খাগড়াছড়ি, , সোমবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮

নাব্যতা হারাচ্ছে মাতামুহুরী নদী

প্রকাশ: ২০১৬-১১-০৪ ১৪:১০:৩৬ || আপডেট: ২০১৬-১১-০৭ ১৪:৩২:২৭

%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%b9%e0%a7%82%e0%a6%b0%e0%a7%80কক্সবাজার সংবাদাতা: খননের অভাবে নাব্যতা হারাচ্ছে কক্সবাজারের চকরিয়ার মাতামুহুরী নদী। অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে শাখা নদীগুলোও। এককালের গহীন খরস্রোতা মাতামুহুরী নদী এখন মরা নদীতে পরিণত হয়েছে। নদীর বিশাল এলাকাজুড়ে অসংখ্য ছোট ছোট ডুবোচর জেগে উঠেছে। বর্ষা শেষ হওয়ার কয়েক মাস যেতে না যেতেই এ নদীর বুকে নৌচলাচল, কাঠ ও বাঁশ পরিবহনে দুর্ভোগের অন্ত নেই। এক সময়ের প্রমত্তা মাতামুহুরীতে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় মৎস্য ভাণ্ডারেও পড়েছে বিরূপ প্রভাব। ফলে জেলে পরিবারে নেমে এসেছে চরম হতাশা। মাতামুহুরী নদীর নাব্য পুনরুদ্ধারে ড্রেজিং করা সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। নাব্য সংকটে এ নদীতে নৌযান চলাচলে চরম বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। জানা গেছে, পাহাড়ে দেড় দশক ধরে অবাধে বৃক্ষনিধন, বাঁশ কর্তন, পাহাড়ি জুম চাষ, পাহাড়ের মাটি ক্ষয় হয়ে নদীতে পড়ছে। ফলে নদীর তলদেশ ক্রমশ ভরাট হয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া পাহাড়ে ব্যাপক বৃক্ষনিধন ও বারুদের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পাথর আহরণের কারণে প্রতি বছর নদীতে পলি জমে এ অবস্থা সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে প্রতিবছরই বর্ষাকালে নদীতে পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ায় নদীর দুই তীরে নতুন নতুন এলাকায় ব্যাপক ভাঙন সৃষ্টি হচ্ছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা দাবি করেছেন, নদীভাঙনের ভয়াবহতা ঠেকাতে হলে প্রয়োজন নদীশাসন। চিরিঙ্গা ব্রিজ পয়েন্ট থেকে শুরু করে উজানে মানিকপুর ও নিচে পালাকাটা রাবার ড্যাম পর্যন্ত এলাকায় নতুন করে ড্রেজিং করতে হবে। তা না হলে আগামীতে নদীভাঙন আরো ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে। একই সঙ্গে পলি জমে আবাদি জমি সংকুচিত হবে। এতে নদীর তীর এলাকায় চাষের জমি হারাবে স্থানীয় জমি মালিক ও কৃষকরা। স্থানীয় জমি মালিক ও কৃষকদের দাবি, নদীর তীর এলাকার ভরাট বালু অপসারণের মাধ্যমে নদীটি ড্রেজিংয়ের জন্য কৃষকরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তবে জমি মালিক ও কৃষকদের দাবি, প্রশাসন নির্দেশ দিলে তারা নিজেদের জমি থেকে জমে থাকা এসব বালু অপসারণ করে ফের আগের মতো জমিতে চাষাবাদ শুরু করতে পারবে। প্রতিবছর চাষের পরিধি বাড়বে। ইতিমধ্যে মাতামুহুরী নদীর চিরিঙ্গা ব্রিজ এলাকায় ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি থেকে জমি মালিকরা নিজেদের উদ্যোগে জেগে উঠা জমি থেকে বালু অপসারণ করে আগের মতো জমিতে ফেরানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, জানা গেছে মাতামুহুরী নদীর উজান থেকে নেমে আসা মিঠাপানি আটকে চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার হাজার হাজার কৃষক প্রতিবছর সেচ সুবিধা নিয়ে চাষাবাদ করে আসছেন। এখানকার কৃষিপণ্য স্থানীয় ভোক্তার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে রপ্তানি করা হচ্ছে। চাষিরা মাতামুহুরী নদীর সুফল নিয়ে প্রতিবছর চাষাবাদের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলছে। কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, পলি জমে ভরাট হয়ে পড়া আবাদি জমিতে ফের চাষাবাদ নিশ্চিত করতে ও ভাঙনরোধে ইতিমধ্যে একটি পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন। প্রকল্পের প্রাথমিক পর্যায়ে নাব্য সংকট কাটাতে দুই কোটি টাকা ব্যয়ে আগামী শুষ্ক মৌসুমে নদীর তিন কিলোমিটার এলাকায় ড্রেজিং করা হবে। এরপর বাস্তবায়ন হবে প্রায় ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের বিপরীতে মেগা প্রকল্প। প্রকল্পের আওতায় নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে জেগে ওঠা ভরাট চরের সম্ভাব্যতা চিহ্নিত করতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা সমীক্ষা করেছেন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

পূর্বের সংবাদ

December 2018
M T W T F S S
« Nov    
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  

এই সপ্তাহের আলোকিত পাহাড় প্রথম পাতা

এই সপ্তাহের আলোকিত পাহাড় শেষ পাতা

বিজ্ঞাপন

error: Content is protected !!