খাগড়াছড়ি, , সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০

বান্দরবানের দুইটি পৌরসভার দলীয় সমর্থন পেতে তৎপর আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী; নিরব বিএনপি

প্রকাশ: ২০২০-০৯-২৫ ২৩:২৫:৩০ || আপডেট: ২০২০-০৯-২৫ ২৩:২৫:৩২

জহির রায়হান, বান্দরবান: বান্দরবানের দুইটি পৌরসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ২২ফেব্রুয়ারী। মেয়াদ শেষ হওয়ার তিন মাস আগে আগামী ডিসেম্বর মাসে পৌর নির্বাচনের তফসিল ঘোষনার হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। তবে ইতিমধ্যে বান্দরবান জেলা শহর পৌর এলাকা ও লামা পৌর এলাকায় নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। পৌর নির্বাচন ও মেয়র প্রার্থী নিয়ে সরগরম হয়ে উঠেছে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা।

গত ২০১৫সালে দলীয়ভাবে ও দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হওয়ায় এখনই দলীয় সমর্থন পেতে তৎপর বান্দরবানের আওয়ামীলীগের একাধিক প্রার্থী। দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধমেও শীর্ষ নেতা, জেলার নেতা ও ভোটারদের কাছে নিজেদের তুলে ধরার চেষ্টা করছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ৩২.৫৫বর্গকিলোমিটার (১২.৫৭ বর্গমাইল) ৮,০৪৩একর পাহাড় ও সমতল ভূমি নিয়ে পাহাড়ী জেলা বান্দরবান পর্যটন শহর পৌরসভাটি ১৯৮৪সালে ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত হয়। এই পৌর শহরে প্রায় ৭০হাজার পাহাড়ী-বাঙ্গালী মানুষের বসবাস রয়েছে। মোট ভোটার সংখ্যা ২৮হাজার ৯’শ ৩৭জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১৬হাজার ৩’শ ৬২জন ও ১২হাজার ৫’শ ৭৫জন। ২০০১ সালে বান্দরবান পর্যটন শহর পৌরসভাটি ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত হয়। ২০১৫ সালের ৩০শে ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে ৮৭০৩ বেশি ভোট পেয়ে বিএনপি’র প্রার্থীকে হারিয়ে জয়লাভ করেন। এবার আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে শোনা যাচ্ছে অনেকের নাম।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছেন বান্দরবানে বর্তমান পৌর মেয়র ও জেলা সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইসলাম বেবী, জেলা নেতা ও পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য লক্ষীপদ দাশ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর একান্ত সচিব ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি সাদেক হোসেন চৌধুরী, বর্তমান পৌর কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান খোকন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি তৌহিদুর রহমান রাশেদ চৌধুরীর নাম শুনা যাচ্ছে। এসব সম্ভাব্য প্রার্থীরাও আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন চাইবেন বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আওয়ামীলীগ নেতা ও পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য লক্ষীপদ দাশ জানান, আমি অতীতে ও বর্তমানে দল থেকে যেসব দায়িত্ব ও সাংগঠনিক কাজ দিয়েছে। সততা ও নিষ্ঠার সাথে সকল দায়িত্ব পালন করেছি। এছাড়াও বিগত বিএনপি সরকার বিরোধী আন্দোলনে কাজ করতে গিয়ে তিনটি দ্রুত বিচার মামলাসহ ১৯টি মামলা আসামী ছিলাম। সংগঠনের সবচেয়ে ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে আমি অন্যতম একজন। আগামী পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে আমি খুবই আশাবাদী।

পার্বত্য মন্ত্রীর একান্ত সচিব ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি সাদেক হোসেন চৌধুরী জানান, পৌর মেয়র পদে আমি দলীয় মনোনয়ন চাইবো। বিরোধী দলের থাকায় অবস্থায় সরকার বিরোধী আন্দোলনসহ দলের সাংগঠনিক সকল কার্যক্রম আমি সততা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করে আসছি। সকল কিছু বিবেচনা করে দল আগামী নির্বাচনে আমাকে মেয়র পদে মনোনয়ন দিলে বিজয়ী হব বলে আশা করছি।

দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী বর্তমান পৌর কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান খোকন জানান, জনবিচ্ছিন্ন নেতারা যদি পৌরসভার মেয়দ পদে আসে। তাহলে জনগণ ও দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই আগামী নির্বাচনে আওয়ামীলীগ জনবান্ধব ও এলাকার উন্নয়নে কাজ করবে সেরকম নেতাকেই মনোনয়ন দিবে বলে আমি মনে করি। আমি দীর্ঘদিন ধরে পৌর এলাকার জনসাধারণ ও দলের জন্য কাজ করছি। দলীয় মনোনয়ন পেলে আগামী নির্বাচনে আমি পৌর মেয়র পদে নির্বাচন করবো।

এদিকে আওয়ামীলীগের তরুণ নেতা ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি তৌহিদুর রহমান রাশেদ চৌধুরী জানান, জনকল্যানমূলক কাজ ও দলের জন্য তরুণরা ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। আগামী পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে তরুণ প্রার্থীদের পক্ষেই স্থানীয় ভোটা ও দলের নেতাকর্মীদের জনমত বেশি রয়েছে। সেক্ষেত্রে আমি পৌর মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন চাইবো।

এব্যাপারে বর্তমান পৌর মেয়র ও জেলা সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইসলাম বেবী জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করেছে আওয়ামীলীগ। ইতিমধ্যে তৃণমূল নেতাকর্মীদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, পৌর এলাকায় তিনি ব্যাপক উন্নয়ন মুলক কাজ সম্পাদন করেছেন। পৌরবাসীর ব্যাপক জনসমর্থন আওয়ামীলীগ ও ওনার পক্ষে রয়েছে। দল যদি চাই তাহলে তিনি ২য় বার নির্বাচন করতে প্রস্তুত রয়েছেন। পৌরবাসী আবারও সুযোগ দিলে অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করে যেতে চান বলে জানিয়েছেন তিনি।

অপরদিকে জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে বান্দরবানে শুধুমাত্র আওয়ামীলীগ ও বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে ভোটের লড়াই হয়ে আসছে। এবারও স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে মূলত আওয়ামীলীগ ও বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে ভোটের লড়াই হবে বলে স্থানীয়রা জানান। তবে পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে ইতিমধ্যে বান্দরবান জেলা আওয়ামীলীগ জেলা-উপজেলা, ওয়ার্ড পর্যায়ে নেতাকর্মীদের নিয়ে মতবিনিময় সভা, দলীয় বৈঠক, ঘরোয়া বৈঠকসহ বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত বিএনপির শিবিরে কোন প্রকার কার্যক্রম নেই বলেই চলে। এছাড়াও আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা দলীয়

মনোনয়ন পেতে ব্যাপক তৎপর হয়ে উঠলেও বিএনপি’র প্রার্থীরা নিরব ভূমিকায় রয়েছে।

এব্যাপারে বান্দরবান জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র মোঃ জাবেদ রেজা জানান, এখনও নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা হয়নি। আর কেন্দ্রীয় ভাবেও কোন নির্দেশনা আসেনি। নির্বাচন করবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্তমান পৌরসভায় মেয়র পৌর রাজনীতি কঠিন এবং পরিবেশ নষ্ট করে দিয়েছে। তিনি যুব সমাজকে ধ্বংস করে দিয়েছে। নেতাকর্মীরা আমাকে প্রশ্ন করেন আপনি মেয়র থাকা অবস্থায় আমরা একটি বাইসাইকেল কিনারও সুযোগ করে দেননি। অথচ বর্তমান মেয়রের সমর্থকরা প্রতিবছর নতুন নতুন দামী মোটরসাইকেল ক্রয় করছে। তারা আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়ে গেছে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.