খাগড়াছড়ি, , সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০

খাগড়াছড়িতে ‘‘হামরনাই বন্থা’’র উদ্যোগে একাদশ শ্রেণী শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ

প্রকাশ: ২০২০-১০-১৮ ১০:২০:২৮ || আপডেট: ২০২০-১০-১৮ ১০:২০:৩০

দহেন বিকাশ ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি: খাগড়াছড়ি জেলা সদরে ‘‘হামরনাই বন্থা’’ একটি সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে ২০২০সালে এসএসসি কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর ২০২০খ্রি) সকাল ১০টায় চম্পাঘাট শিশু সদন হলরুমে সংগঠনের সভাপতি দিগন্ত প্রসাদ ত্রিপুরার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য খোকনেশ্বর ত্রিপুরা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ‘‘বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদ’’ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক অনন্ত কুমার ত্রিপুরা। এছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি খোকনেশ্বর ত্রিপুরা বলেন, জাতির উন্নয়নে শিক্ষা কোন বিকল্প নেই। জাতির উন্নয়নের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমাদেরকে অংশ নিতে হবে। তিনি কৃতি শিক্ষার্থীদের বেশি করে পড়ালেখার প্রতি বেশি মনোযোগী হতে বলেন। এসময় তিনি নিজের ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে ১৮জনকে বই কিনে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক দিগন্ত ত্রিপুরার সঞ্চালনায় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক জগন্ময় ত্রিপুরা। স্বাগত বক্তব্যে তিনি সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, “হামরনাই বন্থা”- স্বপ্ন দেখা একঝাঁক তরুণের একটি সামাজিক সংগঠনের নাম, একটি ভালোবাসার নাম। সুরুমুং(শিক্ষা) বাকসা(একতা) ফ্রাণ(বল/প্রগতি) এই তিনটি মূলনীতিকে নিয়ে আমাদের পথচলা। চেংগী য়াখ্রই (ব্রীজ) থেকে শুরু করে সুদূর মাতাই পুখ্রী এলাকার ধনীরাম পাড়া পর্যন্ত আমাদের কাজের পরিধি। বৃহত্তর এই বরক অধ্যুষিত অঞ্চলে শিক্ষার মাঝে ঐক্যের সুর তুলে উন্নয়নের পথে পথ চলেছি, চলছি, চলবো নতুনদেরই সাথে নিয়ে। কথন আছে,- ঐ নতুনের কেতন উড়ে। নতুনরাইতো কেতন উড়াবে। তাই নতুনদের মাঝে শিক্ষার ব্যাপকতা, গ্রহণযোগ্যতা প্রসারের লক্ষ্যে আমরা প্রতি বছর এসএসসি কৃতি শিক্ষার্থীদের নিয়ে অভিজ্ঞতার বিনিময় করি, জ্ঞানের বিকিকিনি করি। বিগত এই কয়েক বছরে আমরা এর সুফল পেয়েছি অনেক। আমাদের সফলতার গ্রাফচিত্র ঊর্ধ্বগতি। কেননা, আমরা আমাদের স্বপ্নের বীজ তরুণদের মাঝে প্রোথিত করতে পেরেছি। এরা এখন “হামরনাই বন্থা’কে, “হামরনাই বন্থা লাইব্রেরী’কে সমাজ পরিবর্তনের সূতিকাগার ভাবে। আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় স্থাপিত “হামরনাই বন্থা লাইব্রেরী’তে এখন জ্ঞানের চর্চা হয়। অদূর ভবিষ্যতে এই চর্চিত জ্ঞান সমাজ পরিবর্তনে এক একটি হমচাং (মশাল) হবে বলে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস।

বৃহত্তর এই বরক অধ্যুষিত অঞ্চলে আগামী দুই দশকে প্রতিটি বরক পরিবারে একজন করে হলেও মাস্টার্স/এমএ ডিগ্রীধারী লোকবল তৈরিতে আমাদের কাজের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা আছে। সেই লক্ষ্যে সকল শুভাকাঙ্ক্ষী, পরামর্শদাতাদের অনুপ্রাণে অনুপ্রাণিত হয়ে হাতে নেওয়া কাজ, চলমান কাজগুলো এক এক করে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। লক্ষ্য বহুদূর, তারপরেও স্বপ্ন দেখা। স্বপ্নগুলোকে চিন্তা করার ডোজ হিসেবে মাথার মস্তিষ্কে নেওয়া বহুজনের সংখ্যা দিনের সাথেই ক্রমবর্ধমান।

এ বছর চেঙ্গী ব্রীজ এলাকা হতে মাতাই পুখিরী পাড়া পর্যন্ত ত্রিপুরা (বরক) জাতি থেকে মোট ৬৩জন এসএসসি পাশ করেছে। তার মধে্য জিপিএ-৫ পেয়েছে একজন। আর সংগঠনের নিকট বই পাওয়ার জন্য আবেদনখানা জমা পড়েছে ২৮টি। তার মধ্যে সংগঠন গরীব ও অসহায় ও মেধা দিক বিবেচনা করে ১৭জনকে সংগঠনের পক্ষ থেকে বই বিতরণ করা হবে বরে জানান।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.