খাগড়াছড়ি, , সোমবার, ২৫ জুন ২০১৮

খাগড়াছড়িস্থ মাটিরাঙ্গায় কোয়েল পালনই ভাগ্য বদলে দিল-ছবুরের।

প্রকাশ: ২০১৬-১০-২৪ ১৫:৩৭:০৩ || আপডেট: ২০১৬-১০-২৪ ১৫:৪৩:৫৫

koyel-palon-24-10-2016কমল কৃষ্ণ দে,মাটিরাঙ্গা (খাগড়াছড়ি) সংবাদাদাতা : কোয়েল কম বেশি সকলের কাছে একটি পরিচিত পাখির নাম। যা জাপানে সর্ব প্রথম ব্যবসায়িকভাবে শুরু হয়ে বর্তমানে তা বাংলাদেশেও বিস্তৃতি লাভ করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় এমএম জাহাঙ্গীর আলম শখের বসে সামান্য কিছু কোয়েল পোষেছেন বিগত প্রায় বছর দু‘য়েক ধরে।

পরে কোয়েল পাখির বংশ বৃদ্ধির পরিমাণ বাড়তে থাকলে পাখিগুলো এলাকার ভাগিনা ছবুর হোসেন আকাশকে উপহার হিসেবে দিয়ে দেন তিনি। এলাকার মামার কাছ থেকে পাওয়া উপহারের কোয়েল পাখিগুলোর সাথে আরও নতুন কিছু কোয়েল পাখি কিনে ব্যবসায়িকভাবে কোয়েল পালনের উদ্যোগ নেন মাটিরাঙ্গা চৌধুরী পাড়ার ছবুর।

সরেজমিনে খামার পরিদর্শনে গেলে ছবুর জানায়,৫০টি পুং কোয়েল পাখি ও ১৫০টি স্ত্রী কোয়েল পাখি নিয়ে সে প্রথম তার খামারের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম কোয়েল পাখি পালন শুরু করেন। বর্তমানে তার খামারে কোয়েল পাখির সংখ্যা প্রায় সহস্্রাধিক। প্রতিদিন এই কোয়েল পাখিগুলো গড়ে প্রায় ৭ থেকে ৮ শতাধিক ডিম দেয়। যা খুচরা ৪ থেকে ৫ টাকা ধরে বিক্রি করে ছবুর। এতে কোয়েলের খাবারের টাকা বাদ দিয়ে প্রতিদিন ছবুরের আয় হয় প্রায় ২ হাজার টাকা।

নতুন করে কেউ যদি ব্যবসায়িক ভাবে কোয়েল পাখির খামার করতে চায় তাদের প্রতি ছবুরের পরামর্শ হচ্ছে-
কোয়েল একটি লাভজনক পোল্ট্রি উপাদান। কোয়েল পালন করার জন্য অতিরিক্ত কোন খরচ হয়না। বাড়ির যে কোন কোণে বা আঙিনায় অথবা বাড়ির ছাদ ইত্যাদি জায়গাতেও কোয়েল পাখি পালন করা যায়। একটি মুরগি পালনের জায়গাতে ১০টি কোয়েল পালন করা যায়। বিষেজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের আবহাওয়া কোয়েল পালনের জন্য উপযোগি। বর্তমানে দেশের পুষ্টির চাহিদা মিটিয়ে কোয়েলের মাংস বিদেশেও রপ্তানী হচ্ছে । এ সময় কোয়েল পালন কালে চিকিৎসাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে আমার মামা এমএম জাহাঙ্গীর আলমের কাছ থেকে পরামর্শ নেন বলেও জানান।

কোয়েল পালনের বিভিন্ন সুবিধা সমূহ : কোয়েল পালন করলে অসুবিধার চেয়ে সুবিধার পরিমাণ বেশি।
(১) ভাল জাতের কোয়েল বছরে ২৮০ থেকে ৩০০টি ডিম দিয়ে থাকে এবং এরা এক টানা ১৪ মাস ডিম পাড়তে পারে (২) অত্যন্ত কম পুজি নিয়ে কোয়েলের খামার তৈরি করা যায়।(৩) কোয়েলের আকার ক্ষুদ্র বলে এদের লালন পালনের জন্য বিস্তৃত জায়গার প্রয়োজন হয়না। পুর্ণ বয়স্ক মুরগির জায়গাতেই কমপক্ষে ১০টি কোয়েল পালন করা যায়।(৪) রোগ ব্যাধির দিকে থেকে কোয়েল খুবই লাভজনক বিনিয়োগ। কারণ, কোয়েলের রোগ ব্যাধি প্রায় হয না বললেই চলে । (৫) সাধারণত ৬ থেকে ৭ সপ্তাহ বয়সে সেই একটি কোয়েল ডিম দেয়া শুরু করে। এদের ডিম খুব সুস্বাদু ও পুষ্টিকর।

এ ছাড়াও ১০০ টি পাখি পালনের খরচ-১টি ১৫-২০ দিনের বাচ্চার দাম ৩০-৩৫ টাকা (বড় বাচ্চার মৃত্যুর হার কম)। একটি খাচায় ২৪ ফুট নেট দরকার ।৩ফুট উচ্চতার নেটের দাম ১০০-১২০ টাকা পার ফুট । খাবারের দাম পার কেজি ৪২-৪৫ টাকা । মাসিক খাবার লাগে ৫৫-৬০ কেজি । খাচার চালার জন্যে চাটাই ব্যাবহার করা যায় এবং উপরে পালিথিন দিলেই চলবে । সর্তকতা : খাঁচাতে যেন ইদুর, ছুচো না ঢুকতে পারে-সেদিকে লক্ষ্য রেখে ছোট ফাঁকের নেট ব্যাবহার করতে হবে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

পূর্বের সংবাদ

June 2018
M T W T F S S
« May    
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
252627282930  

এই সপ্তাহের আলোকিত পাহাড় প্রথম পাতা

এই সপ্তাহের আলোকিত পাহাড় শেষ পাতা

বিজ্ঞাপন

error: Content is protected !!