খাগড়াছড়ি, , মঙ্গলবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮

প্রকৃতিক বন ও বণ্যপ্রাণী রক্ষায় সকলকে আইন মেনে চলার আহবান জানালেন পাজেপ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী

প্রকাশ: ২০১৮-০৩-১৩ ১৩:০১:৫৭ || আপডেট: ২০১৮-০৩-১৩ ১৩:০১:৫৭

নিজস্ব প্রতিনিধি: বন ও বন্যপ্রাণী আইন সকলকে মেনে চলার অনুরোধ জানিয়ে পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী বলেন, প্রাকৃতিক বন ও বণ্যপ্রাণী আজ ধ্বংসের মুখে। আমাদের প্রকৃতিক বন ও বণ্যপ্রাণী রক্ষা করতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের এ অঞ্চলে ৬৯ প্রজাতির পাখি, ২৭ প্রজাতির পশু, ২২০ প্রজাতির ঔষুধী গাছ, ৬ প্রজাতির বাঁশ ছিল আজ তা প্রায় সবই বিলুপ্তি হয়ে যাচ্ছে।তিনি আজ ১৩ মার্চ সকাল ১১টায় খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের হলরুমে এনজিও সংস্থা জাবারং এর আয়োজনে ‘বন বাঁচলে, থাকবে পানি’ এই প্রতপাদ্যকে সামনে রেখে মৌজাবন বা ভিসিএস সুরক্ষায় জনউদ্যোগ প্রকল্পের অবহিত করন শীর্ষক দিনব্যাপি কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।শুধু আইন দিয়ে নয়, আমাদের স্বদিচ্ছা দিয়েও আমরা প্রাকৃতিক বন রক্ষা করতে পারি। আমাদের জাতি সম্প্রদায়ের জন্য নি:স্বার্থভাবে কাজ করতে হবে। এসময় তিনি আরো বলেন, মৌজাবন রক্ষায় জাবারং এর এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে জেলা পরিষদের পক্ষে সার্বিক সহযোগিতা করার আশ্বাস প্রদান করেন।

এনজিও কাবিদাং এর নির্বাহী পরিচালক ও জাবারং সংস্থার সহযোগী লালসা চাকমার সভাপতিত্বে এ কর্মশালায়  বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন, খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা চেয়ারম্যান চঞ্চুমনি চাকমা, জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা টিটন খীসা,  সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ শামসুল তাবরীজ, রাঙ্গামাটি চাকমা সার্কেল প্রতিনিধি সুদত্ত তঞ্চইঙ্গা, ইউএনডিপি কর্মকর্তা উশিমং চৌধুরী।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার ১৫টি গ্রামীণ সাধারণ বন বা মৌজাবন সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ও টেকসই উন্নয়নের জন্য মৌজাবন সংরক্ষণে জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধি কল্পে এ জনউদ্যোগ প্রকল্পের অবহিতকরণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এই বনের জুমচাষ ও বন্যপ্রাণী শিকার নিষিদ্ধ, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে কাঠ-বাঁশ ও অন্যান্য বনজ সম্পদ সংগ্রহ করা যাবে না ইত্যাদি বৈশিষ্ট্যসমূহ উল্লেখযোগ্য। এ কর্মশালায় হেডম্যান, কার্বারী, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম কর্মী ও বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

 

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার ১৫টি গ্রামীণ সাধারণ বন বা মৌজাবন সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ও টেকসই উন্নয়নের জন্য মৌজাবন সংরক্ষণে জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধি কল্পে এ জনউদ্যোগ প্রকল্পের  গুরুত্বপূর্ণ  তথ্য তুলে ধরা হলো।

পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক সম্পদ
পার্বত্য চট্রগ্রাম প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ একটি অঞ্চল। এখানকার প্রাকৃতিক সম্পদ স্থানীয় পরিবেশ ও প্রতিবেশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কল্যাণেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে। প্রাকৃতিক সম্পদের মধ্যে বন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। জলবাযুর ভারসাম্য রক্ষার্থে একটি দেশের মোট ভূমির শতকরা ২৫ ভাগ এলাকায় বনভূমি থাকা বাঞ্ছনীয়। কিন্তু আমাদের দেশে সেই পরিমাণের বন নেই। দেশের জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এটিও অন্যতম প্রধান কারণ। এতে পরিবেশের উপর বিভিন্ন নেতিবাচক প্রভাব যেমন অনাবৃষ্টি, হঠাৎ অতিবৃষ্টি,ভূমিধস ও বন্যাসহ বিভিন্ন প্রকারের দুর্যোগের সম্মূখীন হতে হয। ফলে মানুষের জীবন জীবিকার ক্ষেত্রগুলো পরিবর্তিত হচ্ছে। খাবার, পানি ও কাজের জন্য মানুষকে কঠিন কষ্টের মুখোমুখি হতে হয়। দেশের মোট বনের প্রায় ৪৩% রয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামে। পার্বত্য এলাকার তৃণমূল পর্যায়ের জনগণ তাদের নিজস্ব জ্ঞান, মূল্যবোধ ও রীতি নীতি পদ্ধতির মাধ্যমে এই ধরনের প্রতিকূল পরিবেশের সাথে অভিযোজন করে নিয়েছে। স্মরণাতীত কাল থেকে তারা তাদের নিজস্ব উপায় ও পদ্ধতিতে গ্রামের আশেপাশের বন ও সেসব বনের প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা করে আসছে।

বন ও জুম ভূমি
একসময় পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীরা বন ও অন্যান্য ভূমির মধ্যে তেমন পার্থক্য দেখতো না। বনাচ্ছাদিত ভূমিতেই আদিবাসীরা পর্যায়ক্রমে জুম চাষ করতো। বনাচ্ছাদিত গাছপালা, ঝিরি ঝরনাসহ প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর বনেই জুম চাষ করা হতো। চারিদিকে ঘন বনের মাঝখানে, ঝোপঝাড়ে আচ্ছাদিত ছড়া বা পানির উৎসের সনিড়বকটে জুম চাষ করা হতো। এ কারণে আগে জুম ও বনের মধ্যে তেমন পার্থক্য করা হতো না। এটি অনেকটা নির্দ্দিষ্ট সময়ের আবর্তে বনের পর্যায়ক্রমিক ব্যবহার হিসেবেই ধরে নেওয়া হতো। এ কারণে অনেক ক্ষেত্রেই একই ভূমি ‘বন’ ও ‘জুম’ হিসেবে পরিচিত ছিল।

গ্রামীণ সাধারণ বন বা মৌজা বন
স্মরণাতীত কাল থেকেই পার্বত্য চট্টগ্রামের তৃণমূল এলাকায় নিজস্ব উপায় ও পদ্ধতিতে গ্রামবাসীরা তাদের গ্রামের আশেপাশের বন ও সেসব বনের প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা করে আসছে। বিংশ শতকের প্রারম্ভে বন ও বনের প্রাকৃতিক সম্পদের উপর চাপ বাড়তে থাকলে জনগণ তাদের গৃহস্থালি চাহিদা পূরণের উপায় হিসেবে তাদের চিরাচরিত মৌজা বন সংরক্ষণ প্রক্রিয়াকে নতুন উদ্যমে শুরু করে। এই বন ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়াকে এলাকাভেদে কোন কোন এলাকায় মৌজা বন, কোথাও পাড়া বান, কোথাও সার্ভিস, কোথাও রিজাব, কোথাও কালিত্র আবার কোথাও কোথাও রাজধানিও বলা হয়। সাম্প্রতিক কালে এই বন ব্যবস্থাপনায় সম্পৃক্ত কমিটির নেতৃবৃন্দ সম্মিলিতভাবে এই ব্যবস্থাপনাকে ‘ভিলেজ কমন ফরেস্ট’ বা ভিসিএফ বা মৌজা বন নামে অভিহিত করা শুরু করেছেন। এই মৌজা বনগুলো ১৯০০ সালের শাসন বিধি ৪১ (এ) নং ধারা মোতাবেক স্বীকৃত একটি বন ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি। চাক্মা সার্কেল চিফ অফিস ও টংগ্যা সংস্থার মাঠ জরিপ মোতাবেক পার্বত্য চট্টগ্রামে বর্তমানে ছোট বড় মোট ৩০০ এর অধিক ভিসিএফ রয়েছে, যাদের আয়তন সর্বনি¤œ ২ একর হতে সর্বোচ্চ ১৫০০ একর পর্যন্ত। এ বনের সাধারণ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে-

১) এখানে জুমচাষ ও বন্য প্রাণী শিকার নিষিদ্ধ।
২) ভিসিএফ থেকে ব্যবসা বা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে কাঠ-বাঁশ ও অন্যান্য বনজ সম্পদ সংগ্রহ করা যাবে না।
৩) কার্বারীর নেতৃত্বে পাড়া/গ্রামবাসীর সমষ্টিগত সিদ্ধান্তে নির্দিষ্ট সময়ে বাঁশ ও কাঠ সংগ্রহ করা হয়। তবে সেগুলো সাধারণত সমষ্টিগত ব্যবহারের জন্যে ব্যবহৃত হয়। যেমন, স্কুল ঘর ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণ ইত্যাদি। অতিরিক্ত বাঁশ ও গাছ থাকলে পরিবারসমূহের মধ্যে বিতরণ করা হয়।
৪) কাঠ ও বাঁশ ব্যতীত অন্যান্য বনজ শাকসবজী আহরণ করা যায়, তবে সেগুলো কোন অবস্থাতেই বিক্রির জন্যে নয়।
৫) গ্রামের গরীব, বিধবা অথবা প্রতিবন্ধী লোকদের জন্যে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়, যাতে তারা গৃহনির্মাণ বা মেরামতের জন্যে গাছপালা ও বাঁশ আহরণ করতে পারে।
৬) কেউ মারা গেলে তার অন্ত্যেষ্টি ক্রিয়ার জন্যে প্রয়োজনীয় গাছ-বাঁশ সংগ্রহ করা যায়।

ভিসিএফ-এর পরিবেশগত, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব
– বাংলাদেশের বন উজার হওয়ার বর্তমান হারকে বিবেচনা করে (ঋড়ৎবংঃৎু গধংঃবৎ চষধহ, ১৯৯৩: ২ অনুসারে বাংলাদেশে বার্ষিক ৩.৩% বন উজার হচ্ছে) পরিবেশ সুরক্ষার স্বার্থে এবং বন সুরক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণের স্বার্থে ভিসিএফ রক্ষণাবেক্ষণ অতীব জরুরি।
– ভিসিএফগুলো জীব বৈচিত্রের অপার আধার। নানা ধরণের প্রাণি ও গাছপালার আবাসস্থল এই ভিসিএফ। আদিবাসী চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধপত্রাদির জন্য নানা প্রজাতির লতা-গুল্ম প্রাকৃতিকভাবে এই বনে গড়ে ওঠে, যেগুলো আধুনিক চিকিৎসা শাস্ত্রে প্রয়োগের অপার সম্ভাবনা রয়েছে।
– ভিসিএফগুলো নানা জাতের কাঠ ও বাঁশেরও উৎস, যেগুলো আমাদের বাড়িঘর নির্মাণ ও আসবাবপত্র তৈরিতে ব্যবহার করা যায়।
– ভিসিএফগুলোতে উৎপনড়ব সম্পদগুলো (ওষুধি লতা-গুল্ম, গাছ-গাছড়া, জ্বালানি কাঠ ও গৃহপালিত প্রাণিখাদ্য) পাহাড়ি জনগোষ্ঠি চিরাচরিত নিয়মে ব্যবহার করায় পার্শ্বস্থ সরকারি সংরক্ষিত ও রক্ষিত বনগুলোর উপর চাপ কিছুটা হলেও হ্রাস করে।
– ভিসিএফগুলো জলবিভাজিকা বা জলের উৎস সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় বিশেষ অবদান রাখে। অনেক ভিসিএফ হতে উৎসারিত হয়ে প্রাকৃতিক ঝরনার উৎপনড়ব হয়েছে এবং ছড়া ও অন্যান্য জলাধারের পানি নিঃসৃত হয়েছে। তাই ভিসিএফ সুরক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণ অতীব জরুরি।
– ভিসিএফগুলো আদিবাসীদের নানা ধর্মীয় বিশ্বাস, সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ, পূজা-অর্চনা ও নানা আনুষ্ঠানিকতার জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানের উৎস।
– গাছপালা ছাড়াও এ ধরণের বনে বিভিনড়ব প্রজাতির পশুপাখি, কীটপতঙ্গ রয়েছে। তাই, ভিসিএফগুলি উদ্ভিদ ও বন্যপ্রাণীর গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল। সমীক্ষা অনুসারে, পার্বত্য চট্রগ্রামের ভিসিএফে প্রায় ৬৯ প্রজাতির পাখি, ২৭ প্রজাতির পশু, ২২০ প্রজাতির ওষুধি গাছ ও লতাপাতা, ৬ প্রজাতির বাঁশ ও ৮০ প্রজাতির বিভিন্ন বনজ গাছ রয়েছে।
– ভিসিএফগুলি পার্বত্য চট্টগ্রামের অনেক জায়গায় বিশেষ করে দূর্গম এলাকায় গ্রামবাসীর পানীয় জল, গৃহস্থালীতে ব্যবহার ও সেচের পানির একমাত্র উৎস।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার ভিসিএফ সুরক্ষায় জনউদ্যোগ
পারিপার্শ্বিক নানা বাস্তবতার কারণে পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীব বৈচিত্র সংরক্ষণে বিশেষ ভূমিকা পালন করা এসব মৌজা বন দিন দিন সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে এবং এসব বনের তিন স্তরের আচ্ছাদন হারিয়ে যাচ্ছে। যেমন জনসংখ্যা বৃদ্ধি, বাজার অর্থনীতি, ভূমি জবর দখল, ভূমি বিরোধ, ভিসিএফ সংরক্ষণে আইন ও নীতিমালা ইত্যাদি না থাকায় এই ভিসিএফ গুলো দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া সরকার কর্তৃক ঘোষিত বন নীতি সাংঘর্ষিক হওয়ায় অত্র এলাকার বন নির্ভর মানুষের বন সুরক্ষায় কোন অংশগ্রহণ নেই। এ অবস্থায় পরিবেশ ও ভিসিএফ সংরক্ষণে নতুন করে সংশ্লিষ্ট মহলকে চিন্তা করতে হচ্ছে। জাবারাং কল্যাণ সমিতি ইতিমধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্তরের অংশীজনদের সাথে মতবিনিময় করে ভিসিএফ সংরক্ষণে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা এবং সেগুলো সমাধানের উপায় চিহ্নিত করেছে। ভিসিএফ এর আইনগত স্বীকৃতি, ভিসিএফ সীমানা বিরোধ মীমাংসা, নতুন ভিসিএফ সৃষ্টিতে সচেতনতা বৃদ্ধি, ভিসিএফ সংরক্ষণ কার্যμম গতিশীল করার জন্য ভিসিএফ নেটওয়ার্ক গঠন, সক্ষমতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রম, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিরূপণ বিষয়ক সচেতনতামূলক প্রশিক্ষন প্রদান ইত্যাদি কার্যক্রম বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা হতে উত্তরণের উপায় হিসেবে
চিহ্নিত করা হয়েছে। এই সুপারিশসমূহের আলোকেই গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘স্ট্রেংথেনিং ইন্ক্লুসিভ ডেভেলপমেন্ট ইন চিটাগাং হিল ট্র্যাক্টস’ প্রকল্পের আওতায় খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় মৌজা বন সুরক্ষায় জনউদ্যোগ কার্যক্রম বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

প্রকল্পের লক্ষ্য: খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার ১৫ টি গ্রামীণ সাধারণ বন (ভিসিএফ) বা মৌজা বন সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

প্রকল্পের উদ্দেশ্য: টেকসই উনন্ননের জন্য ভিসিএফ ও এর সম্পদ সংরক্ষণে ভিসিএফনির্ভর জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধি।

প্রকল্পের বাজেট: ৫৬,৯৮,১৩৫ টাকা (কথায়: ছাপ্পান্ন লক্ষ আটানব্বই হাজার একশত পঁয়ত্রিশ)।

প্রকল্পের মেয়াদ: ডিসেম্বর ২০১৭ থেকে জুন ২০১৯

প্রকল্পের প্রত্যাশিত ফলাফল
১) গ্রামীণ সাধারণ বন বা মৌজা বনসমূহের সীমানা নির্ধারনের মধ্য দিয়ে আয়তন সুনিশ্চিত হবে এবং প্রত্যেকটি গ্রামীণ সাধারণ বন বা মৌজা বনের জিপিএস ম্যাপিং করা হবে।
২) প্রকল্পের সুবিধাভোগী ভিসিএফ সমূহের প্রত্যেকটির আইনগত স্বীকৃতি নিশ্চিত হবে।
৩) গ্রামীণ সাধারণ বন বা মৌজা বনসমূহের কমিটির সদস্যদের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
৪) পার্বত্য চট্টগ্রাম ভিসিএফ নেটওয়ার্কের নেতৃবৃন্দের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
৫) ভিসিএফ নির্ভর জনগোষ্ঠীর জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যু এবং এর প্রভাবজনিত কারণে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অভিযোজনের সক্ষমতা ও সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে।

প্রকল্পভূক্ত মৌজাবনসমূহ
১) তিন্দুকছড়ি মৌজা বন, ২২৩ নং তিন্দুকছড়ি মৌজা, গুইমারা উপজেলা;
২) উল্টাছড়ি বিহার পাড়া বন, ২৪৯ নং ক্যয়াংঘাট মৌজা, মহালছড়ি উপজেলা;
৩) করল্যাছড়ি সারানাথ বনবিহার পাড়া বন, ২৪৯ নং ক্যয়াংঘাট মৌজা, মহালছড়ি উপজেলা;
৪) পোমাং পাড়া ভিসিএফ, ১৯১ নং তাইন্দং মৌজা, মাটিরাঙ্গা উপজেলা;
৫) ডানে ধনপাদা মৌজা বন, ৪৮ নং ধনপাদা মৌজা, দীঘিনালা উপজেলা;
৬) নুনছড়ি মৌজা বন, ৩৩ নং নুনছড়ি মৌজা, দীঘিনালা উপজেলা;
৭) পাবলাখালি মৌজা বন, ৫২ নং পাবলাখালি মৌজা, দীঘিনালা উপজেলা;
৮) জারুলছড়ি-বাঘাইছড়ি মৌজা বন, ৪৯ জারুলছড়ি এবং ৫০ নং বাঘাইছড়ি মৌজা, দীঘিনালা উপজেলা;
৯) বাঘাইছড়ি রবিচন্দ্র েেকার্বারী পাড়া বন, ৫০ নং বাঘাইছড়ি মৌজা, দীঘিনালা উপজেলা;
১০) মধ্য ধনপাদা মৌজা বন, ৪৭ নং মধ্য ধনপাদা মৌজা, দীঘিনালা উপজেলা;
১১) দুরছড়ি পাড়া রিজাব, ৮০ নং দুরছড়ি মৌজা, লক্ষিছড়ি উপজেলা;
১২) নির্ভ গাঝ ছড়া রিজাব, ৮৯ নং লক্ষিছড়ি মৌজা, লক্ষিছড়ি উপজেলা;
১৩) বড় নাইল পাড়া রিজাব, ৮৩ নং ধুরুং মৌজা, লক্ষিছড়ি উপজেলা;
১৪) যাদুরাম পাড়া বন, ২৬৩ নং কমলছড়ি মৌজা, খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা;
১৫) কমলছড়ি মুখ মৌজা বন, ২৬৪ নং ভুয়াছড়ি মৌজা, খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

পূর্বের সংবাদ

December 2018
M T W T F S S
« Nov    
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  

এই সপ্তাহের আলোকিত পাহাড় প্রথম পাতা

এই সপ্তাহের আলোকিত পাহাড় শেষ পাতা

বিজ্ঞাপন