খাগড়াছড়ি, , বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮

নানা সমস্যায় জর্জরিত রামগড় সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়

প্রকাশ: ২০১৮-০৫-২২ ২১:৪৮:৪৪ || আপডেট: ২০১৮-০৫-২৪ ২০:৩৭:৪৪

মোঃ শরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া আসাদ: ১ জানুয়ারি ১৯৫২ খ্রিঃ স্থাপিত হয় ও জাতীয়করণ করা হয় ১ মে ১৯৬৮ খ্রিঃ রামগড় সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়। খাগড়াছড়ি জেলার ৫টি সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের মধ্যে এটি সর্ব প্রথম মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ২০১৭ সালে এস এস সি পরীক্ষার্থী ১১৫ জনের মধ্যে ছয় জন এ+ সহ ১১২ জন এবং ২০১৮ সালে ১২৮ জন পরক্ষার্থীর মধ্যে একজন গোল্ডেন এ+ ও দুইজন এ+ সহ ১১৩ জন পাস করে।

বিগত দুটি বছরেই এস এস সি পরীক্ষার ফলাফল ভালো করে জেলার পাঁচটি সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের মধ্যে এই বিদ্যালয়টি প্রথম স্থান অধিকার করে বলে জানান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুধীর চন্দ্র সরকার। কিন্তু অতীতের কোন এক সময়ে প্রয়োজন অতিরিক্ত শিক্ষক থাকলেও বর্তমানে শিক্ষক সংকটের কারণে চরম হতাশায় ভুগছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা এবং মারাত্বক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। বর্তমানে এই বিদ্যালয়ের মোট ছাত্র সংখ্যা ৬১৫ জন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুধীর চন্দ্র সরকার জানান, বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য প্রধান শিক্ষক সহ ২৭টি পদ রয়েছে। কিন্তু এখন সহকারী প্রধান শিক্ষক, ইংরেজি ও ধর্মীয় শিক্ষক সহ ১৮টি পদই খালি রয়েছে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। এই অবস্থায় উপযুক্ত শিক্ষা অর্জন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীরা। যার ফলে চূড়ান্ত পরীক্ষায় ফলাফল খারাপ করার আসংখ্যা করছে অভিভাবক বৃন্দ। বিদ্যালয়ের প্রবীণ শিক্ষক আব্দুল কাদের বলেন এই সীমিত সংখ্যক শিক্ষক দ্বারা প্রতিদিন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সুষ্ঠভাবে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করা কোন ভাবেই সম্ভব নয়।

অপরদিকে বিশ্বস্তসূত্রে জানাযায়, বিদ্যালয়ের প্রবীণ শিক্ষকদের আধিপত্যের কারণে নতুন শিক্ষক আসলেও তাদের স্থায়ীত্ব হয় খুব অল্প সময়ের জন্য। ইংরেজি, সমাজবিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, হিন্ধু ও বৌদ্ধ ধর্ম এবং চারুকলা বিষয়ের জন্য কোন শিক্ষক নেই। উল্লেখ্য যে, এখন পর্যন্ত আই সি টি বিষয়ের জন্য কোন পদই সৃষ্টি হয়নি। দূর থেকে অনেকে এই বিদ্যালয়ের বাহিরের মনোরম পরিবেশ দেখে মুগ্ধ হলেও অভ্যন্তরিন বিষয় গুলো জেনে চমকে উঠেন। যেমন এই উচ্চ বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রী উভয়ের পড়ার অধিকার রয়েছে। কিন্তু সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে মেয়ে শিক্ষার্থীরা।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক বলেন গেল বছর (২০১৭) ঢাকা থেকে আগত পরিদর্শক টিম, স্থানীয় উপজেলা কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের নিয়ে বৈঠক করেও কোন ভাল ফল পাওয়া যায়নি। আর এই এলাকার উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিরাই চায়না এই শিক্ষাঙ্গনে ছেলে-মেয়ে এক সাথে পড়ুক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিভিন্ন শ্রেণীর কিছু ছাত্র বলেন, তাদের অনিচ্ছা সত্বেও কোচিং করতে বাধ্য করা হচ্ছে। কোচিং করার ক্ষেত্রে কিছু নিয়মাবলী থাকলেও তা না মেনেই তাদেরকেএক ধরণের জোর পূর্বক কোচিং করতে হচ্ছে। প্রধান শিক্ষকের কাছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে, শিক্ষার্থীদের বক্তব্য এবং ওনার কথার মধ্যে কোন মিল পাওয়া যায়নি।

এছাড়াও ছাত্রদের কাছ থেকে বিভিন্ন বিষয় বাবদ অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। যেমন দরিদ্র তহবিল, অত্যাবশ্যকীয় ব্যয়, বিবিধ/ অনুসাঙ্গিক, মোট অন্যান্য পাওনা ইত্যাদি খাত দেখিয়ে প্রয়োজন অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে থাকে বলে জানা যায়। আর মূল ক্লাসের বাহিরে এইসব বিশেষ ক্লাস করতে গিয়ে ছাত্র-শিক্ষক উভয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়ে।

খবর নিয়ে জানাযায়, বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকট, ছাত্রদের সমস্যা ছাড়াও পরীক্ষার সময় টেবিল বেঞ্চ নিয়েও সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে। কোন ভাবেই প্রতিদিন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করলেও পাবলিক পরীক্ষার সময় অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে টেবিল বেঞ্চ ধার করে এনে পরীক্ষা নেয়ার ব্যবস্থা করতে হয়। এইসব প্রয়োজনীয় উপকরণের জন্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে অবহিত করা হলেও এখন পর্যন্ত কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য ব্যবহৃত তিনটি ভবনের মধ্যে একটি ভবন ব্যবহারের অনুপযোগী হওয়ায় প্রায় বিশ বছর পূর্বেই পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।

উল্লেখ্য যে, এই পরিত্যক্ত ভবনটিতে বেশির ভাগ শ্রেণী কার্য, বিদ্যালয়ের শিক্ষক মিলনায়তন এবং প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় রয়েছে। অন্যদিকে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলেই সীমানা প্রাচীর ডিঙ্গিয়ে কখনোবা মূল ফটকের তালা ভেঙ্গে মাদকাসক্ত বখাটে ছেলেরা রাতভর আড্ডা জমায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে। এই সকল অপকর্মের বাধা দিতে গিয়ে গত ১১ মে ২০১৮ ইং তারিখে রাত অনুমান নয়টার দিকে বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী সোরোয়ার হোসেনকে দায়িত্বরত অবস্থায় নির্যাতনের শিকার হতে হয় এইসব মাদকাসক্ত বখাটেদের হাতে। এ বিষয়ে গত ১২ই মে প্রধান শিক্ষক নিজেই বাদি হয়ে রামগড় থানায় সাধারণ ডায়রি করেছে বলে জানাযায়।

রামগড় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়ার সাথে বিদ্যালয় এইসব অনিয়মের বিষয়ে আলাপ করতে বেশ কয়েকবার তাঁর কর্মস্থলে গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে ফোন মাধ্যমে যোগাযোগ করলে তিনি ঢাকায় আছে বলে জানান। শুধু তিনিই নন তার অফিসের অন্যএক কর্মকর্তা একাডেমিক সুপারভাইজার মীর মোহাম্মদ আলীরও একি অবস্থা। জানাযায় রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে ও মীর মোহাম্মদ আলী ২০১৫ সালের জুলাই মাসে যোগদান করলেও তাদের নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়নি।

খবর নিয়ে জানাযায় যে, মোঃ রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া ঢাকা থেকে এবং মীর মোহাম্মদ আলী অন্যত্র থেকে এসে সরকারী বেতন ভাতা এবং নিয়ম বহির্ভূত সুযোগ শুবিধা নিয়ে চলে যান। অন্যদিকে বিদ্যালয়ে সমস্যা এবং অব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা বলতে গেলে শিক্ষক সংকটে বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মামুন মিয়া যথাযথ কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করবে বলে জানান। বর্তমানে ন্যাশনাল সার্ভিসের অধিনে দুজন অতিথি শিক্ষক কর্মরত আছেন বলে জানান। যা চাহিদার তুলনায় অত্যান্ত অপ্রতুল।

এছাড়াও বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বখাটেদের উৎপাতের বিষয়ে তিনি বলেন আগেও কয়েকবার অভিযান দিয়েও এদেরকে ধরতে পারেনি। তবে আগামীতে তাদের অপকর্মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন। সম্প্রীতি বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী সোরোয়ার উপর নির্যাতনের বিষয়ে ওনাকে কেউ অবহিত করেননি বলে তিনি জানান।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

পূর্বের সংবাদ

December 2018
M T W T F S S
« Nov    
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  

এই সপ্তাহের আলোকিত পাহাড় প্রথম পাতা

এই সপ্তাহের আলোকিত পাহাড় শেষ পাতা

বিজ্ঞাপন