খাগড়াছড়ি, , বুধবার, ২৩ মে ২০১৮

পার্বত্য চট্টগ্রামকে অশান্ত করতে পরিকল্পিত অপপ্রচারে স্বার্থান্বেষী মহল

প্রকাশ: ২০১৮-০৪-২৭ ১১:৫৮:০০ || আপডেট: ২০১৮-০৫-০৮ ২০:৩৮:০৫

ক। পার্বত্য উপজাতীয় একটি দল সদ্য স্বাধীন একটি দেশে স্বায়ত্বশাসন দাবি করে ১৯৭২ সালের ২৯ জানুয়ারি। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর সদ্য স্বাধীন হওয়া দেশের রাষ্ট্র প্রধান তা মেনে নিতে পারেন নি সঙ্গত কারণেই। কেননা, এই উপজাতি গোষ্ঠীরই একটা বড় অংশ মুক্তিযুদ্ধে দেশ বিরোধী অবস্থান নিয়েছিলো।

খ। পার্বত্য চট্টগ্রামে স্বায়ত্বশাসনের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে উপজাতি মহল কর্তৃক ১৯৭২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারী গঠিত হয় উপজাতি সংগঠন PCJSS তথা পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি।

গ। রাষ্ট্রের সাথে বিদ্রোহ করতে জনসংহতি সমিতি তার সশস্ত্র সংগঠন “শান্তি বাহিনী” গঠন করে ১৯৭৩ সালের ৭ জানুয়ারি।

ঘ। ১৯৭৪ সাল নাগাদ বিপুল সংখ্যক উপজাতিদের সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে শান্তিবাহিনীভুক্ত করা হয়। নিয়মিত বাহিনী ছাড়াও সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ প্রাপ্তদের নিয়ে মিলিশিয়া বাহিনী গঠিত হয়। শান্তিবাহিনী ও মিলিশিয়া বাহিনীকে সহায়তার লক্ষ্যে গ্রাম পঞ্চায়েত এবং বহুসংখ্যক যুব সমিতি ও মহিলা সমিতি গড়ে তোলা হয়। সামগ্রিক প্রস্তুতি গ্রহণ শেষে শান্তিবাহিনী ১৯৭৬ সালের প্রথমদিকে সশস্ত্র তৎপরতা শুরু করে। শান্তিবাহিনী পার্বত্য এলাকায় বসবাসকারী বাঙালিদের আক্রমণ ও হত্যা, নিরাপত্তা বাহিনীকে আক্রমণ, তাদের মতাদর্শ বিরোধী উপজাতীয়দের হত্যা, সরকারি সম্পদের ক্ষতিসাধন, অপহরণ ও বলপূর্বক চাঁদা আদায়সহ বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ জোরদার করে।

এখন কথা হলো, শান্তিবাহিনী গঠন করে পাহাড়ে অরাজকতা সৃষ্টির ঐ সময়ে তো পাহাড়ে কোন বাঙালি পূনর্বাসন করা হয়নি। তাহলে এখন কেন উপজাতি নেতারা বাঙালি পূনর্বাসনকে পার্বত্য সমস্যার মূল বিষয় বলে আস্ফালন করছে? স্বায়ত্বশাসনের দাবিতে সশস্ত্র সংগঠন তৈরী করে পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালি, বেসামরিক প্রশাসন আর সেখানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিয়োজিত নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হামলার অর্থই বা কি? সাধারণ উপজাতিরা কি এই স্বায়ত্বশাসনের পক্ষে ছিলো বা আছে? নাকি শুধুমাত্র কতিপয় দেশ বিরোধী নেতারা তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির জন্য শান্তিবাহিনী গঠন ও বর্বরতা শুরু করেছিলো?

পাহাড়ের সেই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তৎকালীন রাষ্ট্রপ্রধান দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়ে পাহাড়ে বাঙালি পূনর্বাসন করেন। সেই থেকে এখন পর্যন্ত পার্বত্য বাঙালিরা উপজাতি ঐসব সশস্ত্র সংগঠনের অস্ত্রের মুখে খুন, গুম, ধর্ষণ, চাঁদাবাজির শিকার হয়েও দাঁতে দাঁত চেপে পাহাড়ে পড়ে আছে শুধুমাত্র বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য। পাহাড়ে যদি বাঙালি না থাকতো তবে উপজাতি এই সব সশস্ত্র সংগঠনগুলো এতদিনে আমাদের এক-দশমাংশ মাতৃভূমি ছিনিয়ে নিয়ে যেতো। সুতরাং পাহাড়ে বাঙালি পূনর্বাসন পার্বত্য সমস্যার সৃষ্টি করেনি, পার্বত্য সমস্যা সৃষ্টি করেছে ক্ষমতালোভী উপজাতি শোষকগোষ্ঠী।

আসলে পার্বত্য চট্টগ্রামকে নিয়ে আলাদা দেশগঠনের যে চক্রান্ত করছে উপজাতি স্বার্থান্বেষী মহল তার প্রধান বাঁধা হলো এই পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালির অবস্থান। এ কারণে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে বাঙালিদের উচ্ছেদ করার জন্য নানা ষড়যন্ত্র আর অপপ্রচারে লিপ্ত এই সমস্ত স্বার্থান্বেষী মহল। তারা বাঙালিদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাতে গিয়ে কিছু সস্তা ও দুরভিসন্ধির আশ্রয় নিচ্ছে।

যেমনঃ পার্বত্য বাঙালিদের তারা বলে- ‘অনুপ্রবেশকারী/বহিরাগত বাঙালি মুসলমান’। তাদের এই প্রচারণা জনমনে চরম হাসির উদ্রেক সৃষ্টি করে। নিজ দেশে কেউ কি কখনো অনুপ্রবেশকারী/বহিরাগত হয়? এটা দিয়ে কি উপজাতি সন্ত্রাসীরা পরোক্ষভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামকে বাংলাদেশ থেকে আলাদা ভাবা শুরু করে দিয়েছে? নাকি বাঙালিদের নামের সাথে অনুপ্রবেশকারী/বহিরাগত তকমা লাগিয়ে তারা নিজেরা যে মায়ানমার, ভারত আর চীন থেকে এসে এই দেশে বসত গড়া শুরু করেছে সেটা আড়াল করতে চায়?

এই সব বহিরাগত উপজাতিদের বাংলাদেশের সীমান্ত অতিক্রম করার জন্য কোন পাসপোর্ট দরকার হয় না। এরা অনায়াসেই ভারত ও মায়ানমারে যাতায়াত করে থাকে। এদের অধিকাংশেরই আত্নীয় স্বজন ঐ সব দেশে বসবাস করছে। বান্দরবন জেলার বিভিন্ন স্থানের উপজাতি বাসিন্দাদের প্রলোভন দেখিয়ে মিয়ানমারে নিয়ে গিয়ে রোহিঙ্গাদের ফেলে আসা ভূমিতে পুনর্বাসন ও সেদেশের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আরাকান আর্মিতে নিয়োগদানের জন্য চিঠি ইস্যুর খবর ইতোমধ্যে জাতীয় মিডিয়াগুলোতে আলোচিত হয়েছে (https://wp.me/p805YD-1Sl)। এমনকি সম্প্রতি প্রকাশিত এক সংবাদ হতে জানা যায় যে, মিয়ানমার সেনাবাহিনীতে তিন শতাধিক বাংলাদেশী উপজাতি যুবককে নিয়োগ দেয়া হয়েছে (https://wp.me/p805YD-1V0)।

পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালিদের উপস্থিতির কারণে উপজাতিদের সংস্কৃতি চর্চা ব্যহত হচ্ছে বলেও উপজাতি সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন স্থানে অপপ্রচার চালিয়ে বেড়াচ্ছে। শুধুমাত্র পার্বত্যাঞ্চলের বাঙালিদের ক্ষেত্রেই তাদের এই এলার্জি। অথচ হাজার হাজার উপজাতি যখন সমতলে চাকুরী এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করতে আসে তখন তাদের সংস্কৃতি নষ্ট হয় না। বরং এরাই উপজাতি কোটা সুবিধা আদায় করে সমতলে চাকুরী এবং পড়ালেখা করতে যাবার জন্য সোচ্চার থাকে।

বাস্তবে, বাংলাদেশের মত জনসংখ্যা সমস্যায় নুয়ে পড়া একটি দেশের পক্ষে এক দশমাংশ এলাকাকে কোন অবস্থাতেই হাতে গোনা কয়েক লক্ষ বহিরাগত উপজাতির কাছে সংস্কৃতি চর্চার নামে ছেড়ে দেয়া সমীচীন নয়। বরং, পাহাড়ের সৌন্দর্য ও সম্পদকে কাজে লাগিয়ে পর্যটন শিল্পসহ অন্যান্য শিল্প কারখানা গড়ে তুলতে হবে। এতে করে পার্বত্য চট্টগ্রামে উপজাতি-বাঙালি নির্বিশেষে সমগ্র জাতি উপকৃত হবে। একবিংশ শতাব্দীর এই যুগে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ যখন পর্যটনকে কাজে লাগিয়ে উন্নতির দিকে ধাবিত হচ্ছে তখন উপজাতি একটি বিশেষ স্বার্থান্বেষী মহল পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নে বাঁধা ও বিভেদের সৃষ্টির ষড়যন্ত্রে বিভোর।

দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন- অতি পুরানো একটি প্রবাদ। পার্বত্য চট্টগ্রামের এই সব ষড়যন্ত্রকারীদেরকে কঠোর হস্তে দমন না করলে শান্তিপ্রিয় সাধারণ উপজাতি-বাঙালি জনগণ পার্বত্য চট্টগ্রামে স্বস্তি পাবে না। স্বস্তি এবং শান্তি না থাকলে পার্বত্যাঞ্চলে আকাঙ্ক্ষিত উন্নয়নও সম্ভব হবে না। তাই সরকারের কাছে আকুল আবেদন- দুষ্টের দমন শিষ্টের পালনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। পাশাপাশি, পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তিপ্রিয় উপজাতি ও বাঙালিদেরকে বলছি, আসুন সবাই মিলে শপথ গ্রহণ করি যে- ‘ষড়যন্ত্রকারীদের ফাঁদে পা না দিয়ে উপজাতি-বাঙালি নির্বিশেষে সবাই মিলে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম তথা দেশের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করি’।

লেখক: রাঙামাটি থেকে

Leave a Reply

পূর্বের সংবাদ

May 2018
M T W T F S S
« Apr    
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  

এই সপ্তাহের আলোকিত পাহাড় প্রথম পাতা

এই সপ্তাহের আলোকিত পাহাড় শেষ পাতা

বিজ্ঞাপন

error: Content is protected !!