খাগড়াছড়ি, , বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ ২০১৯

পানছড়িতে ভূট্টা চাষে ব্যাপক সাফল্য

প্রকাশ: ২০১৯-০২-২৭ ১১:৫৩:০৬ || আপডেট: ২০১৯-০২-২৭ ১১:৫৩:১১

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রতি বছর মৌসুমী ফসল মুলা,বেগুন, মরিচসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করে তেমন কোন সাফল্য পান না কৃষক জগদিশ চাকমা। অধিক লাভের আশায়, তাই জমি ভেদে সারা বছরই ধান চাষের পাশাপাশি এক একর জমিতে ভূট্টা চাষ করেন।

সরজমিনে দেখা যায়, প্রতি একরে ৫০ থেকে ৬০ হাজার ভূট্টা গাছ হয়, প্রতি গাছে কমপক্ষে ২টি করে ভূট্টা মোচা হয়। প্রতি গাছে একটি মোচা হিসেবে ৫০ -৬০ হাজার,০২টি করে মোচা হলে এক লাখ থেকে এক লাখ ২০ হাজার মোচা পাওয়া যায়। দমদম গ্রামের কৃষক আলী আজ্জন,ধন্য চন্দ্র পাড়ার জগদিশ চাকমা, সূতকর্মা পাড়ার শান্তি মনি চাকমা জানান, প্রতি কানিতে (৪০ শতকে) প্রায় ২০-২৫ হাজার টাকা খরচ হয়। প্রথম জমি চাষ-সেচ দিয়ে তৈরী হলে, সারি করে ভূট্টার বীজ বপন করি, পাশাপাশি অল্প সময়ের শাঁক-সব্জির বীজ দিই। প্রতি মাসেই সার ও শুকনো মৌসুমে সেচ দিতে হয়। এক-দেড় মাসে অন্নান্য শাক তোলা হয়। ৩-৪ মাসে ভুট্টার শিশ আসে। চার/সাড়ে চার মাসে বাজারে বিক্রির উপযুক্ত হয়। ৬ মাসে বীজ ও সংরক্ষণের জন্য পরিপক্ক হয়। ভূট্টার মোচা বাজারে কাঁচা ও সিদ্ধ করে বিক্রি করা হয়। প্রতিটি মোচা ৮/১০ টাকা করে হলে কানি (৪০ শতক) প্রতি আড়াই লাখ টাকার মোচা বিক্রি হয়। শুকনো ভূট্টাগুলো প্রতি কেজি ২৫-৩০ টাকা করে জমি থেকে কিনে নেন। কৃষক জগদিশ চাকমার দাবি, ভূট্টা চাষে তাদের খরচের চেয়ে ১০ গুনেরও বেশী লাভ হয়। পূর্ব গোষ্টির সাথে তাল মিলিয়ে পাহাড়ের সমতল ভূমিতে আমরা ভূট্টা চাষে উদ্বুদ্ধ হয়েছি। কৃষক মাঠ স্কুলে কৃষি কর্মকর্তা ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা চাষাবাদ সর্ম্পকে আলোচনা করেন। ভুট্টা চাষে এ সাফল্য দেখে এলাকার অনেক কৃষক আগামীতে ভূট্টা চাষ করবেন বলে ভূট্টা চাষীরা জানান। ইয়ন এ্যাগ্রো ইন্ডাষ্ট্রির মাঠ পর্যায়ে সার-কীটনাশক ও বীজ নিয়ে কাজ করেন অসম চাকমা । তিনি জানান – পানছড়ি উপজেলায় ১২ একর জমিতে ভূট্টা চাষ হয়েছে। ভূট্টা ব্যবসায়ীরা শুকনো ভুট্টাগুলো কিনে চট্টগ্রাম সীতাকুন্ড এলাকায় কুমিরা নামক স্থানে ফ্যাক্টরীতে বিক্রি করবেন। প্রযুক্তিগত সুবিধা আর বাজারজাত করনের নিশ্চয়তার ব্যবস্থাও আমরা করছি। এ জন্য চাষীদের ভূট্টা চাষে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করছি। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মধ্যে, মানিক মিয়া, মারমা, প্রদীপ চাকমা বলেন, ভূট্টা সারা বছরই চাষ করা যায়। এতে অনেক লাভ। উপজেলার বিভিন্ন বাজারে বর্তমানে প্রতি জোড়া ভূট্টার মোচা ১৫-২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বরকলক এলাকার জগদিশ চাকমা ০১ একর, সুনিল ময় ৬০ শতাংশ, শান্তিপুরের অতিষ চাকমা ০১ একর, পূজগাংয়ের অরিজিৎ চাকমা ৪০ শতাংশ, উপজেলার দমদম এলাকার কৃষক আক্তার হোসেন ৭০ শতাংশ, আলী আজ্জন ৪০ শতাংশ, সুত কর্মা পাড়ার শান্তিময় চাকমা ০১ একর জমিতে ভূট্টা চাষ করেছেন। পানছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলাউদ্দিন শেখ বলেন, এখানকার জমিগুলো ভূট্টা আর গম চাষের জন্য খুবই উপযোগী। শুধু ভূট্টা নয় এ বছর আমরা উপজেলায় দুজন কৃষককে গম চাষে প্রদর্শনী দিয়েছি। তাঁরা ভালো ফলন পেয়েছে। ভূট্টা চাষে সুবিধা হলো, ধান চাষের মতো এটি তিন মৌসুমে চাষ করা যায়। মোচাগুলো বিক্রি করার পাশাপাশি গাছগুলো লাকরী হিসেবে ব্যবহার করা যায়। তাই ভুট্টা চাষে উদ্ধুদ্বকরণে আমরা মাঠ পর্যায়ে কাজ করছি।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

পূর্বের সংবাদ

March 2019
M T W T F S S
« Feb    
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031

এই সপ্তাহের আলোকিত পাহাড় প্রথম পাতা

এই সপ্তাহের আলোকিত পাহাড় শেষ পাতা

বিজ্ঞাপন