খাগড়াছড়ি, , রোববার, ২৪ জুন ২০১৮

দুই শিক্ষক দিয়ে চলছে দুই বিদ্যালয়; ব্যহত হচ্ছে পাঠ দান

প্রকাশ: ২০১৭-০২-০৫ ১৭:৪৪:২৮ || আপডেট: ২০১৭-০২-০৫ ১৭:৪৪:২৮

রামগড় (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি: খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার দুর্গম এলাকার দুইটি বিদ্যালয়ে একজন করে সহকারী শিক্ষক রয়েছেন। শিক্ষককে বিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কাজ ও সব শ্রেণীতে পাঠদান ওই একজনকেই সামলাতে হচ্ছে। এর ফলে বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এদিকে অভিযোগ রয়েছে উপজেলা সদর এলাকার বিদ্যালয়গুলোতে পর্যাপ্ত শিক্ষক থাকলেও দুর্গম এলাকার বিদ্যালয়গুলোতে বদলী বা নিয়োগ দেয়া হলে শিক্ষকরা থাকছেন না। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কিছু অসাধু কর্মকর্তার মাধ্যমে পছন্দমত বিদ্যালয়ে বদলী বা প্রশিক্ষণে চলে যান। আবার কোন কোন শিক্ষক-শিক্ষিকা বছরের পর বছর একই বিদ্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বেলছড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বালুখালী আলো সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩০২ জন শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে ১ জন করে সহকারী শিক্ষক। তাঁরা আবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বও পালন করছেন। তাছাড়া পথাছড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও গুজাপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিপুল শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র দুইজন করে সহকারী শিক্ষক দিয়ে চলছে বিদ্যালয়গুলোর পাঠদান ও দাপ্তরিক কাজ।

বিদ্যালয় দুটির শিক্ষক নগেন্দ্র ত্রিপুরা ও দেব জৌতি মার্মা জানান, তাঁরা দুই পালায় তিনটি করে শ্রেণিতে পাঠদান করেন। বিদ্যালয় সময়ের বাহিরে পরবর্তীতে অফিস কাজ করেন। তাঁরা আরো জানান, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে জেলা পরিষদকে বিষয়টি একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হলেও কোন প্রতিকার হচ্ছে না।

বিদ্যালয়ের ছাত্র তারেক হোসেন জানান, একজন শিক্ষক একসঙ্গে দুই তিন বিষয়ে ক্লাসে পাঠদান করেন এতে আমরা ঠিকমত পড়া বুঝতে পারিনা। ঠিকমত ক্লাসও হয়না তাই বেশিরভাগ সময় খেলাধুলা করে চলে যাই।

উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি শাহ আলম এ প্রতিনিধিকে জানান, শিক্ষকরা যদি শিক্ষা অর্জনে দেশ-বিদেশে যেতে পারেন তাহলে সেই শিক্ষা দানে দুর্গম এলাকায় যেতে সমস্যা কোথায়। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন পৌর ও ইউনিয়ন এলাকার বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকদের সন্বয় করলে কোন বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট হওয়ার কথা নয়।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল হান্নান পাটওয়ারী জানান, বিদ্যালয়গুলির শিক্ষক শূন্যতার বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিস ও পার্বত্য জেলা পরিষদকে অবহিত করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল-মামুন মিয়া জানান, শিক্ষক সংকট রয়েছে এমন একটি বিদ্যালয়ে সম্প্রতি আমি পরিদর্শন করে পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে সমস্যাগুলি জানালে চেয়ারম্যান জানিয়েছেন নতুন করে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে তাহলে সমস্যাগুলি আর থাকবেনা।

উপজেলা চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি অথচ শিক্ষা দপ্তর থেকে আমাকে কোন ব্যাপারে অবহিত করা হচ্ছে না তাহলে কোথায় কি হচ্ছে আমি কি করে বলবো। তিনি আরো জানান, বিষয়টি আমি সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে জানাবো।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

পূর্বের সংবাদ

June 2018
M T W T F S S
« May    
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
252627282930  

এই সপ্তাহের আলোকিত পাহাড় প্রথম পাতা

এই সপ্তাহের আলোকিত পাহাড় শেষ পাতা

বিজ্ঞাপন

error: Content is protected !!