খাগড়াছড়ি, , সোমবার, ২১ জানুয়ারী ২০১৯

প্রবারণা পূর্ণিমাকে ঘিরে লামায় ব্যাপক প্রস্তুতি

প্রকাশ: ২০১৮-১০-২৩ ০০:৪০:৩১ || আপডেট: ২০১৮-১০-২৩ ০০:৪০:৩১

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি: মঙ্গলবার থেকে আতশবাজি, বর্ণিল ফানুসের ঝলকানি আর মাহারথ টানা উৎসবের মধ্য দিয়ে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা উৎযাপনে সরগরম হয়ে উঠবে মারমাদের পাশাপাশি বৌদ্ধ ধর্মালম্বী বড়ুয়া, চাকমা ও তঞ্চঙ্গারা।

শারদীয় উৎসবের আমেজ ফুরাতেই আরেকটি উৎসব আনন্দে ভাসার অপেক্ষায় পার্বত্যবাসী। বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে লামা উপজেলায় এ উৎসবের মূল আয়োজন চলবে। তিন পার্বত্য জেলার বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী মারমারা ‘ওয়াগ্যোয়াই পোয়েঃ’ নামে প্রবারণা পূর্ণিমা পালন করে থাকে।

পাহাড়ে ২৩ অক্টোবর থেকে ‘ওয়াগ্যোয়াই পোয়েঃ’ এর অনুষ্ঠানিকতা শুরু করা হবে। অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া অনুষ্ঠান, মারমা নাটক মঞ্চায়ন, মন্দিরে ছোয়াইং ও অর্থ দান, বিশেষ প্রার্থণার আয়োজন করা হবে।

এরই ধারবাহিকতায় তারপরের দিন রাতে বর্নিল ফানুসে ঢেকে যাবে লামার আকাশ আর ক্যাং গুলো আলোকিত হয়ে উঠবে হাজারো প্রদীপ আর বাতির জ্যোতিতে। মারমা’রা ‘ছংরাসিহ্ ওয়াগ্যোয়াই লাহ্ রাথা পোয়েঃ লাগাইমে’ (সবাই মিলে মিশে রথযাত্রায় যায়) গানটি পরিবেশন করে মাহারথ যাত্রা শুরু করবে।

এসময় পাংখো নৃত্য পরিবেশন আর রথ টানতে শত শত নৃ-গোষ্ঠীরা রাস্তায় নেমে আসে। রথে জ্বালানো হয় হাজার হাজার বাতি এবং দান করা হয় নগদ অর্থ। একইদিন লামার মাতামুহুরী নদী, লামা খাল, বমু খাল, লুলাইং খাল, পোপা খালে রথ উৎসর্গ করা হয়।

২৫ অক্টোবর সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ক্যাং বা বিহারগুলোতে প্রার্থনা এবং ছোয়াইং দানের জন্য পূণ্যার্থীদের ভিড় লেগে থাকবে। রাতে আদিবাসী অধ্যুষিত পাড়ায় পাড়ায় তৈরি করা হবে বিভিন্ন ধরনের পিঠা-পুলি।
উপজেলা প্রশাসন ও লামা থানার পক্ষ থেকে ‘প্রতি বছরের মতো এবারও নির্বিঘ্নে ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে পালনের সব ধরনের সহায়তা করা হচ্ছে। উৎসব যেন নির্বিঘ্নে পালন করতে পারেন এজন্য উপজেলার প্রতিটি কেয়াং বৌদ্ধ বিহারগুলোতে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

লামা থানার অফিসার ইনচার্জ অপ্পেলা রাজু নাহা বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎসব সম্পন্ন হবে।

প্রসঙ্গত, বৌদ্ধ অনুসারীরা তিন মাসব্যাপী বর্ষাবাস শেষ করে এবং শীল পালনকারীরা প্রবারণা পূর্ণিমার দিনে (ওয়াগ্যোয়াই পোয়েঃ) বৌদ্ধ বিহার থেকে নিজ সংসারে ফিরে যান। এ কারণে আদিবাসীদের কাছে দিনটি বেশ তৎপর্যপূর্ণ। স্থানীয় বসবাসকারীদের ভিন্ন আয়োজনের এই ধর্মীয় উৎসব দেখার জন্য আসা দেশি-বিদেশি পর্যটকের ভীড়ে এসময়টায় বান্দরবানের সবকয়টি উপজাতি পল্লী সরগরম হয়ে ওঠে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

পূর্বের সংবাদ

January 2019
M T W T F S S
« Dec    
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  

এই সপ্তাহের আলোকিত পাহাড় প্রথম পাতা

এই সপ্তাহের আলোকিত পাহাড় শেষ পাতা

বিজ্ঞাপন