনটি বুদ্ধ মূর্তি রয়েছে। যার মধ্যে একটি বান্দরবান রাজগুরু বুদ্ধ বিহারে সংরক্ষিত আছে। বৌদ্ধ মূর্তির বয়সকাল নির্ধারণ করা হলে এটি দেশের প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে।

রাজগুরু বিহারের সংরক্ষিত বৌদ্ধ মর্তিটির বসয়কাল নির্ধারণের বিষয়টি সত্যতা নিশ্চিত করে প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক ডঃ মোঃ আতাউর রহমান জানিয়েছেন, রাজগুরুতে যেসব পুরানো বৌদ্ধমর্তি রয়েছে। সকল মর্তি তারা পরীক্ষা-নীরিক্ষা করে দেখছেন। তিনি বলেন, বান্দরবানে পুরানো অনেক মুর্তি ও ঐহিত্যবাহী পুরাকীর্তির নিদর্শণ রয়েছে। এসব সংরক্ষণের জন্য প্রত্নতাত্ত্বিক যাদুঘর নির্মাণ করা যেতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.