খাগড়াছড়ি, , রোববার, ১৯ আগস্ট ২০১৮

পাহাড়ে অস্ত্রধারীরা এখনো বিরাজমান, অস্ত্র নিয়ে মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে: রাঙ্গামাটি রিজিয়ন কমান্ডার

প্রকাশ: ২০১৮-০৫-১৬ ২১:৪১:৩২ || আপডেট: ২০১৮-০৫-১৯ ১৫:৫৪:৩৮

নিজস্ব প্রতিনিধি,রাঙ্গামাটি: পাহাড়ে অস্ত্রধারীরা এখনো বিরাজমান এখানে-যেখানে অস্ত্র নিয়ে মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, মানুষকে নিষ্পেষিত করছে। পাহাড়ে শান্তিচুক্তির পর অস্ত্রের কোন স্থান থাকার কথা নয়। এটা কেমন যুক্তি ? আমি শান্তিচুক্তি চাইবো অথচ আমি অস্ত্র ছাড়বো না। রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলার হেডম্যান কার্বারীদের সাথে মত বিনিময় সভায় প্রধান অতিথি রাঙ্গামাটি জেলার রিজিয়ন কমান্ডার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মোঃ গোলাম ফারুক এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ১৯৯২ সাল থেকে যারা শান্তিচুক্তির জন্য চেষ্টা করেছেন। অন্যায়ভাবে যারা অস্ত্র সংগ্রহ করেছেন। তারা কিন্তু ১৯৯২ সাল থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত এই পাচঁ বছর কোন যুদ্ধ করেনি। এই পাঁচ বছর তারা একতরফাভাবে অস্ত্র বিরতি করেছিল। কারণ তাদের দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছিল। এমন নয় যে,তারা যুদ্ধ করে জয় লাভ করে শান্তিচুক্তির জন্য সরকারকে বাধ্য করেছিল। কিন্ত তাদের দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার কারণে শান্তিচুক্তিতে গেছে। সুতারাং, কোন কারণ নেই যে, তারা শক্তিশালী। তারা শেষ হয়ে যাওয়ার আগে বেঁচে গেছে। কিন্তু ঔই পাঁচ বছর চাঁদা দিতে হয়েছে । শুধু তাই নয় শান্তিচুক্তির পর আমরা যে শান্তি পাওয়ার কথা সে শান্তি আপনারা পাননি। শুধু কিছু মুষ্টিমেয় যারা বিভিন্ন পদ-পদবী, চাকুরি, পুনবার্সন পেয়েছে তারাই এই শান্তিচুক্তির সুফল পেয়েছে। আমি যদি শান্তিচুক্তির করলামই তাহলে অস্ত্র রাখি কি করে। এখন যদি রাষ্ট্র বলে, তোমরা অস্ত্র ধারণ করে রেখেছো, শান্তিচুক্তি এখন আর হবে না। তাহলে কি রাষ্ট্র অন্যায় করবে ?

আজ বুধবার (১৬ মে) সকালে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট সম্মেলন কক্ষে মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, রাঙ্গামাটি সদর জোন কমান্ডার রেদুওয়ানুল ইসলাম,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এস এম শফি কামাল, রাঙ্গামাটি হেডম্যান কার্বারী এসোশিয়েনের সভাপতি চিংকিউ রোয়াজা, পৌর মেয়র মোঃ আকবর হোসেন চৌধুরী প্রমূখ।

বিগ্রেডিয়ার গোলাম ফারুক হেডম্যান কার্বারীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, শান্তিচুক্তির পর পাহাড়ে যে শান্তি সুবাতাস বয়েছে। তাহলে কেন আপনারা প্রশ্ন করেন না ? শান্তিচুক্তির পর কেন চাঁদা দিতে হবে। শান্তিচুক্তির পর কেন আমাদের জীবন অশান্তি হবে ? আপনি হয়তো এককভাবে শাক্তিহীন। কিন্তু আপনারা যদি ঐক্যবদ্ধ হয়ে বাংলাদেশের জঙ্গি বিরোধী আন্দোলনের মত এলাকার সকল কার্বারী এক সাথে জেগে উঠেন তাহলে অস্ত্রবাদ, সন্ত্রাসীগোষ্ঠিরা পিছ পা হবে এবং তারা পালিয়ে যেতে বাধ্য। তাই পাহাড়ে আপমর জনতা আইনশৃংঙ্খলা বাহিনীর পাশে দাঁড়ান। প্রত্যেক এলাকায় সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলুন এবং অস্ত্রবাদীকে না বলুন। এখন থেকে সবাই একসাথে সন্ত্রাস,অস্ত্রবাদ এবং চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে রুঁখে দাঁড়ান।

মতবিনিময় সভার আগে জেলার বিভিন্ন উপজেলা হতে আগত হেডম্যান-কার্বারীরা তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

পূর্বের সংবাদ

August 2018
M T W T F S S
« Jul    
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  

এই সপ্তাহের আলোকিত পাহাড় প্রথম পাতা

এই সপ্তাহের আলোকিত পাহাড় শেষ পাতা

বিজ্ঞাপন

error: Content is protected !!