খাগড়াছড়ি, , সোমবার, ২৫ জুন ২০১৮

খালেদা জিয়াকে ছাড়া কি নির্বাচনে যাবে বিএনপি?

প্রকাশ: ২০১৮-০৬-১৩ ১৬:১৭:১৭ || আপডেট: ২০১৮-০৬-১৩ ১৬:১৭:১৭

অনলাইন ডেস্ক: দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে জেলখানায় রেখে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ একটি রাজনৈতিক দল বিএনপি আগামী নির্বাচনে যাবে কিনা এই প্রশ্নে দলের মহাসচিব বলেছেন, এটা নির্ভর করছে সরকারের আচরণের উপর।

লন্ডনে বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি তাদের প্রথম ও প্রধান দাবি তবে এবিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এখনও আসেনি।

তিনি মনে করেন, খালেদা জিয়াকে বর্তমান সরকার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ মনে করে। এবং একারণেই তাকে ‘নির্বাচন থেকে, রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে’ রাখার প্রচেষ্টা সবসময়ই নেওয়া হচ্ছে।

“ওয়ান ইলেভেন সরকারের আমলেও এই একই চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু জনগণের চাপে তারা তখন সফল হতে পারেনি। আজকে আবার দুঃখজনক-ভাবে সেদিন যারা ‘মায়নাস টু’ তত্ত্বের শিকার হয়েছিল তারাই আবার চেষ্টা করছে ‘মায়নাস ওয়ান’ অর্থাৎ খালেদা জিয়াকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য,” বলেন মি. আলমগীর।

খালেদা জিয়াকে জামিন না দেওয়ার তীব্র সমালোচনা করে বিএনপির মহাসচিব বলেছেন, “একটি তৈরি করা মিথ্যা মামলায় তাকে যেভাবে জেলে নেওয়া হয়েছে, সেটাকে ধরেও বলা যায় যে পাঁচ বছরের যেকোনো সাজার বিরুদ্ধে আপিল করার সঙ্গে সঙ্গে তার জামিন হয়ে যায়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক খালেদা জিয়ার বেলায় সেটা হয়নি। সরকার এখানে একটা প্রতিপক্ষ হয় চতুর্দিকে প্রভাব বিস্তার করছে।”

মি. আলমগীর মনে করেন, বর্তমানে বাংলাদেশ যে রাজনৈতিক সঙ্কট চলছে তার পেছনে ‘একমাত্র কারণ হচ্ছে সরকারের সহনশীলতার অভাব।’ তিনি বলেন, “প্রতিপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার তাদের যে চেষ্টা এটাই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী, গণতন্ত্রের জন্যে যিনি সংগ্রাম করেছেন তাকে জেলে আটকে রেখে সেই সমস্যার সমাধান হবে না।”

খালেদা জিয়াকে জেল থেকে বের হতে না দিলে এই সমস্যা আরো বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।

“খালেদা জিয়া জেলে থাকুন আর জেলের বাইরে থাকুন, তিনিই বিএনপির নেত্রী। তিনি যেখানেই থাকুন না কেন এই গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দেবেন।

খালেদা জিয়াকে ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে যাবে কিনা বিবিসি বাংলার এই প্রশ্নের উত্তরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “নির্বাচনে যাবো কি যাবো না সেটা সম্পূর্ণ রূপে নির্ভর করছে সরকারের আচরণের উপরে। নির্ভর করবে দেশের মানুষের আচরণের উপরে। সুতরাং এবিষয়ে এখনই সিদ্ধান্ত দেওয়ার সুযোগ আসেনি।”

তিনি বলেন, দেশে যদি নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়, জনগণের ভোট দেওয়ার অবস্থা তৈরি হয়, রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রচার প্রচারণা চালাতে দেওয়া হয় তখন বিএনপি এবিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

মি. আলমগীর বলেন, নির্বাচনকালীন সরকারকে নিরপেক্ষ হতে হবে। বর্তমান পার্লামেন্ট ভেঙে দিতে হবে। সরকারকে সেনা মোতায়েন করতে হবে। এবং সকল দলকে সমান সুযোগ দিতে হবে।

“এসব তো শুধু আমাদের কথা নয়। সবাই বলছে। সকল রাজনৈতিক দলের কথা। ড. কামাল হোসেন, বি চৌধুরী, আ স ম আব্দুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্না যারা আমাদের সাথে জোটে নেই তারাও এই প্রস্তাবের কথা বলছেন। এবং মাঝে মাঝে তাদের লোক এরশাদ সাহেবও একথাগুলো বলছেন,” বলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সূত্র: বিবিসি বাংলা।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

পূর্বের সংবাদ

June 2018
M T W T F S S
« May    
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
252627282930  

এই সপ্তাহের আলোকিত পাহাড় প্রথম পাতা

এই সপ্তাহের আলোকিত পাহাড় শেষ পাতা

বিজ্ঞাপন

error: Content is protected !!