খাগড়াছড়ি, , শুক্রবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৮

তদন্ত নিয়ে হতাশ পাবনার স্বজনরা

প্রকাশ: ২০১৮-০২-১২ ১৪:০৪:৪৭ || আপডেট: ২০১৮-০২-১২ ১৪:০৪:৪৭

অনলাইন ডেক্স: গতকাল ১১ই ফেব্রুয়ারি ছিল সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনির মৃত্যুর ছয় বছর। ছয় বছরেও শেষ হয়নি সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত। গ্রেপ্তার হয়নি পরিকল্পনাকারীসহ মূল হোতারা।

কয়েকবার তদন্ত সংস্থা পরিবর্তন, বার বার সময় পিছিয়েও দাখিল করা যায়নি চাঞ্চল্যকর এই মামলার চার্জশিট। মামলায় কয়েক জন গ্রেপ্তার হলেও মূল হোতারা রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। মামলার ভবিষ্যৎ ও বিচার নিয়ে সাগরের জন্মস্থান পাবনার বেড়া উপজেলার ছোট নওগাঁ গ্রামে তার স্বজন, এলাকাবাসী ও গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে ক্ষোভ ও হতাশা।

কারা, কি উদ্দেশ্যে তাদের হত্যা করেছে তা আজও অজানা তাদের। জেলার সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা মনে করেন, সাহসী এই সাংবাদিক দম্পতি হত্যার বিচার না হলে আগামীতে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ঝুঁকি আরো বাড়বে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালের ১১ই ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজারে নিজ বাসায় দুর্বৃত্তদের হাতে নির্মমভাবে খুন হয় সাংবাদিক দম্পতি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার মেহেরুন রুনি। এরপর কেটে গেছে ছয়টি বছর। তারপরও শেষ হয়নি হত্যা মামলার তদন্ত। শনাক্ত করা যায়নি হত্যাকারীদের। বারবার সময় দিয়েও মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি তদন্ত সংস্থা। দীর্ঘ ছয় বছরে মামলার অগ্রগতি নিয়ে হতাশ ও ক্ষুব্ধ সাগরের জন্মস্থান পাবনার বেড়া উপজেলার মাসুমদিয়া ইউনিয়নের ছোট নওগাঁ গ্রামবাসী ও তার স্বজনরা। সবার প্রিয় সাগর ও তার স্ত্রী হত্যায় যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে সবার মাঝে তা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারছেন না স্বজনেরা।
কথা হয় সাগরের স্বজন ও গ্রামবাসীর সঙ্গে। মামাতো ভাই আতাউর রহমান বলেন, এখনো মনে পড়ে ভাইকে। তাকে হারানোর কষ্ট ভুলতে পারছি না আমরা। তাকে এখন দেখতে না পেয়ে সবসময়ের জন্য মনটা আমার খারাপ থাকে। এত বিচার হয়, আমার ভাই ও তার স্ত্রী হত্যার বিচার হচ্ছে না কেন জানতে চাই।
সাগরের ফুফু সুফিয়া বেগম বলেন, বেঁচে থাকতে সাগর যখন বাড়িতে এসে আমাদের সামনে দাঁড়িয়েছে তখন খুশিতে বুকটা ভরে যেত। কিন্তু গত ছয় বছর ধরে তার কোনো দেখা পাই না। তাকে হারিয়ে যে কি কষ্টে আমরা আছি তা বলে বোঝাতে পারবো না। বেঁচে থাকতে এই হত্যার বিচার দেখে যেতে চাই।
সাগরের চাচাতো ভাই আবদুল বাতেন বলেন, সাগর-রুনিকে হারিয়ে ছয় বছর হলো যে শূন্যতা আমাদের মাঝে তৈরি হয়েছে তা পূরণ কিভাবে করবো আমরা। এটাতো পূরণ হওয়ার নয়। আর এই ছয় বছরে দুজন সাংবাদিক হত্যা মামলার তদন্তই এখন পর্যন্ত শেষ হলো না। তাহলে বিচার কাজ শুরু হবে কবে- এ নিয়ে আমরা হতাশ। আমরা দ্রুত তদন্ত শেষ করে মূল পরিকল্পনাকারীসহ হত্যাকারীদের আইনের আওতায় দেখতে চাই।
এলাকাবাসীর কাছে খুবই ভদ্র ও ভালো ছেলে হিসেবে পরিচিত ছিলেন সাংবাদিক সাগর সারোয়ার। তাকে হারিয়ে স্মৃতিকাতর গ্রামবাসীও। স্থানীয় বাসিন্দা বিপ্লব হোসেন ও শহিদুর রহমান বলেন, খুবই ভালো ছেলে ছিল সাগর। সে যখন বাড়িতে আসতো তখন গ্রামের মুরব্বিদের খুব সম্মান করে কথা বলতো। মনে কোনো অহংকার ছিল না। তাকে নিয়ে আমরা গর্ব করি। তাকে হারানোর কষ্ট আমরা ভুলতে পারছি না। এখনও তার মুখটি চোখের সামনে ভেসে ওঠে। কারা তাকে হত্যা করেছে, আমরা সেটা জানতে চাই।
সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলার ধীরগতিতে হতাশ জেলার গণমাধ্যমকর্মীরা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। পাবনা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আঁখিনুর ইসলাম রেমন বলেন, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড ও তার বিচার প্রক্রিয়া সারা দেশের সাংবাদিকদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে এক জ্বলন্ত উদাহরণ হয়ে থাকবে। আমরা এই মামলাটির দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।
পাবনা টেলিভিশন সাংবাদিক সমিতির আহ্বায়ক রাজিউর রহমান রুমী বলেন, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের ছয় বছরে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার না হওয়ায় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ঝুঁকি দিন দিন বেড়ে চলেছে। অপরাধী যত শক্তিশালী হোক তাদের আইনের আওতায় না আনতে পারলে দেশে সুষ্ঠু সাংবাদিকতা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। আমরা আইনের আওতায় দ্রুত এই মামলার নিষ্পত্তি চাই।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

পূর্বের সংবাদ

October 2018
M T W T F S S
« Sep    
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  

এই সপ্তাহের আলোকিত পাহাড় প্রথম পাতা

এই সপ্তাহের আলোকিত পাহাড় শেষ পাতা

বিজ্ঞাপন

error: Content is protected !!