খাগড়াছড়ি, , শনিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৮

বদলী বাণিজ্যের কারণে ১১৮জন শিক্ষার্থীর ভাগ্য অনিশ্চিত; মানববন্ধন

প্রকাশ: ২০১৭-১২-১২ ০৯:০৬:৪৯ || আপডেট: ২০১৭-১২-১২ ০৯:০৬:৪৯

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:  বান্দরবানের লামায় চাম্পাতলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বদলীজনিত কারণে মঙ্গলবার সকালে বিদ্যালয় মাঠে মানববন্ধন করেছে স্কুল পরিচালনা কমিটি ও এলাকাবাসি। বার্ষিক সমাপনী পরীক্ষা চলাকালিন সময়ে বদলী আদেশ করায় স্কুল ছাত্র-ছাত্রীর অভিভাবকরা পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে। এতে করে স্কুলের শিশু শ্রেণী হতে ৪র্থ শ্রেণী পর্যন্ত ১১৮ জন শিক্ষার্থী ভাগ্য অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, গত ২ নভেম্বর ২০১৭ইং বান্দরবান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়ের ৩৮.০১.২০০৩. ০০০.১৯.০০৯.১৭.১৮ নং স্মারকে প্রেরিত চিঠি মুলে স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ইলিয়াছ কে দরদরী পাড়া সরকারী প্রাঃ বিদ্যালয়ে বদলী করা হয় এবং লামা উপজেলা শিক্ষা অফিসকে তা বাস্তবায়নের নির্দেশ প্রদান করে। উপজেলা শিক্ষা অফিস ১১ ডিসেম্বর ২০১৭ইং সোমবার উক্ত প্রধান শিক্ষককে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ প্রদান করে। পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে এই বদলী আদেশের কথা জানতে পেরে ক্ষোভে ফেটে পড়ে অভিভাবক ও এলাকাবাসি।
স্কুলের অভিভাবক জুবাইদা খানম, আব্দুর শুক্কুর, জাফর আলম ও সুন্দরী মার্মা সহ অনেকে বলেন, শিক্ষা অফিসের বদলী বাণিজ্যের কারণে আমাদের ছেলে-মেয়েরা কেন ভোগান্তিতে পড়বে ? তাদের সামান্য বিবেক থাকলে পরীক্ষার আগে স্কুলের শিক্ষককে বদলী করতেন না। আমরা প্রধান শিক্ষকের এই বদলী আদেশ প্রত্যাহারের জোর আবেদন জানাতে মানববন্ধন করেছি। আমাদের দাবি না মানলে আগামীকাল থেকে বাচ্চাদের পরীক্ষা দিতে স্কুলে পাঠাব না এবং এর যাবতীয় দায়দায়িত্ব শিক্ষা অফিসকে নিতে হবে।
স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও লামা পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, চাকরীতে বদলী থাকবেই। তা বলে পরীক্ষা চলাকালিন সময়ে বদলী মেনে নেয়া যায়না। স্কুলের সকল শিক্ষকরা মহিলা, শুধু মাত্র প্রধান শিক্ষক ছিলেন পুরুষ। এই শিক্ষকটাকেও বদলী করে আরেকজন মহিলা শিক্ষককে দেয়া হয়েছে। সব মহিলা শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা অসম্ভব। এছাড়া প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ইলিয়াছ স্কুলের প্রতি অনেক যত্বাবান ও দায়িত্ববান ছিলেন।
লামা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার যতীন্দ্র মোহন মন্ডল বলেন, জেলা শিক্ষা অফিসের আদেশ আমরা মান্য করেছি। তবে পরীক্ষার কথা ভেবে তাকে সমাপনী পরীক্ষা শেষে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের জন্য বলা হয়েছে।
এবিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (অ:দা:) রিটন কুমার বড়–য়া বলেন, আমরা বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মহোদয়ের আদেশক্রমে এই বদলী আদেশ প্রেরণ করেছি। চাকরীতে বদলী স্বাভাবিক বিষয়। এটাকে পুঁজি করে কেউ কোমলমতি ছেলে-মেয়েদের পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত করলে ফলাফল ভাল হবেনা। উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে বিষয়টি স্কুল পরিচালনা কমিটির সাথে আলোচনা করে শেষ করতে বলা হয়েছে।

 

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

পূর্বের সংবাদ

October 2018
M T W T F S S
« Sep    
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  

এই সপ্তাহের আলোকিত পাহাড় প্রথম পাতা

এই সপ্তাহের আলোকিত পাহাড় শেষ পাতা

বিজ্ঞাপন

error: Content is protected !!