খাগড়াছড়ি, , শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০১৯

গুইমারার পর এবার মহালছড়ি, নাটকীয়তার বলি আবারো সেনাবাহিনী

প্রকাশ: ২০১৮-১০-২৭ ১৪:২৭:৫৯ || আপডেট: ২০১৮-১০-২৭ ১৪:২৭:৫৯

নিজস্ব প্রতিবেদক: খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার গুইমারা উপজেলার ২ নং হাফছড়ি ইউপির কুকিছড়া পরিত্যক্ত সেনা ক্যাম্প দখল করে বৌদ্ধ মন্দির নির্মানের পর এবার জেলার সদর উপজেলার দেবতাপুকুর এলাকায় একই কায়দায় আরেকটি পরিত্যক্ত সেনা ক্যাম্পের সরকারী খাস ভূমি পূর্বানুমতি ছাড়াই দখল করে সেখানে লক্ষী নারায়ন মন্দির নির্মান করেছে উপজাতীয়রা আর এ অবৈধ মন্দির অন্যত্র সরিয়ে নিতে বলায় গুইমারার মতো আবারো একটি মহল সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করেছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে পরিত্যাক্ত সেনাক্যাম্প ও বাঙালীদের ভূমি অবৈধ দখলে সন্ত্রাসীরা ধর্মীয় স্থাপনা তৈরিকে হাতিয়ার হিসাবে গ্রহণ করেছে এবং তারা জানে এবিষয়ে সেনাবাহিনী বাধাঁ দিতে আসবেই আর তখনি পাহাড় হতে সেনাবাহিনী উচ্ছেদে অপপ্রচারের আরেকটা সুযোগ তারা পাবে। সুতরাং এক ঢিলে দুই পাখি শিকার।

জানা গেছে, মহালছড়ি জোন অধিনস্ত সদরের ৪নং মাইসছড়ি ইউনিয়নের দেবতাপুকুর সংলগ্ন নুনছড়ি এলাকায় পরিত্যক্ত একটি সেনাক্যাম্পের স্থানে “পরিত্যক্ত সেনাক্যাম্পের স্থান, অনুমতি ছাড়া দখল নিষেধ” সংবলিত একটি ষ্টিলের সাইনবোর্ড লাগানো ছিলো এবং মহালছড়ি জোন সেখানে নিয়মিত টহল পরিচালনা ও বিশ্রামের জন্য উক্ত স্থানটিকে ব্যবহার করতো। কিন্তু সরকারী কোন অনুমতি ছাড়াই উক্ত ভূমি অবৈধভাবে দখল করে সেখানে লক্ষী নারায়ন মন্দির নির্মানের নিমিত্তে ২-৩ দিনে মধ্যই একটি ঘর দাড় করায় স্থানীয় উপজাতীয়রা। চারপাশে টিনের ছাইনি দেয়া ঘরটি নির্মানের আগে স্থানীয়রা অবৈধভাবে পাহাড় কেটে উক্ত স্থানটিকে মন্দির নির্মানের উপযোগী করে তোলে। কয়েকদিন আগে সেনাবাহিনীর একটি টহল দল ঐ এলাকায় গমনের পর সরকারী ভূমিতে অবৈধভাবে মন্দির ঘর দেখতে পেয়ে মন্দির নির্মাতাদের কাছে ধর্মীয় উপাসনালয় নির্মানের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমতি পত্র দেখতে চাইলে তারা কোন প্রকার মালিকানা বা অনুমতি পত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের আলোচনার জন্য মহালছড়ি জোনে ডাকা হয়।

গতকাল ২৬ অক্টোবর সকালে জোন অধিনায়কের ডাকে সাড়া দিয়ে উক্ত এলাকার ৮টি গ্রামের (থলিপাড়া, পুকুরপাড়া, হেডম্যান পাড়া, গুইমারা পাড়া, ছাতি পাড়া, স্কুল পাড়া, মধ্যম পাড়া, মালতি পাড়া) কার্বারী, জনপ্রতিনিধি ও এলাকার মুরুব্বীসহ বেশ কয়েকজন গ্রামবাসী মহালছড়ি জোনে আলোচনা সভায় মিলিত হন। সেখানে জোন অধিনায়ক মন্দির বা কোন ধর্মীয় উপাসনালয় নির্মানের আগে দানপত্র বা অনুমতিপত্র বা ভূমির মালিকানা লাগে এবং মালিকানা না থাকলে ভবিষ্যতে ঝামেলা হতে পারে মর্মে মন্দির নির্মানকারী ও এলাকাবাসীকে বোঝাতে সমর্থ হন এবং তাদের মন্দিরটি অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে কোন ব্যক্তি মালিকানা ভূমিতে প্রতিঃস্থাপনের অনুরোধ জানান। এসময় মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্যরা মন্দিরটি অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে সম্মত হয়।  আলোচনা সভায় মাইসছড়ি মৌজার হেডম্যান কলিন জ্যোতি চাকমা, পুকুর পাড়ার কার্বারী কুঞ্জ মেহান ত্রিপুরা, গুইমারা পাড়ার কার্বারী কলিধন ত্রিপুরা, মধ্যম পাড়া কার্বারী খুকুমনি ত্রিপুরা, হেডম্যান পাড়া কার্বারী তেজেন্দ্র রোয়াজা, মহিলা কার্বারী দৃহ ত্রিপুরা, গুইমারা ইউনিয়নের ৯ নং ওর্য়াড মেম্বার কইসক ত্রিপুরা ও মন্দির পরিচালনা কমিটির সম্পাদক বিনাচান ত্রিপুরাসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

কিন্তু স্থানীয় নিরীহ গ্রামবাসীরা সোজা কথাটি বুঝে অবৈধ কাজ থেকে নিজেদের সরিয়ে নিলেও সুযোগ সন্ধানী কুচক্রী মহলটি অনেকটাই ব্যথিত হয়েছে। আর নিজেদের পুরোনো চরিত্র আবারো আরেকবার দেখিয়ে দিয়েছে পার্বত্যবাসীকে। সন্ত্রাসীরা তাদের পরিকল্পনা মাফিক এগুতে ভূল করেনি। এবার তাদের মুখের বুলি, “ সেনাবাহিনী মন্দির ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে”। তবে পার্বত্য চট্টগ্রামের বসবাসকারীরা সেই ১৯৮৬ সালকে টপকে ২০১৮ তে পদার্পন করেছে এটা সন্ত্রাসীদের জানা ছিলোনা। তারা জানেনা আসলে মন্দির ভাঙ্গার নির্দেশ আর অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে প্রতিঃস্থাপনের অনুরোধে মধ্যখানে আকাশ-পাতাল ব্যবধান।

এদিকে আলোচনা সভায় উপস্তিত থাকা মন্দির পরিচালনা কমিটির সম্পাদক বিনাচান ত্রিপুরা জানান, আমরা জোন অধিনায়ক মহোদয়ের সাথে একমত পোষন করেছি এবং মন্দিরটি অন্যত্র সরিয়ে নেবার কার্যক্রম হাতে নিয়েছি কিন্তু কে বা কারা এখানে তাদের স্বার্থে অপপ্রচার করছে যা মোটেই কাম্য নয়। তবে বেশ কয়েকবার মুঠোফোনে কল করার পরেও  প্রতিবেদকের কল রিসিভ করেননি মাইসছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান আম্যে মারমা।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে সদ্য যোগদানকৃত খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোঃ নাজমুস শোয়েব বলেন, পরিত্যক্ত সেনা ক্যাম্পের ভূমিটি অবশ্যই সরকারী খাস ভূমি আর সেখানে কোন প্রকার অনুমতি ছাড়া অবৈধ ভাবে দখল করে মন্দির, মসজিদ কিংবা প্যগোডা নির্মান একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ । তাছাড়া পাহাড় কাটা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। যদি কারো সরকারী ভূমি ব্যবহারের প্রয়োজন হয় তাহলে তাকে অবশ্যই সরকারী সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমতি সাপেক্ষে তা ব্যাবহার করতে হবে, অন্যথায় যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গুইমারার ঘটনায় প্রশাসন কর্তৃক মন্দির নির্মানসহ দোষীদের বিচারের আওতায় আনার আশ্বাস ও আজ থেকে কাজ শুরু হলেও দেখা গেছে এটি নিয়ে জল ঘোলা করে মাছ শিকারের আশায় পাহাড়ের বিভিন্ন স্থানেই আন্দোলনের নামে পরিবেশ অশান্ত করার র্পাঁয়তারা করছে একটা মহল। এ ঘটনায়ও ব্যতিক্রম হবে বলে মনে হয়না।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে কোনো ঘটনা ঘটলেই প্রত্যক্ষদর্শী না থাকলে তার দায় বাঙালী ও নিরাপত্তা বাহিনীর উপর চাপিয়ে ব্যাপক অপপ্রচার চালানো হয়। কিন্তু তদন্ত শেষে দেখা যায় ঐ সকল ঘটনায় স্থানীয় সন্ত্রাসীরাই জড়িত। কিন্তু যখনই এসকল ঘটনায় পাহাড়ী সন্ত্রাসীদের নাম আসে তখন সুশীল ও মানবতাবাদী সংগঠনগুলো রহস্যজনক কারণে নীরব হয়ে যায়।

অন্যদিকে পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তা বাহিনী সন্ত্রাস নির্মূলে যখনই কোনো বিশেষ অপারেশন পরিচালনা করে তখনই মিথ্যা নারী ধর্ষণ ইস্যু কিংবা অন্যকোন সমস্যা সৃষ্টি করে অপপ্রচারের মাধ্যমে সেই অপারেশন থামানোর অপচেষ্টা করে সন্ত্রাসীরা আর তাদের দাবার গুটি হয়ে কাজ করে নিরীহ পাহাড়ে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠির মানুষ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

পূর্বের সংবাদ

April 2019
M T W T F S S
« Mar    
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930  

এই সপ্তাহের আলোকিত পাহাড় প্রথম পাতা

এই সপ্তাহের আলোকিত পাহাড় শেষ পাতা

বিজ্ঞাপন