খাগড়াছড়ি, , রোববার, ২৬ জুন ২০২২

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ মাটি ও মানুষের দল, জনগনই আওয়ামী লীগের মূল শক্তি

প্রকাশ: ২০২২-০৬-২৩ ১৩:৩৪:২৫ || আপডেট: ২০২২-০৬-২৩ ১৩:৩৪:২৭

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: “সংগ্রাম, উন্নয়ন ও অর্জনের গৌরবদীপ্ত পথচলার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এবং “দুর্যোগ দুর্বিপাকে, আওয়ামী লীগ সর্বদা গণমানুষের পাশে” এই স্লোগানে সারাদেশের ন্যায় খাগড়াছড়িতেও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৩তম((১৯৪৯ -২০২২)প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার(২৩জুন) সকাল থেকে এ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নানান আয়োজন করা হয়। কোরআন খানী মিলাদ দোয়া মাহফিল, দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পরপরে আনন্দ র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়। আনন্দ র‍্যালি জেলা কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে শাপলা ঘুরে টাউন হল প্রাঙ্গনে বঙ্গবন্ধু’র প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ অর্পনের মধ্যদিয়ে শেষ হয়। পরে জেলা আওয়ামীলীগ’র কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে কেক কাটার পরে আলোচন সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক মেঃ নুরুল আজম’র সঞ্চালনায় বক্তারা বলেন, আজ ঐতিহাসিক ২৩ জুন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ভাষা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে সব আন্দোলন-সংগ্রামে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া দেশের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলটি এবার পা রাখছে ৭৪ বছরে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মাটি ও মানুষের দল। অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক আদর্শের অধিকতর প্রতিফলনের নামই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। দলের নেতাকর্মীদের মেধা, পরিশ্রম, ত্যাগ ও দক্ষতায় আওয়ামী লীগ আরও গতিশীল হবে এবং বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। বাঙালি জাতির প্রতিটি মহৎ, শুভ ও কল্যাণকর অর্জনে আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে জাতির পিতার স্বপ্নের সুখী-সমৃদ্ধ, উন্নত ও আধুনিক সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করবে।জনগণই আওয়ামী লীগের মূল শক্তি। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ ভূখণ্ডে প্রতিটি প্রাপ্তি ও অর্জন সবই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই হয়েছে। মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষা থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত বাঙালির অর্জন এবং বাংলাদেশের সব উন্নয়নের মূলেই রয়েছে আওয়ামী লীগ।

বক্তারা আরও বলেন, দীর্ঘ এই পথচলায় অধিকাংশ সময় আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিয়েছেন বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার সুযোগ্য কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা।যার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণেই আওয়ামী লীগ সুদৃঢ় সাংগঠনিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েছে এবং জনমানুষের আবেগ ও অনুভূতির বিশ্বস্ত ঠিকানা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

এ সময় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মংসুইপ্রু চৌধুরী অপু, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রণ বিক্রম ত্রিপুরা, সহ-সভাপতি কংজরী চৌধুরী, সহ-সভাপতি কল্যাণ মিত্র বড়ুয়া, পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দু চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশুতোষ চাকমা, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ দিদারুল আলম দিদার, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পার্থ ত্রিপুরা জুয়েল, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য শতরুপা চাকমা, জেলা পরিষদ সদস্য শাহিনা আক্তার, জেলা পরিষদের সদস্য শুভ মঙ্গল চাকমা, জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও সদস্য খোকনেশ্বর ত্রিপুরা প্রমুখ।

প্রসঙ্গত:১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী রোজ গার্ডেনে ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে এই রাজনৈতিক দলটির যাত্রা শুরু হয়। পূর্ব পাকিস্তান’ শব্দ দুটি বাদ পড়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় থেকে। স্বাধীনতা ঘোষণা করার পর থেকে প্রবাসী সরকারের সব কাগজপত্রে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’ নাম ব্যবহার শুরু হয়।বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ শুধু এ দেশের প্রাচীন ও সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক সংগঠনই নয়, বাংলাদেশের রাজনীতির মূলধারাও। স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ও আওয়ামী লীগের ইতিহাস একসূত্রে গাঁথা।১৯৪৮ সালে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে সূচিত ভাষা আন্দোলন ১৯৫২ সালে গণজাগরণে পরিণত হয়।১৯৪৭ সালে সম্পূর্ণ পৃথক দুটি ভূখণ্ড, স্বতন্ত্র ভাষা ও সংস্কৃতির অঞ্চল নিয়ে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার মাত্র ৪ মাস ২০ দিনের মধ্যে তখনকার তরুণ যুবনেতা শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি গঠন করেন সরকারবিরোধী ছাত্র সংগঠন পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ।এরই ধারাবাহিকতায় পরের বছর ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার স্বামীবাগের কেএম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর উদ্যোগে আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে গঠন করা হয় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!