খাগড়াছড়ি, , সোমবার, ২১ জানুয়ারী ২০১৯

গুইমারায় শীলং জুয়ায় আসক্ত ৪র্থ শ্রেনীর ছাত্রছাত্রী হতে উপজাতী পরিবারের নারীরা; নিরব প্রশাসন !

প্রকাশ: ২০১৮-০৭-০৪ ১৭:৩৫:২৪ || আপডেট: ২০১৮-০৭-০৪ ১৭:৩৫:২৪

দিদারুল আলম, গুইমারা: গুইমারার সকল পাড়ায় সম্প্রতি ছড়িয়ে  পড়েছে শীলংতীর জুয়া নামক ব্যধিটি।গুইমারায় ভয়াবহ এই জুয়ার মাধ্যমে শুধু সামাজিক অবক্ষয় নয় প্রথমে বেকার বা আড্ডাবাজ তরুন যুবকদের টার্গেট করে ভারতের শিলং হতে পরিচালিত ডিজিটাল জুয়া “শিলং তীর” খেলাটি পরিচালিত হয়েছিলো। বর্তমানে স্কুল গামী ৪র্থ শ্রেনীর ছাত্রছাত্রী হইতে উপজাতী পরিবারের নারীদের আসক্ত করা হচ্চে এই জুয়ায়।

গুইমারা সকল স্থরকে ম্যানেজ করে মাসিক মাসহারা দিয়ে অনায়সে চালিয়ে যাচ্চেন এই জুয়াটি। পাড়ায় পাড়ায় স্থানীয় এজেন্টের মাধ্যমে  গুইমারার সকল পাড়াকে রিমোট সিস্টেমে  দাবড়িয়ে চালিয়ে যাচ্চেন প্রধান এজেন্ট এক সময়ের ভারতীয় নাগরীগ খন্দ মার্মা। ভারত থেকে এসে এক সময়ে  মোটর সাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করলে ও এখন সে হঠাৎ আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ এই শীলং জুয়ার মাধ্যমে।

বিষয়টি গুইমারা আইস শৃংখলাসহ বিভিন্ন সভাসেমিনারে আলোচনার ঝড় উঠলে ও প্রধান এজেন্ট খন্দকে  কখনো আটক বা প্রতিরোধের বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

গুইমারারা সুশীলরা বলছেন, প্রশাসনক ম্যানেজ করে মাসিক মাসহারা দিয়ে চালিয়ে যাচ্চেন শীলংতীর নামক জুয়াটি। এর মূল হোতা খন্দ মার্মা। প্রশাসনের নিরবতায় এই মহামারি গুইমারায় বর্তমানে এমন রুপধারন করেছে স্কুল গামী ছাত্রছাত্রী সহ উপজাতীয় পরিবারের নারীরা আসক্ত হয়ে পড়েছে। আর মূল হোতা খন্দ মারমাকে নিজের হিন স্বার্থের জন্য সহযোগিতা করছে কতিপয় কিছু ব্যাক্তি। তাদের এই সহযোগিতায় দিনে আসক্ত হচ্চে গুইমারার যুব সমাজ সহ নারীরা।

সমাজের স্বর্বশ লুটে নিয়ে  ধিরে ধিরে নিঃস্ব করে দিচ্চে সীলং নামক মহামারি  এই জুয়া খেলাটি।

জানাযায়,এ জুয়া খেলাটি চালিয়ে ইতিমধ্যে সে সাধারণ মোটর সাইকেল ভাড়াটি থেকে নামকরা বিত্তসালী হয়ে উঠেছে। যদিও হাজার হাজার মানুষ সর্বশান্ত হচ্চে । সভা সেমিনারে অনেকে বক্তব্য দিলেও প্রশাসনের কিছু ব্যক্তির অর্থনৈতিক যোগাযোগ রয়েছে তার সাথে। যার ফলে আইনগত কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়না এমনটিই বলেছেন স্থানীয়  অনেকে।

বর্তমানে এর প্রভাব পড়েছে সর্বত্র।  শিলং তীর’ জুয়ার আসর, মূলত এটি একটি কৌশলগত জুয়া এবং দেশের সাধারণ মানুষের টাকা হাতিয়ে নেওয়া ভারতীয় দুষ্ট চক্রের একটি বিরাট ফাঁদ। এ জুয়ার আসর থেকে সাধারণ মানুষ যাতে মুখ ফিরিয়ে না নেন, সেজন্য প্রতিদিনই কয়েকজনকে জুয়ার বাজিতে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। এসব জুয়ার আসরে রিকশাচালক, দিনমজুর, শিক্ষার্থী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে জুয়ার নেশায় মত্ত বড় ব্যবসায়ীরাও টাকা ঢালছেন। হাতেগোণা কয়েকজন জুয়ার আসর থেকে হাসিমুখে ফিরলেও সিংহভাগই ফিরেন নিস্ব হয়ে।

শিলং নামক ১ থেকে ৯৯ পর্যন্ত সংখ্যাভিত্তিক এই জুয়া এখন মহামারি রূপে ছড়িয়ে পড়েছে গুইমারা উপজেলার সর্বত্র। গত প্রায় ৬ মাস ধরে প্রায় ১৫টি স্পটে ছড়িয়ে পড়েছে ভয়ঙ্কর এই ‘শিলং তীর’ নামক জুয়ার আসর।

শুরুতে কৌশলী জুয়াড়িরা সাধারণ মানুষের আগ্রহ বাড়াতে লোভনীয় ভাবে অফার দেয় জুয়ায় টাকা। এতে রিকশাচালক, দিনমজুর শ্রেণির মানুষদের ভিড় বাড়ে জুয়ার আসরে। ১০ টাকায় ৮০০ টাকা, ২০ টাকায় ১৬০০ টাকা তথা প্রতি টাকার বদলে ৮০ গুণ লাভ পেয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়ে মানুষ।

ভাবছেন কিভাবে সম্ভব? গুইমারাতেই অন্তত ১৫টি এজেন্ট পয়েন্ট রয়েছে শিলং’র। এর মধ্যে  যৌথখামার, আমতলী পাড়া, বটতলী, হাজীপাড়া দেওয়ান পাড়া, হাতিমুড়া, রামছুবাজার ডাক্তারটিলার নিছে, নতুন পাড়া, বুধংপাড়া বরইতলী, উল্লেখযোগ্য এজেন্ট পয়েন্ট।এর প্রতিটি স্থানে স্থানীয় এক জন করে লোক দিয়ে খেলাটি চালিয়ে যাচ্চেন খন্দ।

এসব স্থানীয় এজেন্টরা ১ হাজার টাকার জুয়া বাজির কমিশন হিসেবে মুল কোম্পানীর কাছ থেকে পান ৬০টাকা। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত এসব এজেন্টের মাধ্যমে কাটা জুয়ার টাকা ও নাম্বার সাড়ে তিনটার মধ্যই পৌঁছে দিতে হবে প্রধান এজেন্টে ভারত হতে আসা গুইমারা যৌথখামার এলাকায় বসবাসকারী খন্দ মার্মার কাছে।

একটি নির্দিষ্ট সূত্রমতে, শুধুমাত্র গুইমারা  উপজেলাতেই শিলংএর দৈনিক খেলা হত আগে ২-৩লক্ষ টাকা  বর্তমানে ৬-৭ লক্ষ টাকার খেলা হচ্চে দৈনিক।  আর আনুষাঙ্গিক ব্যায় প্রায় ৫০-৬০ হাজার টাকা। বাকি টাকা এজেন্টদের মুনাফা।

শিলংয়ের সাথে মিলিয়ে সপ্তাহে রবিবার ছাড়া বাকি ছয়দিনই এ জুয়ার আসর বসে। এছাড়া ভারতের রাষ্ট্রীয় ছুটির দিনে এ জুয়ার আসর বন্ধ থাকে। প্রতিদিন বিকাল ৫টায় জুয়ার ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকার জুয়ার আসর দিন দিন বৃদ্ধি পেলেও বরাবরই নিরব থাকছে স্থানিয় পুলিশ প্রশাসন।

এই জুয়ার প্রধান এজেন্ট খন্দ মার্মার নিকট জানার জন্য গেলে তিনি উপস্থিত কোন কথা না বলে চলে যান। পরবর্তীতে স্থানীয় দোকানে বসে বলেন সবাইকে ম্যানেজ করেই চালাচ্চেন তিনি। কোন প্রশাসন এটি বন্ধ করবেন না। তার এমন মন্তব্যে হতাশ গুইমারার বাসী।

এবিষয়ে গুইমারা সদর ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, শীলং তো শুধু জুয়া নয় এটি একটি মানি লন্ডারিং। আমাদের দেশের টাকা বাইরে পাচার হচ্ছে। এত আলোচনার পরও কেন শীলং নামক ব্যাধিটি গুইমারা থেকে বন্ধ করা হচ্ছেনা।

তিনি আরও বলেন,এ জুয়াটিতে পুরুষদের পাশাপাশি নারীদেরও আসক্ত করা হচ্ছে। যার ফলে সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় হচ্ছে। দ্রুততম সময়ে এটি বন্ধ না হলে গুইমারা উপজেলায় এর প্রভাব আরও বৃহৎ আকার ধারন করবে। তাই এবিষয়ে প্রশাসনের নিস্বার্থ কার্যকর ভূমিকা কামনা করছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গুইমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, আমরা এদের ধরার চেষ্টা করছি ধরতে পারলেই আইনগত ব্যবস্থা নিবো।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

পূর্বের সংবাদ

January 2019
M T W T F S S
« Dec    
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  

এই সপ্তাহের আলোকিত পাহাড় প্রথম পাতা

এই সপ্তাহের আলোকিত পাহাড় শেষ পাতা

বিজ্ঞাপন