খাগড়াছড়ি, , শনিবার, ৬ মার্চ ২০২১

বিনা পয়সায় ৪০ হাজার সোলার বিতরণ করা হবে… পার্বত্য মন্ত্রী বীর বাহাদুর

প্রকাশ: ২০২১-০১-১৫ ২৩:০৮:৩২ || আপডেট: ২০২১-০১-১৫ ২৩:২৭:১১

মোঃ আরিফুর রহমান, রাঙ্গামাটি:
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি বলেছেন, পার্বত্য অঞ্চলে অনেক দূর্গম এলাকা রয়েছে যেখানে কয়েক বছরের মধ্যে বিদ্যুতের লাইন পৌছানো সম্ভব হবে না। যে সব এলাকায় বিদ্যুতের লাইন পৌছানো সম্ভব হবে না সেসব এলাকায় বিনা পয়সায় সোলার বিতরণ করা হবে।

শুক্রবার (১৫জানুয়ারি) বিকেলে রাঙ্গামাটি চিং হ্লা মং মারী স্টেডিয়ামে বঙ্গবন্ধু এ্যাডেভঞ্চার উৎসব ২০২১ এর পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে ৪০ হাজার সোলার বিতরণ করবে। এর মধ্যে ১১ হাজার সোলার বিতরণ করা হয়েছে। যাতে পাহাড়ের দুর্গম মানুষ অন্ধকারছন্ন না থাকে। ২২০০ শিক্ষার্থীকে উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে ২ কোটি টাকা শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। সামনেও তা অব্যাহত থাকবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাহাড়ের পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের আরো গতিশীল করার জন্য বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ স্থাপিত করে দিয়েছেন যাতে শিক্ষার্থীরা উচ্চতর শিক্ষা লাভ করতে পারে। মন্ত্রী আরও বলেন, পাবর্ত্য চট্টগ্রাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরুপ লীলাভ’মি। পার্বত্যঞ্চল সম্প্রতি, মৈত্রি ও ভ্রাতৃেত্ব জায়গা। দীর্ঘ দুই দশকের অশান্ত পার্বত্যঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দূরদর্শীতায় ১৯৯৭ সালের ২রা ডিসেম্বর পার্বত্য চুক্তি তথা শান্তিচুক্তি সম্পাদিত হয়। পাহাড়ে শুরু হয় শান্তির মাতাবরণ। শান্তি চুক্তির ধারা গুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে পার্বত্যঞ্চলে শান্তি ও উন্নয়নের লক্ষে বর্তমান সরকার আন্তরিক ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে পার্বত্য চট্টগ্রামও পিছিয়ে নেই। পাহাড়ের বাসিন্দাদের আত্মসামাজিক উন্নয়ন ঘটছে। শান্তি, মৈত্রি, সম্প্রতি থাকলে আমাদের অঞ্চল আরো এগিয়ে যাবে। আমাদের সন্তানরা এগিয়ে যাবে। আমরা সংঘর্ষ চাই না, মৈত্রি চাই। আমি চাই আমাদের সন্তানরা প্রধানমন্ত্রীর আশেপাশে থাকবে।
তিনি আরও বলেন, তরুণদের মাঝে একাত্নতা, শৃংঙ্খলা, পরোপকার, সহনশীলতাসহ বিভিন্ন গুণের বিকাশ ঘটিয়ে সাহস ও দেশপ্রেম জাগ্রত করতে যে মহত উদ্দেশ্য সামনে রেখে এই কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে তা সফল হয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে সাড়া দিয়ে আপাময় জনগণ যেভাবে কাদেঁ কাদ মিলিয়ে শোষণ, বৈষম্যহীন,সুখি, সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তোলার প্রত্যয়কে বুকে ধারণ করে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিল তেমনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বুকে ধারণ করে উন্নত, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলার দায়িত্ব নিতে হবে তরুণদেরকেই। সততা, দেশপ্রেম ও নিষ্ঠার সাথে যার যার অবস্থান থেকে দেশ মাতৃকার কল্যাণে নিজেদেরকে নিয়োজিত করতে পারলেই আমরা দ্রুতই জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করতে পারবো।

এসময় মন্ত্রী খাবারের জন্য প্রতিযোগিদের এক লক্ষ টাকা, আয়োজকদের জন্য দুই লক্ষ টাকা, জাতীয় সঙ্গীত যারা পরিবেশন করেছে তাদের মিষ্টি মূখ করার জন্য জন্য পঞ্চাশ হাজার টাকা প্রদান করেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড এর চেয়ারম্যান নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরার (এনডিসি) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য রাখেন, বোর্ডের চেয়ারম্যান ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল আলম নিজামী। বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অংসুই প্রু চৌধুরী, তথ্য কমিশনের সচিব সুদত্ত চাকমা, জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশীদ, পুলিশ সুপার মীর মোদ্দাছ্ছের হোসেন। মঞ্চে অনুভূতি ব্যক্ত করেন, বরিশাল থেকে আগত প্রতিযোগী তৌহিদুল ইসলাম, রাঙ্গামাটির প্রতিযোগী মুন দেওয়ান, বান্দরবানের প্রতিযোগী জেরিৎ বম, নঁওগা থেকে আগত প্রতিযোগী ওয়াহিদা বিনতে রোকন। পরে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী সকলের মাঝে ক্রেস্ট ও সনদ প্রদান করা হয়। এরপর ফানুস উড়ানো ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.